ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিএডিসি’র সার গুদাম প্রকল্পে হরিলুট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 21, 2026 ইং
বিএডিসি’র সার গুদাম প্রকল্পে হরিলুট ছবির ক্যাপশন: আওয়ামী দোসর পিডি মুজিবুর ধরাছোয়ার বাইরে
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বা বিএডিসি’র চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের প্রতক্ষ মদদে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর আস্থাভাজন ও আ’লীগের সুবিধাভোগী  মুজিবুর রহমান। পিডির আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবওে পড়েছে প্রকল্পের সকল ধরণের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ কাজ না করে, কিংবা অতি নিম্নমাণের ও মানহীন কাজ করে সমূদয় টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিজেদের আখের গুছিয়ে লাগামহীন অনিয়ম দুনীতির মাধ্যমে বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের যোগসাজশে পিডি মুজিবরের নেতৃত্বে হয়েছে নীরব হরিলুট। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি প্রকল্পের সাফল্য দেখিয়ে গুনগান করে কিছু অখ্যাত পত্রিকাতে প্রচারণা করে নিজেকে জাহির করে প্রকল্পের সফলতা অর্জনের দাবি করে চলেছেন ঘুষখোর পিডি মুজিবুর। বিদ্যমান সার গুদাম সমুহের রক্ষণাবেক্ষণ পুর্নবাসন ও নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করন (২য় পর্যায়ের) কার্যক্রম পিডির বেপরোয়া লুটপাটের কারণে প্রকল্পের কর্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক ও র্কষি সেক্টরের উন্নয়ন না হলেও পিডি মুজিবর রহমানের ব্যাপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে।
উক্ত প্রকল্পেটি শুরু হয়েছিল জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৬ সালে শেষে হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের পিডি মুজিবরের অদক্ষতা কারণে পুরোপুরি ১০০% শেষ হয়নি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান। প্রকল্পে প্রায় ৩৫০.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সিংহভাগ টাকা পিডি বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা নি¤œমাণের কাজ করানো ও ভূয়া বিল-বাউচারের মাধ্যমে গিলে খেয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় গুদামঘর নির্মাণে অতি নিম্নমাণের কাজ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্য দিকে গুদামঘর সংস্কার/ মেরামত কাজ না করে তাঁর মনোনীত ঠিকাদারের সাথে আতাত করে বরাদ্ধের বিপরীতে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। যা সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের কালো বেড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তারা। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো অনেক স্থানে গুদামঘর নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। শুধুমাত্র পিডির বেপরোয়া আর্থিক দুনীতির কারণে প্রকল্পটির কর্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা জায়, বিএডিসির সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পে পিডির নেতৃত্বে চলেছে হরিলুট। পিডি মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বেপরোয়া অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে সেই দুনীতির বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দরপত্র কারচুপির আশ্রয়ে প্রকল্পের কাজ এখনো পর্যন্ত শতভাগ শেষ না হওয়াতে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে করপোরেশনের সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে নানা ধরণের গুঞ্জন চাউড় হয়ে উঠেছে।
বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তা ঠিকাদার  দের মাঝে প্রকাশ আছে মুজিবুর রহমানের নাম, তিনি ‘মিস্টার ১০%’ আবার কোথাও মিষ্টার ১৫%-২০% নামে সু বিশাল পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত ঠিকাদার সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন প্রকল্পের সকল কার্যক্রম বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সংবাদ কে জানান একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসান সরকারের সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের প্রভাব খাটিয়ে মো. মজিবর রহমান খান এই লাভজনক প্রকল্পের পরিচালকের পদটি বাগিয়ে নেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই তিনি একটি বিশাল ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের গোপন দর (Rate) সরবরাহ করে একচেটিয়াভাবে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। বিনিময়ে প্রতিটি ওয়ার্ক অর্ডার এর বিপরীতে অগ্রিম ১০%, ২০%  হারে কমিশন নিতেন, যার কারণে বিএডিসির সাধারণ ঠিকাদারদের নিকট তিনি ‘মিস্টার ১০%’ নামে পরিচিতি পান। সাড়ে ৩শ’ কোটির প্রকল্পে নামমাত্র কাজ: সার ব্যবস্থাপনা জোরদার ও কৃষকের দোরগোড়ায় সার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ৩৫০.৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা কাজ না করেই বা অতি নিম্নমানের সংস্কার কাজের মাধ্যমে পিডির পকেটে গেছে। এভাবে অগ্রীম কমিশন নিয়ে কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সিন্ডিকেট তৈরী করে নতুন সার গুদাম নির্মাণ ও পুরনোগুলো সংস্কার কাজগুলো কথিত টেন্ডারের নামে পছন্দেও ঠিকাদারকে পাইয়ে দিযেছেন পিডি মুজিবুর রহমান। এ রকম কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মেসার্স মাইসা ট্রেডার্স, মেসার্স আনিসা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মোস্তফা কামাল, মেসার্স আজাদ এন্ড ব্রাদার্সসহ আরো দুই/একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে লুটেরা সিন্ডিকেট তৈরীর অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে মাইসা ও আনিসার সাথে পিডি মুজিবুরের বেনামী ব্যবসা ছিলো বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় ভূক্তভোগী ঠিকাদার জানিয়েছেন। ২০২৩সালের মার্চে তিনি প্রকল্পের দায়িত্বে এসে বর্তমান অবধি দায়িত্বে থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। বিশেষ করে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অনেক গুদামের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু ফান্ড ফেরৎ না দিয়ে এ্যাডভান্স বিল দিয়ে ৫% থেকে ১০% নগদ ঘুষ নিয়েছেন এই কৃষি প্রকৌশলী। এ নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থাকছে পরবর্তীতে। 
জেলায় জেলায় অনিয়মের চিত্র: দেশের মোট ২১টি অঞ্চলে বিভক্ত করে এই প্রকল্পের আওতায় নতুন গুদামঘর নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি জেলাতেই নিম্নমাণের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। রংপুরের আলম নগরে নতুন গুদাম নির্মাণ প্রকল্পটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) তোয়াক্কা না করেই সম্পন্ন করা হয়েছে অতি নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে। দিনাজপুর: বিরামপুর উপজেলায় ৭,২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার গুদাম ও অফিস ভবন নির্মাণে চরম অনিয়ম ও অতি নিম্নমাণের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সার গুদামটি দরপত্রের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়নি, যা এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
চুয়াডাঙ্গা: আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন গুদাম নির্মাণেও একইভাবে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলাগুলোতেও নতুন গুদাম নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে পিডির মনোনীত ঠিকাদারদের মাধ্যমে লুটপাটের মহোৎসব চালানো হয়েছে যা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। 
জানা গেছে, সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ছোট ছেলের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে পিডি মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা কোনো অভিযোগই আলোর মুখ দেখেনি। বিএডিসি কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা ও অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি বহালতবিয়তে দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই কর্মকর্তা রাতারাতি ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপিপন্থী দাবি করে বিএডিসিতে নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা আপ্রাণ করছেন।
বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তাদের দাবি, সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় হওয়া কাজগুলো যদি সরেজমিনে উচ্চতর তদন্ত কমিটি দ্বারা অডিট করা হয়, তবে পিডি মজিবর রহমানের থলের কালো বেড়াল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের প্রমাণাদি বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করেন সাধারণ কর্মকর্তারা। উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে পিডি মুজিবরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। (ক্রমশ:)




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
রাজধানীর আগামাসি লেনে জুতার কারখানায় আগুন

রাজধানীর আগামাসি লেনে জুতার কারখানায় আগুন