ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিষ্ট ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুলের অবৈধ সম্পদের পাহাড়!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 12, 2026 ইং
ফ্যাসিষ্ট ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুলের অবৈধ সম্পদের পাহাড়! ছবির ক্যাপশন:
ad728
বিশেষ প্রতিবেদক:
 কারা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আ’লীগের আমলে লোভনীয়  স্থানগুলোতে পোষ্টিং, আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন, নারী কেলেঙ্কারী এবং নৈতিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতোপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিলকৃত লিখিত অভিযোােগ শত শত একর জমি, বিলাসবহুল ভবন এবং বেনামি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
গ্রামের বাড়িতে ৪ কোটির ট্রিপ্লেক্স, শহরে ১০তলা ভবন
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার কলাপাড়া গ্রামে তৌহিদুল ইসলাম নির্মাণ করেছেন প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ট্রিপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় তার একটি ১০তলা বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন রয়েছে। সেখানে তার বোনজামাতা (একজন সেনা কর্মকর্তা) বসবাস করেন। কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে বোনের বাড়ির পাশে আরও একটি চারতলা ভবন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদরে তার নামে নিজস্ব বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে।
তৌহিদুল ইসলামের সম্পদের একটি বড় অংশ ছড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অষ্টগ্রামের বড়হাওর মৌজায় ৭০০ একর এবং ইটনা থানার কাটাখাল মৌজায় ৬০০ একর অর্থ্যাৎ মোট ১৩০০ একর জমির মালিকানা রয়েছে তার বা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া নিজ গ্রামে আড়াইশ’ গরুর একটি বিশাল ডেইরি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। বাজিতপুর ও কুলিয়ারচর এলাকায় তার বিলাসবহুল বাগানবাড়ির অস্তিত্বের কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।
তদন্ত এড়াতে ডিআইজি তৌহিদুল তার নিকটাত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: খুলনায় শ্বশুরের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল একটি মাছের ঘের। নোয়াখালীতে ব্যাংকার বোনের মাধ্যমে পরিচালিত ২ একরের সুপারি বাগান।
আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ মতে, ২০২০ সালে স্নেহা আক্তার (ছদ্মনাম) নামে এক কিশোরীকে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের ফলে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক (আইজিপি প্রিজন)-এর কাছে অভিযোগ করা হলেও, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ভুক্তভোগীকে চাপের মুখে রেখে নামমাত্র সমঝোতা করা হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই কন্যাসন্তান ও তার মা মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগটি আমাদের হস্তগত হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করবে।”
এ বিষয়ে ফোনে অভিযুক্ত ডিআইজি তৌহিদুল ইসলামের সাথে কয়েকদফা যোযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।  (ক্রমশঃ)



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা