ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সংস্কৃতিতে স্বৈরাচারের বিষবাস্প ছড়াচ্ছে শিল্পকলার ডিডি শামীম!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2026 ইং
সংস্কৃতিতে স্বৈরাচারের বিষবাস্প ছড়াচ্ছে শিল্পকলার ডিডি শামীম! ছবির ক্যাপশন: পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিচয়ে লবিং॥ শিল্পকলার উপ-পরিচালক শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি জালিয়াতির অভিযোগ
ad728
আসাদ মাহমুদ ও আলমগীর হোসেন:  
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আওয়ামী বিষবাস্প ছড়াচ্ছেন শিল্পকলার একজন উপপরিচালক (ডিডি)। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম এস এম শামীম আকতার। তিনি বর্তমানে শিল্পকলার মুদ্রন ও প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বেপরোয়া কর্মকান্ড, কথিত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির নামে আওয়ামী কর্মকান্ডে উসকে দেওয়া, ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট, শিল্পকলার স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকা, দাপ্তরিক জালিয়াতি আর চরম নৈতিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
পতিত আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক আস্কারায় দীর্ঘদিন অধরা থাকা এই দুর্নীতির খলনায়কের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর নথি প্রকাশ্যে এলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়নি। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর এবার খোলস পাল্টে, ভুয়া পরিচয় জাহির করে নিজের পিঠ বাঁচিয়ে আখের গুছানোর কাজে মরিয়া হয়ে নির্লজ্জ ধান্ধাবাজির দৃষ্টিকটু খেলায় মেতেছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী ক্ষুদ্র নৃৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে শামীম আকতারের দুর্নীতি ও লুটপাটের সা¤্রাজ্য সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের পদ লেহন করে সাংস্কুতিক অঙ্গনের কথিত সুন্দরীদের উপহাড় স্বরূপ পাঠিয়ে বিশেষ সুবিধা বাগিয়ে নিয়ে তিনি পাঁচবার বিদেশ যাত্রার নামে প্রমোদ ভ্রমন করেন। এমনকি আইন-কানুন বিধিবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উপপরিচালকের ‘চলতি দায়িত্ব’ আঁকড়ে থাকেন।
 অভিনেত্রী শাওনের সাথে ডিডি শামীম

২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভূয়া বিল-ভাউচার সহ বিবিধ প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাটের অকাট্য প্রমাণ মেলে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা হরিলুট, বিভিন্ন প্রকল্পের ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেনামী চেকে তুলে পকেটস্থ করা এবং ‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্প থেকে সরাসরি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা গায়েব করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নথিপত্র এখন প্রকাশ্যে।
স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার নজির স্থাপন করেছেন এই কর্মকর্তা। ক্ষুদ্র নৃৃগোষ্ঠী একাডেমিকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সংস্থায় পরিণত করেছিলেন। নিজের অবৈধ খায়েস পুরণ করেছেন শিল্পীদেরকে বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে। তিনি মহিলা ও শিশু শিল্পীদেরকে বলে থাকেন, শিল্পী হতে হলে এগুলো মেনে চলতেই হবে। এটাও শিল্পকলা তথা সংস্কৃতির একটি অংশ। এভাবে দরিদ্র শিল্পীদের পাওনা সম্মানী বকেয়া রাখা, গবেষণার তহবিল আত্মসাৎ, এমনকি গায়ের জোরে অন্যের লেখা গবেষণামূলক বইয়ের মূল মধোসত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার মতো জঘণ্য অপরাধও প্রমাণিত হয়েছে তার  বিরুদ্ধে। তাঁর এই লাগাতার অপকর্মের বিরুদ্ধে তৎকালীন সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু।
একজন সহকারী পরিচালকের সীমিত বেতন-ভাতার আড়ালে শামীম আকতারের নামে-বেনামে অবৈধ সহায়-সম্পদের পাহাড় চোখ কপালে তোলার মতো। রাজধানীতে তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি মহার্ঘ প্লট, কোটি টাকার বেশি এফডিআর এবং আভিজাত্যপূর্ণ ব্যক্তিগত গাড়ির এই অঢেল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের মতো বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথিত নায়িকা মডেল সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে চরম সখ্য কাজে লাগিয়ে বারবার পার পেয়ে যান মর্মে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তার বেপরোয়া নারীবাজি ও পরকীয়া সংক্রান্ত সম্পর্কের কারণে নিজ স্ত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান এবং জোরপূর্বক তাঁকে তালাক দিতে বাধ্য করেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ধূলিসাৎ করা ছিল তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকায় সচিবালয় থেকে বারবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও অবৈধ ক্ষমতা ও প্রভাবের কারণে তিনি কখনই তা তোয়াক্কা করেননি। একজন কর্মকর্তা উপপরিচালকের চলতি দায়িত্বে থেকেও সহকারী পরিচালকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার মতো নজিরবিহীন প্রশাসনিক জালিয়াতি চালিয়ে গেছেন বছরের পর বছর।
বিশেষ ঢংয়ে এবং জলকেলিতে ডিডি শামীম

২০১৭ সালে দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণের মুখে রাজশাহী থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হলেও তৎকালীন রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী কে এম খালিদের প্রত্যক্ষ মদদে বেঁচে যান তিনি। শাস্তি পাওয়া দুরে থাক, উল্টো গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নতুন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন। আওয়ামী রাজনীতিকে ঢাল বানিয়ে সুবিধা ভোগের চরম নিদর্শন রেখেছেন এই শামীম। ২০২১ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকীর প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক হয়ে বিজয়ীদের ৭০ শতাংশই বানাতেন নিজ আত্মীয় ও অনৈতিক সুবিধাভোগীদের। তাছাড়াও, এক নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও জঘণ্য হুমকির ১২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ফোনালাপ ফাঁস হয়ে তাঁর চরম নৈতিক স্খলনের চেহারা উন্মোচিত হয়েছিল।
সরকার পতনের পর এই সুবিধাবাদী কর্মকর্তা এবার নতুন রাজনৈতিক খোলস ধরেছেন। বিগত সরকারের সব সুবিধা চেটেপুটে খাওয়া শামীম এখন নিজেকে বিএনপি সমর্থক দাবি করে জোর লবিং চালাচ্ছেন বিভিন্ন মহলে বিবিধ কৌশলে। নিজের আসল বাড়ি সিরাজগঞ্জ হলেও বগুড়ার ভূয়া পরিচয় ঝুলিয়ে এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লোটার পাঁয়তারা করছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইলৈ ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। ফলে তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ) 



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লাগাম টানা হচ্ছে হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়মে

লাগাম টানা হচ্ছে হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়মে