ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লুটপাটের দুর্যোগে বিধস্ত দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং
লুটপাটের দুর্যোগে বিধস্ত দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর ছবির ক্যাপশন: ডিজি রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক;
লাগাতার অনিয়ম ক্রমাগত দুর্নীতি আর লাগামহীন লুটপাটের কারণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) এর প্রশাসনিক কার্যক্রম। অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিয়োগ বদলি টেন্ডার নিয়ে সিন্ডিকেট বাণিজ্য এবং উপসহকারী প্রকৌশলীর পদে নিয়োগে বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ বহুবিধ অনিয়ম দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 
এক অভিযোগে জানা যায়, উচ্চ আদালতের আদেশ দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে ২২৮ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) পদে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে তার দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন মো: জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি। এর পূর্বে লীগ সরকারের আমলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর ডিজি ও বি-বাড়িয়ার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুবাদে চাকরির প্রতিটি পদে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নামে-বেনামে দেশ-বিদেশে সহায়-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি।  
দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান উচ্চ আদালতের আদেশ দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে ২২৮ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ আদালত উপসহকারী প্রকৌশলীর সমমানের পদে নিয়োগ দিতে আদেশ দিয়েছিল।
আবার সরাসরি রাজস্ব খাতে উপসহকারী প্রকৌশলীর পদে ৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ডিজি রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে অগ্নিকান্ডের ব্যাপারে নিরীহ লোকদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এই মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা অধিদফতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিকান্ডে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা হলেও মহাপরিচালক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ৫০০ কোটি টাকা বলে মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এছাড়া এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন ডিজি রেজওয়ানুর রহমান। পাশাপাশি লীগপন্থি পিআইও ডিআরওদের ঘুরেফিওে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়ে আ’লেিগর পূণঃ বাসনে নিরবে কাজ কওে যাচ্ছেন এই প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এরমক অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে নিয়োগ বঞ্চিত প্রতারিত শোষিত অসংখ্য কর্মকর্তা।
অভিযোগে বলা হয়, মহাপরিচালক আওয়ামী সরকারের সময় ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জেলা প্রশাসক ছিলেন। আওয়ামী সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় রেজওয়ানুর রহমান ২০২৪ সালের ২০ জুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। যোগদানের পর থেকে আ’লীগ ঘরানার ও দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসন করে যাচ্ছেন তিনি। আর তার বিশ্বস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি লুটেরা আওয়ামী সিন্ডিকেট। এর মধ্যে আ’লীগের এমপি-মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয়দানকারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও তাকে অদ্যাবধি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে নিজের ক্ষমতা বলে রেখে দিয়ে লুটেরা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তাকে দিয়ে েেপাষ্টিং পদোন্নতি টেন্ডার কেনাকাটা ও প্রশাসনিক সকল কাজে ডিজির হয়ে অনৈতিক লেনদেন করার অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ঢন কর্মকর্তাদের মধ্যে চাউর হযে উঠেছে। এভাবে মহাপরিচালক তার সিন্ডিকেটের কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার বাইরে পদায়ন করা হলেও নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধিদফতরেই রেখে দেন নিজস্ব অনৈতিক লাভের কারণে।
এছাড়াও ডিপার্টমেন্টের বড় বড় কাজের টেন্ডার ও ত্রান সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকান্ডে আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে ব্যবসা করানো প্রভাব বিস্তারসহ ডিজি রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে কারণে অকারণে দেশ-বিদেশে প্রমোদ ভ্রমনসহ বিবিধ অসামাজিক ককৃকান্ডোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে ডিজি রেজওয়ানুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অপর একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ২২৮ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। কারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর কোনো কর্মকর্তা নিয়োগের এখতিয়ার অধিদফতরের হাতে নেই। এটি সরাসরি পিএসসি অথবা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে থাকে, যা অধিদফতর বাস্তবায়ন করে। এখানে ডিজির কোনো হাত নেই বলে তিনি জানান। (ক্রমশঃ)



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক