ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পদোন্নতিতে দক্ষতা-সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 23, 2026 ইং
পদোন্নতিতে দক্ষতা-সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগ্রহীত
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:

সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও দায়িত্ব পালনে উপযুক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এই পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যেন পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে নির্বাচনি পর্ষদের সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচনি পর্ষদের কার্যক্রম শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। পরে তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমান বাহিনীর এই ত্যাগ ও অবদানের জন্য বাহিনী দুটির প্রধান থেকে শুরু করে সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহতদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধন শেষে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও গবেষণামূলক স্থাপনা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন বা এডিএসআইয়ের উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে নবনির্মিত এডিএসআইয়ের বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এরপর বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার বা এসিওসি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমানকে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম দেখানো হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ইউএভির লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টারে সেনা অবতরণের কার্যক্রমও অবলোকন করেন তিনি।

পরে বিমান বাহিনীর অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স বা এআরডিসি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইউএভি প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভি-টল। এ সময় একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়নব্যবস্থা তৈরি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে ২৬ জুলাই সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনেও একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদমর্যাদার যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রতিফলন ঘটানো যাবে না। কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও নিযুক্তিগত উপযুক্ততাকে পদোন্নতির মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বীর সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে আহত ও শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর ত্যাগের জন্য সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সেনাসদরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
রাজধানীর কদমতলীতে ফোমের মিলে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

রাজধানীর কদমতলীতে ফোমের মিলে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট