ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মামুনুর রশিদের কবলে পিডিবিএফ!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 27, 2026 ইং
মামুনুর রশিদের কবলে পিডিবিএফ! ছবির ক্যাপশন: চাকরির বয়সসীমা লঙ্ঘন ও নিয়োগ-পদোন্নতিতে অনিয়ম: পিডিবিএফ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
পল্লী দারিদ্র বিমোজন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) এর সাধারণ সেবা শাখার যুগ্ম পরিচালক মামুনুর রশিদ ও একই প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা উপপরিচালক (ডিডি) ফজিলাতুন নেসার বিরুদ্ধে চাকরিতে জালিয়াতি পদোন্নতিতে অনিয়ম অর্থ আত্মসাত অসামাজিক কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মামুনুর রশিদের চাকরিতে প্রবেশ থেকে শুরু করে পদোন্নতি, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি, অভিযোগ ও প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের তথ্য প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। চাকরিতে আবেদনের সময় তার বয়স ছিল ৩১ বছর ২৪ দিন। অথচ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ১৮-৩০ বছর হলেও তিনি কিভাবে চাকরিতে যোগদান করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভূক্তভোগী সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। তার আবেদনপত্রে অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হলেও, এই মর্মে কোন অভিজ্ঞতার সনদ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ছাড়পত্র সংযুক্ত নেই। 
তিনি পিরোজপুর অঞ্চলে ঊর্দ্ধতন সহকারী পরিচালক মনিটরিং পদে কর্মরত থাকাকালে বাগেরহাট সদর কার্যালয়ে তার সরাসরি যোগসাজশে ৪ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাত হয়। যা সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এতো বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের পরেও কেন মামুনুর রশিদকে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে লোকদেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকারন্তে দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট সদর কার্যালয়ের ওই লুটপাটের কারণে পাঁচজন সহকর্মী চাকরিচ্যুত হলেও মামুনুর রশিদ রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে। বরোঞ্চ তিনি প্রভাবের সাথে চাকরিতে বহালতবিয়তে থেকে সিরিজ পদোন্নতি নিয়ে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছেন। আওয়ামী দোসর মামুনুর রশিদ ক্ষমতার দাপটে নিজ জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলায় চাকুরীর সুবাদে সরকারি অর্থ তসরুপের সুযোগ পেয়েছেন। বাগেরহাট সদর কার্যালয়ে আত্মসাতের ঘটনায় তিনি নিজেই অভিযুক্ত আবার নিজেই তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এই ঘটনাকে তদন্তের নামে প্রহসন বলে আখ্যায়িত করেছেন ভূক্তভোগী সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
অপরদিকে মামুনুর রশিদের বার্ষিক কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে ঘষামজা এবং টেম্পারিং করে নাম্বার বাড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট। তৎকালীন আওয়ামী প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এবং আ’লীগপন্থী সিবিএ নেতা তাপস নজরুলের যোগসাজশে নিজের পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। যাতে মামুনুর রশিদদের পদোন্নতি বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে পিডিবিএফ এর তৎকালীন অতিরিক্ত পরিচালক (মানব সম্পদ উন্নয়ন) জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ পান্নু পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করেছেন। 
দুর্নীতিবাজ জালিয়াত মামুনুর রশিদ সাবেক মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে "পিডিবিএফ এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায" এর উপপ্রকল্প পরিচালক ডিপিডি) পদটি বাগিয়ে নিয়ে এই প্রকল্পে ভূয়া বিল-ভাউচারসহ বিবিধ প্রক্রিয়ায়  বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছেন।
শুধু তাই নয়, তিনি পিডিবিএফ কর্মকর্তা কর্মচারী পদোন্নতি ও নিয়োগ কমিটির সদস্য না হয়েও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কমিটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদোন্নতি দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মামুনুর রশিদ সাবেক স্থানীয সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া এবং পিডিবিএফ এর সাবেক এমডি জনাব মাহমুদ হাসানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিভিন্ন পদে ১৬৬৫ জনকে নিয়োগ দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি অত্যন্ত কুট-কৌশলে ২২০০ জনের বিশাল অপেক্ষমান তালিকা তৈরি করে মাঠ পর্যায়ে তার বিশ্বস্থ এজেন্ট এর মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেন্ট কপিসহ নিয়োগ প্রার্থীদের সাথে দর কষাকষির মাধ্যমে অর্ধ শতাধিক কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। যার সত্যতা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবার ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এই ২২ কোটির বেশীরভাগ টাকাই মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ভাগ-বাটোয়ারা করার খবর পাওয়া গেছে। 
অপরদিকে পিডিবিআফে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসন শাখার উপপরিচালক ডিডি ফজিলাতুন্নেসার যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর অবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিল করে তার নিকট থেকে প্রদত্ত বেতনভাতার সকল টাকা আদায় করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হোক এবং উক্ত নিয়োগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তাছাড়া সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২২ জুন ২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত ২৯তম বৈঠকে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়ে একমত পোষণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং গৃহীত পদক্ষেপ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিকে জানাতে বলা হলেও জনাব মামুনুর রশিদ তা গোপণ করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ফজিলাতুন্নেছাকে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রদান করেছেন। এ কারণে মামুনুর রশিদ ও ফজিলাতুন্নেছাকে নিয়ে কানাঘুষা চলছে গোটা পিডিবিএফ-এ।
এরপরেও কোন অদৃশ্য শক্তির বলে মামুনুর রশিদ ও ফজিলাতুন্নেছা চাকরিতে বহাল তবিযতে রযেছেন-এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। পিডিবিএফ এর মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মামুনুর রশিদ ও ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দৃস্টি আকর্ষণ করছেন। না হলে শোষিত বাঞ্চিতদের হাতে তাদেরকে লাঞ্ছিত এমনকি রক্তাক্তও হতে পারে বলে হুশিয়ারী ব্যক্ত করেছেন তারা। (ক্রমশঃ)  



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঈদ শুভেচ্ছ

তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঈদ শুভেচ্ছ