নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী বছরের হজযাত্রায় বিমান ভাড়া কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে দাবি করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তার মতে, এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে হজের সার্বিক খরচও অনেক কমে আসবে।
শনিবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটের কথা বলে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। তার অভিযোগ, একচেটিয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ হজযাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বাস্তবে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় না। কিন্তু ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটের কথা বলে অতিরিক্ত বিমানভাড়া নেওয়া হচ্ছে। হাব সভাপতি আরও বলেন, টিকিটের দাম কমানো গেলে হজযাত্রীদের কোটা পূরণ করা সম্ভব হতো। তার ভাষ্য, “টিকিটের দাম যদি আমরা ১ লাখ টাকার মধ্যে আনতে পারতাম, তাহলে আমাদের ১ লাখ ২৯ হাজার হাজি যেতে পারত।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে তারা আশা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ গোলাম সরওয়ার আরও বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হজের সামগ্রিক খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
এ সময় ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, এবার স্বল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি এবং তাবু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে হাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা এবং আশকোনা হজ ক্যাম্পের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।