প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং
লুটেরা সিন্ডিকেটের কবলে গণপূর্ত ই/এম ১১!

আসাদ মাহমুদ ও আলমগীর হোসেন:
সিন্ডিকেটভূক্ত ঠিকাদাররাই পাচ্ছে গণপূর্ত ই/এম ১১ বিভাগের যাবতীয় মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজ। বঙ্গভবনে কাজ পেতে হলে সেখানকার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) আনোয়ারুল ইসলাম মজুমদারের পছন্দের লোক হতে হয়। তিনি যাকে রেফার করেন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী তাকেই কাজ পাইয়ে দেন। এ রকম ভূড়ি ভূড়ি অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ আছে বঙ্গভবন ই/এম সাবডিভিশনের এসডিইর বিরুদ্ধে। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসডিই আনোয়ারুল ইসলাম মজুমদার প্রায় ৪ বছর যাবৎ আছেন বঙ্গ ভবনে। এখানে এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা এসডিই’র সিন্ডিকেটভূক্ত সদস্য ছাড়া অন্য কোন ঠিকাদার কাজ চাইলে তাকে এসএসএফ এর কঠোর মনোভাব এবং কাজে কোন ছাড় নেই ইত্যাদি ভুল বুঝিয়ে কাজ থেকে বিরত রাখা হয়। অথচ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে এসডিই’র পছন্দের লোকেরা কাজ করলে কোন সমস্যা নেই। এমনকি এ্যাডভান্স কাজের কথা বলে বিভিন্ন সুপারিশে যাওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে পরে কোন ইস্টিমেট না দিয়ে বছরের পর বছর ঘোরানোর অভিযোগ করেছেন ‘আ’ অদ্যক্ষরের এক ঠিকাদার। মেসার্স সালাম এন্ড ব্রাদার্স, মেসার্স স্বপন এন্টারপ্রাইজসহ তাদের নিয়ন্ত্রণে আরো ২/৩টি প্রতিষ্ঠান ঘুরেফিরে বঙ্গভবনের প্রায় ৮০% মেরামত রক্ষণাব্ক্ষেণ কাজ বাস্তবায়ন করছে বছরের পর বছর। এভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসার কন্ট্রাক্ট নিয়ে এসডিই আনোয়ারুল ইসলাম মজুমদার বিগত তিন অর্থবছরে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা লোপাট করেছেন। নওয়াবপুর ইলেকট্রিক মার্কেট ও বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে তিনি নিজেই বৈদ্যুতিক মালামাল কিনে নিজস্ব লোকজন দিয়ে কাজ করিয়ে থাকেন বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে।
অপরদিকে মুন্সিগঞ্জ ই/এম সাবডিভিশনের প্রায় ৯০% কাজ করছে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসাবে পরিচিত ঠিকাদার মেসার্স পাপ্পু ও মুমু এন্টারপ্রাইজ। ফ্যাসিবাদের ২য় মেয়াদ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তারাই একচেটিয়া কাজ করছে মুন্সিগঞ্জে। এই দুই প্রতিষ্ঠানে কারণে প্রতারিত বঞ্চিত হচ্ছে অসংখ্য সাধারণ ঠিকাদার।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বরার জন্য ই/এম ১১নং ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এসডিই আনোয়ারুল ইসলাম মজুমদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন তথ্যগুলো পর্যাপ্ত নয়, ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে ফোন দিয়েন।। (ক্রমশঃ)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাঙালি সংবাদ