
জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ:
গণপুর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরি জাতীয় স্বাগতম পার্টির মহাসচিব। তার অভিনয়ের কাছে সিনেমার আলোচিত কুটনৈতিক ভিলেনরাও হার মেনেছে। যেমন বিগত আওয়ামী সরকারের সময় ফরিদপুর ১, বোয়ালমারী, মধুখালি ও আলফাডাঙ্গা সংসদীয় ২১১ আসনের সাজেদা চৌধুরীরকে ফুফু পরিচয় দিয়ে দাপট দেখাতেন তিনি। তার পরে ফরিদপুর ১ আসনের সাবেক সাংসদ আওয়ামী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহমানকে নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপরে ছড়ি ঘুরিয়েছেন তিনি। তার ক্ষমতার কাছে বিএনপি, জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলো কোনঠাসা। ভাল পোষ্টিং পদোন্নতি ও প্রজেক্টের দায়িত্ব পাওয়া থেকে দীঘীদন ছিলেন বঞ্চিত।
কিন্তু যখন সৈরাচার আওয়ামী সরকার গণতন্ত্রের মা আপোষহীন নেত্রী দেশমাতা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি ভাঙ্গার নির্দেশ প্রদান করে হাইকোর্ট, ডিসেম্বর ২০১০ এবং জানুয়ারী ২০১১ সালে। ওই সময়ে
ঠিক তখন গণপুর্ত প্রধান প্রকৌশলীরা ছিলেন যারা, প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলীবৃন্দ (২০১০-২০১১) তারা হলেন-দেওয়ান মো. ইয়ামিন: তিনি ০১-১০-২০০৯ থেকে ১৭-০৮-২০১১ পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালন করেন। সুতরাং, ২০১০ সালের পুরোটা এবং ২০১১ সালের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনিই মূল দায়িত্বে ছিলেন। এস. এম. আব্দুল কাদের: দেওয়ান মো. ইয়ামিনের দাযিত্ব চলাকালীন ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মাত্র এক সপ্তাহের জন্য সংক্ষিপ্ত দায়িত্ব পান। তাঁর কার্যকাল ছিল ১১-০৮-২০১০ থেকে ১৮-০৮-২০১০ পর্যন্ত। মো. কবির আহমেদ ভূঁঞাা দেওয়ান মো. ইয়ামিনের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৭-০৮-২০১১ থেকে ৩০-১২-২০১৫ পর্যন্ত সফলভাবে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ২০১০ সালে মূলত দেওয়ান মো. ইয়ামিন (মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্য এস. এম. আব্দুল কাদের) এবং ২০১১ সালে দেওয়ান মো. ইয়ামিন ও পরবর্তীতে মো. কবির আহমেদ ভূঁইয়া প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। সেই সময় ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাড়ি ঠিকাদার মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন, ঝাঁপিয়ে দাপিয়ে বাড়িটা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। তারপর আর তাকে পিছনে ফিরতে হয়নি। কারণ পিডবিøউডির বড় বড় কাজ ভাগ হতো মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন ও জি কে শামিম এর মধ্যে। এদিকে খালেকুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামী সরকারের ফরিদপুর বোয়ালমারীর ক্ষমতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ফুফু ডেকে এবং আওয়ামী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ আব্দুর রহমানকে ক্ষমতার উৎস করে। পিডাবিøউডির সেই সময়ের সব চেয়ে বড় প্রকল্প পাবনার রূপপুরে পোষ্টিং বাগিয়ে বড় বড় কাজ পাইয়ে দেয় মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনকে। একদিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার ক্ষমতা , আওয়ামী পরিবারের ক্ষমতায় পাবনার রূপপুর গণপুর্ত দায়িত্বে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান, দুইয়ে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। পাবনা বালিশ ও পর্দা কান্ডে হরিলুটের খলনায়ক বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী।

খালেকুজ্জামানের পাঁচ খলিফা অতি: প্রধান প্রকৌশলী ই/এম আশ্রাফুল হক, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বদরুল আলম ড. আাবু নাসের ও স্টাফ অফিসার ফারিহা হালিম অরিন
এবার চলুন যেনে আসি কি ভাবে এই ডুয়েল কোটে খেলা দুর্নীতিবাজ অস্ট্রেলিয়ায় টাকা পাচারকারী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। কিভাবে হলেন গণপুর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী।
তার জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা। এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা জীবনে নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ফরিদপুর থেকে ১৯৮৫ এসএসসি এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর থেকে এইচএসি পাস করে খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে ১৯৯২ সালে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মোনাশ ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়া হতে ২০১৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন, যা ভ‚য়া ডিগ্রি বলে গুঞ্জন আছে। খালেকুজ্জামান ১৯৯৯ সালে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, ২০১২ নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী, পরবর্তীতে এক বছরের মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, এই সব বালিশ ও পর্দা কান্ডের, অনিয়ম দুর্নীতি ধামাচাঁপা দিতে মাঠ পর্যায়ের কতিপয় জুনিয়র অফিসারকে ফাঁসিয়ে দেন আওয়ামী সরকারের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে। এই বর্তমান গণপূর্ত প্রধান খালেকুজ্জামান। তারপরে তার খায়েস ছিলো কি ভাবে হওয়া যায় গণপুর্ত অধিদপ্তরের প্রধান।
আগষ্টের পাঁচ তারিখ আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে বর্তমান সরকারী দল বি এন পি, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে। পালিয়ে যায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ তার দলের মন্ত্রী, এম পি ও দলীয় নেতাকর্মীরা। এর পর দেশের দায়িত্ব ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর নের্তৃত্বে, উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে, দেশে একটি কমিশন গঠন করে এবং পাশাপাশি শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া প্রশাসন কেউ পালিয়ে যায় আবার কেউ বহালতবিয়তে রাজত্ব কায়েম করতে থাকে। তার মধ্যে এই পাবনা রূপপুর গণপুর্ত এর বালিশ ও পর্দা কান্ডের দুর্নীতির হোতা খালেকুজ্জামান। এরপর ইউনুস সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দপ্তরের প্রধান, প্রকল্পের পরিচালক, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ প্রশাসনসহ বদলি শুরু করে। তার মধ্যে গণপুর্ত সচিব জামায়াতপন্থী হওয়াতে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর গণপুর্ত অধিদপ্তরের প্রধান হতে আর বাধা রইলো না। কারণ জামায়াতের সহ সেক্রেটারি কুমিল্লার আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরর শশুর বাড়ি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী। সেই সুবাদে খালেকুজ্জামান বিশাল অদৃশ্য শক্তি ধর রাজনৈতিক কর্তাদেরকে দিয়ে তদবির শুরু করেন। তখন শামিম আক্তার ছিলেন গণপুর্ত প্রধান প্রকৌশলী। তাকে সরিয়ে আরও তিনজনকে পেছনে ফেলে নিজেই ২০২৫ সালে গণপুর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বনে যান তিনি।
তিনি হলেন কি ভাবে তা জানতে অনুসন্ধান করে আমাদের বিশেষ একটি অনুসন্ধানী টিম। এর পূর্বে এই দুর্নীতি ও লুটেরা দস্যু খালেকুজ্জামান চৌধুরী পাবনায় ছিলেন। ২০১৪'র শেষদিক থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাবনা গণপূর্ত ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী। সে সময়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রীণসিটি প্রকল্পের বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলোর নির্মাণের টেন্ডার হয়। প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান পাবনার দায়িত্বে থাকতেই বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজগুলোর সব কার্যাদেশ দেন।
পাবনা রূপপুর গণপুর্ত এর কাজ দিলেন কোন প্রতিষ্ঠানকে?
যে প্রতিষ্ঠান আপোষহীন নেত্রী গণতন্ত্রের মা সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙ্গার পুরুষ্কার হিসাবে। মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে সাজিন ও তমা কনস্ট্রাকশনকে। আওয়ামী ক্ষমতায় খালেকুজ্জামান একটি লুটেরা সিন্ডিকেট তৈরী করে, নামে-বেনামে প্রায় সবগুলো কাজ পাইয়ে দেয় রূপপুর গ্রীণ সিটিতে। নেপথ্য ছিলেন পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, তিনিই বর্তমানে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন শতাধিক কোটি টাকা। ২০১৯ সালে রূপপুরে বালিশ কেলেঙ্কারীর ঘটনা প্রকাশের সময়েও তিনিই রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে শুধুমাত্র নিজের ব্যাচমেট প্র্রকৌশলী জিল্লুর রহমানকে রক্ষা করেন। আর বাকিদের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ বলে অভিযোগ থেকে রেহাই পান এই দুর্নীতিবাজ স্বাগতম পার্টির মহাসচিব খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
তবে খালেকুজ্জামানের রয়েছে অদৃশ্য (চ, ছ)। নিজের ভাই, ভাগিনাকে দিয়ে চলে লাভজনক কাজের ট্রেন্ডার ও ডেভেলপার ব্যবসা। এদিকে গণপুর্ত অধিদপ্তরের সৃষ্টিলগ্ন থেকে প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার কখনো মহিলা ছিলো না। তিনি প্রধান হয়ে এই প্রথম নারী স্টাফ অফিসার নিয়ে আসেন নিজ দপ্তরে। জাটুর বয়সী ওই স্টাফ অফিসারকে নিয়ে গোটা অধিদপ্তর জুড়ে চাউর হয়ে উঠেছে নানা ধরণের গুঞ্জন আলোচনা সমালোচনা। এই স্টাফ অফিসারের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে সংসার ভেঙ্গে যায়। বাচ্চা কোলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এমএস করতে গেলে সেখানে পরিচয় হয় খালেকুজ্জামানে সঙ্গে। সেখান থেকেই জানাশোনা। এর পর এসডিই থাকতেই প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার।
এদিকে কিছু দিন যাবত বিভিন্ন গণমাধ্যমে বদরুল আলম খানের দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ করলে। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী বদের রাজা বদরুলের বিভিন্ন অপর্কম ও দুর্নীতির কারণে ওএসডি করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনো চার খলিফা ও তার ভাই, ভাগিনা বহালতবিয়তে থেকে লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করছেন।
এবার চলুন তিনি গণপুর্ত অধিদপ্তরের প্রধান হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কতো প্রকার ও কি কি?
এই খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণপূর্তের প্রধান হয়ে দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্যে, ট্রেন্ডার কমিশন, প্রমোশন তাও আবার আওয়ামী হলে কথা হবে না। এমন কি ভালো যায়গায় পোস্টিং আবার যদি কেউ বেশি টাকা দেয় তাহলে ভালো পোস্টিং করেন এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব জামায়াতপন্থী হওয়াতে অনেক সুযোগ সুবিধা নিতেন খালেকুজ্জামানের কাছ থেকে। ধরারে সরা জ্ঞান করতেন তিনি। কারণ লেনদেন সচিব এর ভাই গণপুর্ত অধিদপ্তরে বসে করতেন। নির্বাচনের আগে এই কুচক্রি মহল ভেবেই নিয়েছিলো ক্ষমতায় আসছে ওরা। যার সুবাদে অনেক টাকা নির্বাচনে খরচও করে এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সিন্ডিকেট। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তখন আবার বদলে যায় তারা। শুরু করেন জাতীয়তাবাদের সুর। এখন গণপুর্ত মন্ত্রীর কাছে না জানিয়ে বদলি বাণিজ্যের বিষয় নিজের মতো করে করতে থাকে এই খালেকুজ্জামান গং। এবার যারা বিগত আওয়ামী সরকারের সময় নির্যাতিত তারা মুখ খুলেতে থাকে। ফাঁস হয় খালেকুজ্জামানের নিপীড়ন, নির্যাতন বদলি বাণিজ্যের রহস্য, বেগম খালেদা জিয়ার মঈনুল রোডের বাড়ি ভাংগা ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে গণপূর্তের টেন্ডার জগতে কিং কোবরায় পরিণত করা, টেন্ড্ওা ডন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, এই সব অনিয়ম দূর্নীতি বিষয় ধামাচাঁপা দিতে এখন লটারিতে বদলি বাণিজ্যের নতুন এক কৌশলের পন্থা অবলম্বন করে। সেখানেও ধরা পড়ে এই সিন্ডিকেট। এরা গণপুর্ত লুটপাট করে ক্ষ্যান্ত নয়। গণপুর্তের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করেছে অসামাজিক কর্মকান্ড, নারী কেলেঙ্কারী ও বিদেশ ট্যুরের নামে কতিপয় নারী প্রকৌশলীকে নিয়ে প্লেজার ট্রিপসহ বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ডের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
এবার জেনে নেই খালেকুজ্জামান এর স্ত্রী সন্তান কোথায় বা কোন দেশে আছেন?
বিশেষ সুত্রে জানা যায় এই খালেকুজ্জামান এর স্ত্রী সন্তানেরা অস্ট্রেলিয়ায় সেটেল। আর সেখান থেকে প্রতি দুই মাস বা ছয় মাস পর পর আসেন দূর প্রবাস থেকে বিমান ভাড়া করে দুই দিনের জন্য দেশে। তবে একদিন বা দুইদিন থেকেই চলে জান কি নিয়ে, এমন প্রশ্ন গণপুর্ত কর্মকর্তা কর্মচারী ও সচেতন মহলের মনে। খালেকুজ্জামান এর তিন কন্যা ও স্ত্রী বসবাস করেন অস্ট্রেলিয়াতে। লেখাপড়াও করেন সেখানে। এখন গণপুর্তের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সচেতন মহলে বিতর্ক ও গুঞ্জন আছে যে গণপুর্ত বর্তমান প্রধান খালেকুজ্জামান ডুয়েল নাগরিক হতে পারে।
এবার চলুন পাঁচ খলিফার ক্ষমতা এবং পরিচয় কি দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীর ঘটনা এবং তাদের কাজ কি?
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক তত্ত¡াবাধয়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন নিয়ন্ত্রণ এবং একাধিক বিয়ে ও পারিবারিক অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তাকে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১ এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
টেন্ডার ও বদলি সিন্ডিকেট: গুরুত্বপূর্ণ সাকেৃলে দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বদলি বা পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লবিং:
বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন:
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে তার আয়ের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অভিযোগ
তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসেরের কৃতিকান্ড:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন ও টেন্ডার বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বগুড়ায় থাকতে সেখানকার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ড. ফারজানাকে নিয়ে আছে বিভিন্ন ধলণের আলোচনা সমালোচনা। ওই সময়ে দুই ডক্টরের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো বগুড়া গণপূর্তের ঠিকাদার ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
দুর্নীতির প্রধান অভিযোগসমূহ
টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য:
এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহŸানের অনুমতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের সাবেক গণপুর্ত প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা ভাই এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত। তার পিতা আবুল মনসুর চৌধুরী ও চাচা আব্দুল মাবুদ চৌধুরী ছিলেন গণপূর্তর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। উত্তরাধিকার সূত্রে দুর্নীতিবাজ লুটেরা এই প্রকৌশলী বিভিন্ন টেন্ডার সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বদরুলের পরিবর্তে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর অবৈধ লেনদেনের ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পারফিউম নাসেরের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ড্রিঙ্কিংসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।।
অবৈধ সম্পদ অর্জন: রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মোহাম্মদপুর, বারিধারা, গুলশান এবং গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি থাকার তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অর্থ জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে।
প্রকৌশলী মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কি?
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের জামানতের সরকারি পে-অর্ডার অবৈধভাবে ক্যাশ করা এবং সংস্থাপণ শাখায় দায়িত্ব পালনের সময়ে বদলি ও পদোন্নতিতে অনিযম বা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
পে-অর্ডার ও আর্থিক অনিযম
গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের ১০ লাখ টাকার সরকারি পে-অর্ডার নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্যাশ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে বিভাগীয মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বদলি ও প্রশাসনিক অনিয়ম
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতিমালা না মেনে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও একদিনে অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীকে বদলি করার আদেশ জারির পেছনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে।
এসব বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন। নিজের দপ্তরে ঘুষের নগদ টাকা লেনদেন নিয়ে একটি ভিডিও ইতোপূর্বে সামাজিক মাধ্যমে ভাউরাল হয়েছে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়নের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হতে দিবে কি এই বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট গুণধর এই প্রকৌশলীরা?
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসছে সে অনুযায়ী জামায়াতের নায়েবে আমীর ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া (পরাজিত প্রার্থী) আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে গত ১০ ফেব্রæয়ারী প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে প্রকৌশলী বদরুল আলম ১ কোটি টাকা নির্বাচনী খরচ পাঠিয়ে দেন। ওইদিন সন্ধ্যার পরে পূর্ত ভবনের জোন বিল্ডিং থেকে সাভার সার্কেলের লাল গাড়িতে করে ওই টাকা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান কুয়েট ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তিনি এখন গণপূর্তের বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট ও রুয়েট নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। ৩/৪টি গ্রæপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন গণপূর্ত প্রকৌশলীরা। এ কারণে ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। ফুঁসে উঠছে শোষিত বঞ্চিত প্রকৌশলীরা ও সাধারণ কর্মচারীরা। প্রতিনিয়ত সংবাদ সন্মেলন করে যাচ্ছে গণপুর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন। যার ফলে যে কোনো সময় দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারে এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা টক্র। এমন মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।
আরও বিস্তারিত বিষয় জানতে বাংগালী সংবাদ এর সাথে থাকুন।