
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Bangali Sangbad
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ব্যাপকভাবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।
নেপালি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে এসব এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরাও টানেল উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।
বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আকাশপথে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগের কয়েক দিন পরও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৯৩৯ থেকে ১ হাজারেরও বেশি বলে জানানো হয়েছে; একই সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্যও এসেছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত ও চীনের উদ্ধারকারী দলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য এখন ধ্বংসস্তূপ ও টানেলের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধান করা। দুর্গম এলাকা এবং নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও নেপালি কর্তৃপক্ষ