
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্বাস্থ্য
পাইলস বা অর্শ্বরোগ মলদ্বারের একটি পরিচিত সমস্যা। শুরুতে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে রোগ জটিল হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পরও কিছু রোগীর মলদ্বারের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। সঠিক পরিচর্যা ও জীবনযাপনের কিছু নিয়ম মেনে চললে এ ধরনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও শক্ত মল পাইলসের অন্যতম কারণ। শক্ত মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে মলদ্বারের ভেতরের রক্তনালি ও টিস্যুর ওপর চাপ বাড়ে। দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা, জোর করে মলত্যাগ করা, খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ওজনও পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পাইলস হলে মলত্যাগের সময় টাটকা লাল রক্ত দেখা যেতে পারে। কারও ক্ষেত্রে মলদ্বারের ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসা, অস্বস্তি বা দুর্বলতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ের পাইলস সাধারণত ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামলানো যায়। তবে নিয়মিত বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে, পাইলস মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে এলে কিংবা রোগের মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
মলদ্বারের আশপাশের স্থানটি জীবাণুর সংস্পর্শে থাকার কারণে অস্ত্রোপচারের পর বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। মলত্যাগের পর জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার না রাখলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
তাই অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের দেওয়া পরিচর্যার নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী কুসুম গরম পানিতে বসে সেঁক নেওয়া এবং মলদ্বারের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উপকারী হতে পারে।
অস্ত্রোপচারের পর আগের অনিয়মিত জীবনযাত্রায় ফিরে গেলে পাইলস পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণে—
অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ, জ্বর, ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: পাইলসের সমস্যা নিয়ে লজ্জা না করে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও রোগের অবস্থা দেখে চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
সূত্র: চিকিৎসক ডা. রেজা আহমদের পরামর্শ অবলম্বনে।