
জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ:
সরকারি কোষাগারের মেগা প্রজেক্টের শত কোটি টাকা হরিলুট, টেন্ডার রাজত্বে একচ্ছত্র সিন্ডিকেট, জালিয়াতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনে প্রায় ৫ কোটি টাকার ভূয়া বিল পাস এবং নামে-বেনামে রূপকথার অট্টালিকা ও সা¤্রাজ্য গড়ে তোলার পঙ্কিলতম ইতিহাসের পরও কথিত লটারির নামে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন গণপূর্ত প্রকৌশলী মাসুদ রানা। এর ফলে কৌশলী দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ডের অপ্রতিরোধ্য দুঃসাহস বেড়ে নীতি-নৈতিকতার মুখে ছাই দিয়ে, আইনকে তোয়াক্কা না করে এবার ঢাকা মেডিকেলের ৩শ’ কোটি টাকা প্রকল্পকে টার্গেট করে লুটপাটের ষোলকলা পূর্ণ করার চুড়ান্ত রুপরেখা পাকাপোক্ত করেছেন গণপূর্তে গোয়েন্দারুপী লুটপাটে বিশেষ থ্রিলার তৈরী করা বহুরূপী প্রকৌশলী মাসুদ রানা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাইলে যার কুকীর্তির পাহাড়ি নথি বন্দি, জাতীয় নিরাপত্তার মতো অতিসংবেদনশীল সংস্থার মেগা প্রজেক্ট বিটিআরসি এনবিআর ভবন থেকে শুরু করে আন্তাজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্টের পবিত্র চত্বর পর্যন্ত যার লুটপাটের বিষাক্ত থাবা বিস্তৃত, গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী ম্যানেজমাস্টার মাসুদ রানা পেয়েছেন মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্ব।
অনুসন্ধানের বেরিয়ে এসেছে, রাজকীয় শঠতা ও বহুরূপী ক্ষমতার চাঞ্চল্যকর রূপরেখা। সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছেলের বন্ধু ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ভাগ্নি জামাই পরিচয়কে চাবুক বানিয়ে প্রায় ৬ বছর বছর গণপূর্তের লোভনীয় ডিভিশনগুলো নিজের পকেটে পুড়ে রাখা এই প্রকৌশলী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সাথে সাথেই খোলস বদলে ফেলেছেন এক নিমিষে। রক্তচক্ষু আর ক্ষমতার রাজনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতারাতি চরমপন্থি রাজনৈতিক ডিগবাজি দিয়ে প্রথমে জামায়াত এবং পরক্ষণেই বিএনপির শীর্ষ সিন্ডিকেটের ভিড়ে মিশে গিয়ে ক্ষমতার করিডোরে বহাল রেখেছেন নিজের একক রাজত্ব। এভাবেই কথিত লটারি খেলার মাধ্যমে নিজের বদলী বাগিয়ে নিয়েছেন মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে।
তিনি প্রকৃতপক্ষে গণপূর্তে বৈষম্য সৃষ্টির খলনায়ক। এখন পরিচয় দিচ্ছেন মির্জা আব্বাসের ভাগ্নি জামাই। এ পরিচয়ে জুলাাই বিপ্লবের পরে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর। ছিলেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের অবৈধ হাদিয়া/ তোহফা কালেকশনের গোপণ ক্যাশিয়ার। সে সুবাদে নিয়োগ পোষ্টিং পদোন্নতিসহ গণপূর্তের সকল কাজেই ছিলেন একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক। তার ব্যাচের কয়েকজনকে নিয়ে ছিলো ‘২৭ সিন্ডিকেট’।
কিশোর গোয়েন্দাা থ্রিলার ‘মাসুদ রানা’ থেকেও বেশী থ্রিলার দেখিয়েছেন গণপূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে। তবে বেশীরভাগ সময়ে থাকতেন আড়ালে বা ধরাছোয়ার বাইরে। ২৭তম বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের এই প্রকৌশলী ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে আপাদ-মস্তক একজন মহা-দুর্নীতিবাজ।
ভূক্তভোগী ঠিকাদারদের মতে, প্রকৌশলী মাসুদ রানা লেবাসধারী ইবলিস বা ডিজিটাল জালেম। তার মননে জমা আছে ফ্যাসিবাদ অন্তরে লালন-পালন করেন স্বৈরাচার। আ’লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলী ইতোপূর্বে শেরে বাংলা নগর ৩নং ডিভিশন, রাজশাহী ২ ও ১নং ডিভিশন এবং চাপাইনবাবগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বে থেকে আ’লীগের লোকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়েছেন, যার ধারা এখনও বহাল রেখেছেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে গোপণে আ’লীগের পলাতক ঠিকাদার কায়সার মোল্লার ভাগ্নে হাসান মোল্লা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোপালগঞ্জ নিবাসী দ্বীন ইসলামের কয়েক কোটি টাকা বকেয়া পাওনা বিল পরিশোধ করছেন মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে। এমন অভিযোগ করছেন সাধারণ ঠিকাদারগণ। পাশাপাশি ভাগ্নি জামাইকে দিয়ে হাইকোর্ট ও শেরে বাংলা নগরের এনবিআরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় লাভজনক কাজগুলো করিয়ে কৌশলে ঠিকাদারী করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২৫-২০২৬ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হাইকোর্ট বিসিএস প্রশাসন একাডেমী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিটিভি ডেমরা পুলিশ লাইন মুগদা হাসপাতাল পূর্ত ভবন ক্যাম্পাস হাইকোর্ট সুপ্রীমকোর্টের কাজগুলোর বেশীরভাগই স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের লোকদের পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে পুনঃ বাসন করেছেন এই প্রকৌশলী। ২০১৯ এ কুখ্যাত ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেফতার হলে শেরে বাংলা নগরে এনবিআর ভবনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ওই সময়ে এনবিআর ভবনের নীচতলায় গোডাউনে উন্নতমানের টাইলস বিভিন্ন স্যানিটারি ফিটিংস থাই এ্যালুমিনিয়াম বিভিন্ন ধরণের গ্লাস এসি ক্যাবলসহ নানা ধরণের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মিলেয়ে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার নির্মাণ স্টোরেজ করা ছিলো। পরবর্তীতে ওই মালামালের বেশীরভাগই লোপাট করেছেন প্রকৌশলী মাসুদ রানা ও তার লুটেরা চক্র।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মালামালগুলোর বেশীরভাগই পরবর্তীতে কাজপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে দিয়ে ব্যবহার করিয়ে ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এই চক্র।
আরো জানা যায়, প্রকৌশলী মাসুদ রানা এপিপি’র বেশীরভাগ কাজ এলটিএম পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করেন। তবে আ’লীগের ঠিকাদার পেলে তাদেরকে ওটিএমে কাজ পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে পূনঃবাসন করেন তিনি। এ রকম দেড় শতাধিক ওটিএম আইডির মধ্যে কতিপয় হচ্ছে- ১৩১২৮৬৩, ১৩১৩০৩৫, ১৩১২৭৫৪, ১৩১২৮৭৭, ১৩১২৮১৫, ১২৯৫৬৪৪, ১২৯৫৬৫১, ১২৮৪৫৮৯, ১২৮৪৩৯৭, ১২৪৭৯৭১, ১২৮২৩৪৮, ১২৮৩৭৫১, ১২৮৩২৩৯, ১২৮২২৯৭, ১২৭৫৬৩৮, ১২৮২৩৫০, ১২৮২২৫৩, ১২৮১১৭৪, ১২৮২৩৩০, ১২৮২১৩৩, ১২৭৫৫৭০, ১২৮৩৩৭৭, ১২৭৫২৬৯, ১২৭৫৬৩২, ১২৭৫৪৭৮, ১২৮৪৫৯৭, ১২৮৪৬৫৮, ১২৮৩৫৬৮, ১২৮৩৭২০, ১২৭৫৪০২, ১২৭৫৫২৮, ১২৮৪৭৭৩, ১২৭৫৪২৯, ১২৭৪৩৯৯, ১২৮৪৭৯০, ১২৭৫৬১২, ১২৭৮৬৩২, ১২৭২৮৪২, ১২৭২৮১৮, ১২৭২৭৭৭, ১২৭২৮৩৩, ১২৭২৭২৩, ১২৪৪৪৬১, ১২৫২৮৯৮, ১২৫২৭৫৪, ১২৫২৯২৯, ১২৪৭৯৮৯, ১২৪৮০০৪, ১২৫২৭২৩, ১২৩৬০৭৫, ১১২৫১৩০. ১১২৫১২২, ১১২৫০৭৬, ১১২০৯১৪, ১১১৭১১৯, ১১১৪৯৮৪, ১১০৪৮৪১, ১০৯৯৯৪৭, ১০৯০৬০৭, ১০৭০৫১২. ১১২৪৯১৫, ১০৮৮৯০৬, ১০৯৩৪০৬, ১০৯৩৩৮৮, ১০৯২৩২৭, ১০৯২২৫৪, ১০৯২২০৭, ১০৯১৭৫০, ১০৯১৭২৭, ১০৯১৬৫৭, ১০৯৪৭৩৭, ১০৯৪৭৫৬, ১০৯৪৭৭৪, ১০৯৪৭৭০ ও ১০৯৪৭৬১, ১০৩৫৯১০, ১০৩৫৯৩৩, ১০৩৫৯৮৯, ১০৩৬১২৯, ১০৩৬১৪৬, ১০৩৬৪১৫, ১০৩৬৯৫৮, ১০৩৭১৩৪। এ রকম আরো শতাধিক টেন্ডার আইডি।
এক অভিযোগে জানা যায়, মাসুদ রানা নিজ ভাগ্নিজামাইকে হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে সুপ্রীমকোর্ট এনেক্স ভবনের ভিতর-বাইরে রং করণের কার্যাদেশ দিয়েছেন জালিয়াতি করে। এ কাজের ১০৩৫৯৮৯ নং ওটিএম আইডি’র দরপত্রে হোসেন এন্টারপ্রাইজসহ মোট ৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণ করা সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানেরই সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা থাকলেও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি বেশী দর দাখিল করে ২নং স্থান দখল করে। এই টেন্ডারে ১নং স্থানে ছিলো মেসার্স গোলাম রাব্বী এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ১নংকে বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে ২নং দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই একই ঠিকাদারকে শেঃবাঃনঃ ৩নং ডিভিশনে থাকতে হোসেইন কনস্ট্রাকশন প্রাঃ লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানের নামে এনবিআর এর ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অভ্যন্তরীণ সড়ক, বাউন্ডারী ওয়াল, সারফেস ড্রেন, ডিপটিউবওয়েল, পুরো ভবন ধোয়ামোছা পরিস্কার করণ ও স্যানিটারি ফিটিং ফিস্কার সরবরাহ ও স্থাপণের নামে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার লাভজনক কাজ একই প্রক্রিয়ায় পাইয়ে দেওয়া হয়। এ ডিভিশনে থাকতেও তিনি আ’লীগের লোকদের ওটিএম করে চুপিসারে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।
আরো জানা যায়, ২০২১ ও ২০২২ সালে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে প্যারেড গ্রাউন্ডের কাজগুলো আ’লীগের লোকদের মধ্যেই হালুয়া-রুটির ন্যায় ভাগ করে দিয়েছেন প্রকৌশলী মাসুদ রানা। তিনি ২০২১ এর সেপ্টেস্বরে ডিভিশনটির দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত চেয়ারে থেকে এপিপির বেশীরভাগ কাজ এলটিএমে করলেও সাড়ে তিনবছরে কৌশলে লুটপাট চালিয়েছেন ডিভিশনটিতে। এ সময়ে বিটিআরসি ভবনের ইন্টেরিয়র এক্সটেরিয়র গ্লাস ওয়ার্কসহ সংশ্লিস্ট কাজ, এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল সৌন্দর্য্যবর্ধন কাজ ফলস্ সিলিং ওয়াল প্যানেলিং এক্যুয়াস্টিক স্ট্রিলের ছাদ ওয়ার্ক স্টেশন নির্মাণে প্রায় ৪০ কোটি টাকা কাজ, বিডা ভবনের উডেন ফলস্ সিলিং বাউন্ডারী ওয়াল ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনসহ ফার্নিচার সরবরাহ কাজ, ইএনটি হাসপাতাল ও বন ভবনের ভার্টিকেল এক্সটেনশন, বিএমডি ও সমাজসেবা ভবনের বিভিন্ন সম্প্রসারণ ও মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ আরো বিভিন্ন প্রকল্পের ভ্যারিয়েশন কাজে ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছেন এ সকল খাত থেকে। উল্লেখিত প্রকল্পগুলোতে কন্টিনজেন্সি খাতে বরাদ্দ করা অর্থের ৭০% লোপাট করা হয়েছে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে।
একইভাবে স্বৈরাচার সরকার ক্ষমতায় থাকতে জুলাই/২০২৪ এ গণপূর্তের সবচেয়ে বড় ডিভিশন ৪ এর দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে কৌশলী লুটপাটে নিজেকে নিমগ্ন রাখছেন প্রকৌশলী মাসুদ রানা। ১০২৫-২৫ অর্থবছরে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রশস্তকরনসহ কার্পেটিং দোতলা ভবনে সিড়ি নির্মাণ দুটি প্রধান গেটের নবায়ন ও সকল ভবনের রেক্টোফিটিং কাজের নামে প্রায় ১৮ কোটি টাকার ওয়ার্কঅর্ডার দিয়েছেন তিনি। এ সকল কাজে দ্বিগুণেরও বেশী ওভারইস্টিমেট করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই প্রকৌশলী। চলমান কাজের মান নিয়েও বিচরকেরা অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পূর্ত ভবনের স্টোর বিল্ডিং ভেঙ্গে অফিস ভবনে রূপান্তর, পার্কিং ইয়ার্ড তৈরী, পূর্তভবন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, সুপ্রীম কোর্টের বিভিন্ন ভবন নির্মাণ, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী ভবন নির্মাণ, বিটিভি ভবনের বিভিন্ন পূণঃ নির্মাণ কাজ, মুগদা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নার্সিং কলেজ একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে প্রকৌশলী মাসুদ রানার মুখোশের আড়ালে থাকা থলের কালো বেড়াল ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও পাবনায় শতাধিক কোটি টাকবার সহায়-সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে বলেও দুদক সংশ্লিষ্ট নির্র্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
আরো জানা যায়, ২০২৩ সালের জুন মাসে ১৪ তারিখে স্বাক্ষরিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন সংক্রান্ত সমঝোতায় হাতিরঝিল-রামপুরা বনশ্র্রী-শেখের জায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পে রাস্তার উভয় পাশে অধিগ্রহণকৃত জমির স্থাপনা মূল্য নির্ধারনে অধীনস্থ এক উপসহকারী প্রকৌশলীর মাধ্যমে ৩/৪ গুণ বেশী মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে রিপোর্ট দাখিল করে অর্ধশতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই লুটেরা প্রকৌশলী মাসুদ রানা। জুলাই/২৪ এর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমানোর জন্য আ’লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন আ’লীগের এমপি ও যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিলের মাধমে। এ নিয়ে শেরে বাংলা নগর থানার সামনে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলো সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুধু তাই নয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৮ জন কর্মকর্তা জুলাই গণহত্যা মামলার আসামী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই গণহত্যা মামলা মীমাংসা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি বড় অংশের যোগান দিয়েছেন প্রকৌশলী মাসুদ রানা। ভন্ড পীর হিসাবে পরিচিত সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর ভন্ড মুরীদ প্রকৌশলী মাসুদ রানা লাগাতার লুটপাটের পাশাপািশ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডেও জড়িত। বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও কথিত ভালো মানুষ বা ভদ্রতার আড়ালে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদ ভন্ড মুরীদীর লেবাস জড়িয়ে রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে। শোষিত বঞ্চিত প্রতারিত ঠিকাদার মহল পরিবর্তিত সময়ের প্রেক্ষাপটে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী মাসুদ রানার লেবাস খুলে কালো বেড়ালকে প্রকাশ্যে আনার জন্য ধীরে ধীরে মুখ খুলছে। অনেকেই লিখিত আকারে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা ৪নং গণপূর্ত বিভাগের অধীনে প্রায় অর্ধশত আরএফকিউ করাসহ পূর্ত ভবন, ইস্কাটন অফিসার্স কোয়ার্টার, শাহজাহানপুর কলোনী, গুলফিশান-কাহকাশান, তিন নেতার মাজার ও মুগদা মেডিকলে করেজ হাসপাতালে কাজ না করে প্রায় ৫ কোটি লোপাট করেছেন মুখোশধারী এই কালোবিড়াল প্রকৌশলী। এ বিষয়ে বিস্তারিত থধাকছে পরবর্তীতে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী মাসুদ রানার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোন রেসপান্স না পাওয়ায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ)