প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 29, 2026 ইং
গণপূর্ত উপসহকারী প্রকৌশলী জুয়েল রানাকে থামাবে কে?

আসাদ মাহমুদ:
অভিযোগের অন্ত নেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদ্য সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী জুয়েল রানার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারদের সাথে দুঃব্যবহার, কথায় কথায় ক্ষমতা দেখানো, সুনামগঞ্জে থাকতে মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কারণে দুদকের অভিযোগ সর্বশেষ নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জেল খেটেও চাকরি করছেন বলে সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
২০১৮ ব্যাচের এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী চাকরির ৫ বছরের মধ্যেই কোটিপতিতে রূপান্তরিত হয়েছেন। জুয়েল রানা চরম অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে ঢাকার ওয়ারীতে বিলাশবহুল এপার্টমেন্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েকটি দোকানসহ বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা ও গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে অনেক জমিজমা ক্রয় করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন। স্বৈরাচার আ’লীগের ক্ষমতায় প্রভাবশালী হওয়া এই গণপূর্ত মাঠ কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি করেছেন দোর্দন্ড প্রতাপের সাথে। অবৈধ অর্থ আর রাজনৈতকি প্রভাবে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করে রঙ্গিন নেশায় বুদ হয়ে উঠতি বয়সী মেয়েদের উষ্ণ সান্নিধ্য গ্রহণসহ এমন কোন অবৈধ কাজ নেই যা তিনি করেননি। আর এ কারণে ধর্ষণ চেষ্টাসহ কয়েকটি মামলা খেয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক অবৈধ ও সমাজবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে ক্ষুন্ন হচ্ছে গণপূর্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মান-সম্মান ও আত্ম মর্যাদা। লোকসমাজে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছেন অনেকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপসহকারী প্রকৌশলী জুয়েল রানার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ১০/৩০ ধারায় মামলা (নং ৪০৪-২০২৫) রুজু করা রয়েছে। সে মামলায় গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পাঠানো একটি পরোয়ানার ভিত্তিতে কদমতলী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আদালতে জামিন আবেদন করলে জুয়েল রানা ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় অস্থায়ী জামিন পায়। ওই মামলার পরবর্তী ডেট ছিলো চলতি মাসের ২৬ তারিখ। ৪ দিন কারাভোগের পরে জামিন নিয়ে গত ১৯ এপ্রিল থেকে তিনি নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মচারী ফৌজদারী মামলায় গ্রেফতার বা কারাগারে আটক হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে। জুয়েল রানার ক্ষেত্রে ওই বিধানের কোন কিছ্রুই ধারধারেনি গণপূর্ত অধিদপ্তর। মামলা ও গ্রেফতার হয়ে জেল খাটার বিষয়টি মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে জুয়েল রানা গোপণ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। পরবর্তীতে গত ২১ এপ্রিল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জনাব খালেকুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ২৫.৩৬.০০০০২১৬.১৯০০২.২৬/৮৮নং প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগে বলী করা হয়। কিন্তু তিনি গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-২ ঢাকায় সংযুক্ত থেকে কাজ করবেন ও নরসিংদী থেকে বেতন-ভাতাদি পাবেন বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। এই হতাশার সূত্র ধরে জুয়েল রানা শোষিত বঞ্চিতদের তোপে পড়ে রক্তাক্ত হলে তার দায়ভার বর্তমান গণপূর্ত প্রশাসনকে বহন করতে হবে বলে কতিপয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী জানিয়েছেন।ডিপ্লোমা প্রকৌশলী জুয়েল রানা আ’লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ৪ বছর সুনামগঞ্জে ছিলেন। সেখানে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থেকে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি আর পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা লোপাট করেন তিনি। সেখানে নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নিয়ে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের কারণে স্থানীয় ঠিকাদারদের হাতে কয়েক দফা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকে অন্তরবর্তী সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। অবৈধ অর্থের গরমে রঙ্গিন পানীয়তে মাস্তি করাসহ বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি পার্সেন্টেজ নিয়ে ঠিকাদারদের সাথে হাতাহাতিতেও জড়িয়েছেন এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। এ বিষয়ে বাঙালি সংবাদের বিস্তারিত অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী জুয়েল রানার মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে হোয়াটস্ আ্যাপে ম্যাসেজ পাঠালে তিনি বিষয়টি মিথ্য ও ষড়যন্ত্র বলে লিখে পাঠান। (ক্রমশঃ)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাঙালি সংবাদ