প্রিন্ট এর তারিখঃ May 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 21, 2026 ইং
আন্দালিব নামক রাহুর কবলে শেঃ বাঃ নঃ ৩নং গণপূর্ত

বিশেষ প্রতিনিধি:
সা’দ মোহাম্মদ আন্দালিব। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ্্একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। বর্তমানে আছেন ঢাকার শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত বিভাগে। গণপূর্তের রাহু হিসাবে পরিচিত এই প্রকৌশলী বিগত স্বৈরাচার সরকারের সহযোগী হিসাবে ছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে। লীগ সমর্থক ঠিকাদার নিয়ে বেপরোয়া লুটপাট বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা, আত্মীয়-স্বজন ও নিজস্ব ঠিকাদারদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন, প্রজেক্টগুলোতে মোটা অংকের পার্সেন্টেজ নিয়ে এডভান্স বিল প্রদান ও সিডিউল ডিজাইন এলাইনমেন্ট বহির্ভূতভাবে নি¤œমাণের কাজ করানোসহ ভ্যারিয়েশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অথচ এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা প্রকৌশলী ডিভিশনটিতে আগত বড় বড় প্রজেক্টকে উদ্দেশ্য করে অধিদপ্তরের জামায়াত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে পোষ্টিং বাগিয়ে নেয়ার জাতীয়তাবাদী সরকারের চেতনা ও ভাবমূর্তি ভুলুণ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমনকি গত বছরের নভেম্বরে একজন দক্ষ ও উন্নয়নবান্ধব ডাইনামিক প্রকৌশলীকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে চেয়ার দখল করে নিয়ে আওয়ামী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তাদেরকে আর্থিকভাবে সাবলম্বি করে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন তিনি। তথ্য সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আন্দালিব ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর শেখ হাসিনার ৪র্থ মন্ত্রী সভার সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী শরিয়তপুর-২ আসনের এমপি এনামুল হক শামীমের নিকট আত্মীয়। সে মোতাবেক তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেঞ্চুরি (ধর্ষনে) মানিকেরও আত্মীয়। আন্দালিব নিজেও বুয়েট ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে তিনি সাবেক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ জেলা নোয়াখালী গণপুর্ত বিভাগে পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়াসহ তিনি যেখানেই গিয়েছেন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে লাগাতার অনিয়ম অদম্য দুর্নীতির মাধ্যমে দু’হাতে টাকা কামিয়েছেন। আর ঢেলেছেন নারী ও মদের পিছনে। তার আত্মীয় মানিকের মতো সেঞ্ছুরি করতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে ধরা খেয়ে পারিবারিক কলহ মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকৌশলী আন্দালিব স্বৈরাচার লীগ সরকারের ২য় টার্মে শের-ই-বাংলা নগর ৪নং সাবডিভিশনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) থাকতে সে সময়ে ঢাকা আন্তজার্তিক বাণিজ্যমেলার প্রতিবছরের (প্রায় ৩ বছর ছিলেন সেখানে) উন্নয়ন কাজে নিজস্ব ঠিকাদারের মাধ্যমে বেনামে ব্যবসা করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও সে সময়ে (২০১৫) ওই সাবডিভিশনের অধীনে ৫/৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে ভ্যারিয়েশনের কাজগুলো নিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন জাল -জালিয়াতির মাধ্যমে আরো প্রায় কোটি টাকা লোপাট করেন ঠোটকাটা (ঠোটে সেলাই করা) এই প্রকৌশলী। তিনি ঠোট কাটা হলেও রঙ্গিন পানীয়তে নিয়মিত ডুব দেওয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে পারদর্শী।

পরবর্তীতে প্রমোশন নিয়ে মুন্সিগঞ্জ নরসিংদী হবিগঞ্জ (২টার্ম) নোয়াখালী ফেনী বি-বাড়িয়া (২টার্ম) লালমনিরহাট ও সর্বশেষ শের-ই-বাংলা নগর ৩নং ডিভিশনের দায়িত্বে আছেন প্রভাবে সহিত। নোয়াখালীতে সাবেক স্বৈরাচার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউয়া কাদেরের ডিও লেটার জালিয়াতি করে ব্যাপক আলোচিত হন সে সময়ে। পরবর্তীতে তাকে ফেনীতে বদলী করা হয়। এই লুটেরা প্রকৌশলী নোয়াখালী ও হবিগঞ্জে দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেশীরভাগ কাজ বাস্তবায়নের সুবাদে আ’লীগের প্রভাবে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন। হবিগঞ্জে থাকতে নিজের সরকারি বাসাতে সুন্দরী কাজের বুয়া রেখে তাকে নিয়ে নিয়মিত ফস্টিনস্টি করার এক পর্যায়ে স্থানীয় ছেলেদের হাতে ধরা খেয়ে আওয়ামী নেতাদের ডেকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে রক্ষা পান বলে জানিয়েছেন নোয়াখলীর ‘র’ অদ্যক্ষরের এক ঠিকাদার। নোয়াখালীর আরেক ঠিকাদার তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতে মামলা করলে তার সাথে মোটা অংকের টাকায় দফারফা করেন। নোয়াখলীতে আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও হবিগঞ্জের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজে বেপরোয়া অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে সে সময়ে বহুল প্রচারিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। চাকরিজীবনে এভাবে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি ঢাকার ইন্দিরারোড মনিপুরীপাড়া ও মোহাম্মদপুরে কয়েকটি স্টুডিও এপার্টমেন্ট এবং গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরে অগাধ জমি-জমাসহ নামে-বেনামে প্রায় ২০ কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক বলে জানা গেছে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য তার অফিসে দু’দিন যোগাযোগ করে ও ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিয়েও কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশ:)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাঙালি সংবাদ