
জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ:
আবু নাসের চৌধুরী। নামের পূর্বে আবার আছে ডক্টর! কেতা দুরস্ত একজন দুর্নীতিবাজ। তার বাবাও ছিলেন এই ডিপার্টমেন্টের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। চাচা আব্দুল মাবুদ চৌধুরী ছিলেন একই ডিপার্টমেন্টের একই পদে। দুর্নীতিবাজ পরিবারের যোগ্য উত্তরসুরী হিসাবে যথেষ্ট প্রভাবের সাথে তিনি বর্তমানে ডিপার্টমেন্টের একটি সিন্ডিকেটের হয়ে পোষ্টিং পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণসহ সকল ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত তিনি। এছাড়াও কারণে অকারণে বন্ধু বান্ধবীসহ লং ড্রাইভে ভ্রমনসহ তার বিরুদ্ধে আছে বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডের গুরুতর অভিযোগ। এ ধরণের তথ্যাদি জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী নিজেকে বান্দবীমহলে আকর্ষণীয় রাখতে ব্যবহার করেন বিদেশী উন্নতমানের সেন্ট। এর বেশীরভাগ যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ফ্রান্স জার্মানী থেকে আমদানীকৃত। সার্বক্ষনিক ব্যবহারের জন্য নিজের অফিস ও গাড়িতেও মজুদ রাখেন এ ধরণের সেন্ট। এ কারণে গণপূর্ত প্রকৌশলী মহলে ‘সেন্ট নাসের’ নামেও ব্যাপক পরিচিত তিনি। ‘সেন্ট নাসের’ ঢাকা গণপূর্ত ২নং সার্কেলে বসেই অধীনস্থ ৪টি ডিভিশনের প্রাক্কলন পাশে অধীনস্থ সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নগদ ৩% ঘুষ আদায় করছেন। এয়াড়াও উন্নয়ন প্রকল্পের ভ্যারিয়েশন পাশ করা ও সারপ্রাইজ ভিজিটসহ বিবিধ কৌশলে পার্সেন্টেজ বাণিজ্য করছেন উত্তরাধীকার সূত্রে পার্সেন্টেজখোড় এই প্রকৌশলী।

আরো জানা যায়, মাফিয়া প্রকৌশলী আবু নাসের ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দোসর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির দুর সম্পর্কীয় ভায়রা ভাই। সে সুবাদে লিয়েনস ফেরৎ এসে বিতির্কিতভাবে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। নভেম্বর ২০১৭ থেকে সম্পদ ডিভিশন মার্চ ২০২১ইং পর্যন্ত ওই ডিভিশনের দায়িত্বে থাকতে আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অপ্রয়োজনীয় দ্বিগুণ তিনগুণ বরাদ্দ এনে ভ্যারিয়েশন করে হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের অর্থ। এমনকি ওই সময়ে এপিপির বেশীরভাগ কাজ এলটিএমের পরিবর্তে পাতানো ওটিএম করে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে বন্টণ করে বরাদ্দের ১০% হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান অনুমতি দিয়ে প্রায় কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সময়ে একজন নারী কর্মকর্তা বগুড়া ডিভিশনের দায়িত্বে থাকার কারণে ডিভিশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ বিল প্রদানসহ সামগ্রীক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেও অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন অভিযুক্ত এই কর্মকর্ত। এ কারণে বগুড়া সার্কেল অফিসে যেটুকু সময় অফিস করতেন কথিত মিটিংয়ের নামে ওই নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার অভিযোগ করেছেন সেখানকার কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। এমনকি ঢাকা থেকে ঠিকাদার ডেকে নিয়ে তাদের নামে প্রকৌশলী নাসের নিজেই ব্যবসা করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বগুড়া গণপূর্ত বিভাগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবু নাসের চৌধুরী ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান অনুমতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের কাজ ও এপিপির কাজ দিয়ে ১০% কমিশন হাতিয়ে নিয়েছেন। উক্ত ওটিএম দরপত্র আহবানের আইডিগুলি হচ্ছে- ১১১১৭৮১, ১১১৯৩১৬, ১১১৩০৭৯, ১১১১৫৬৩, ১১১১৫৫৮, ১১১১৫৫৯, ১১১১৫৬০, ১১১১৫৭০, ১১১১৫৬৭, ১১১১৫৬৯, ১১১১৫৬১, ১১১১৫৬৪, ১১১১৫৬৫, ১১১১৫৬৬, ১০৮১৫৪৬ , ১১০০৭৯০, ১১০২০২৮, ১০৯১৯৭৩, ১০৯১৯৭৪, ১০৯১৯৭৫, ১০৯১৯৭৬, ১০৯১৯৭৭, ১০৯১৯৭৮, ১০৯১৯৭৯, ১০৮২১৫৯, ১০৮০২৩৫, ১০৮০২৩৬, ১০৬৯১৩১, ১০৭০৮৭৪, ১০৭০৮৭৫, ১০৭০৮৭৬, ১০৭১২৬৫, ১০৪৩২৪৮ , ১০২৯৫৯৬, ১০১৮১৫৯। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ভেরিয়েশন সুবিধা পাইয়ে দিয়ে ঠিকাদার নিকট থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
চাকুরীজীবনে এভাবে ব্যাপক অনিয়ম অব্যাহত দুর্নীতি ও লাগাতার লুটপাটের মাধ্যমে প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী ঢাকা বসুন্ধারা আবাসিক এলাকায় আই ব্লকে একটি বিলাসবহুল স্টুডিও এপার্টমেন্ট, মোহাম্মদপুর বারিধারা ও গুলশান-২’তে একটি করে ফ্ল্যাট ক্রয় করছেন এবং গাজীপুরে কয়েক বন্ধু মিলে যৌথভাবে বিশ একর জায়গা ক্রয় করছেন রিসোর্ট নির্মাণের উদ্ধেশে। এছাড়া মহাখালীর আরজতপাড়ায় আরো ২টি বিলঅশবহুল এপার্টমেন্টসহ আজিমপুরে নামে-বেনামে বিভিন্ন সহায়-সম্পদসহ অর্ধশতাধিক কোটি টাকার মালিক তিনি। পাশাপাশি উত্তরা ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ সঞ্চয়সহ স্ত্রীসহ নিকটাত্মীয়দের নামে আরো প্রায় ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য ঈদুল আযহার পূর্বে বেশ কযেকবার তার দপ্তরে ও পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ)