প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 7, 2026 ইং
চাঁদপুর গণপূর্ত: স্বৈরাচারের সহযোগী কোটিপতি ডি. প্রকৌশলী আলী নূর আরো বেপরোয়া!

বিশেষ প্রতিনিধি:
ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আলী নূরের কবলে পড়েছে চাদপুর গণপূর্ত বিভাগ। নিজ জেলায় পোস্টিং হওয়ার কারণে তিনি এখন চরম বেপরোয়া। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ কাউকেউ মানেন না তিনি। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসাসহ সকল অপকর্মের কাজী তিনি। বিগত লীগ সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপুমনির ভাইয়ের বদৌলতে ছাঁদপুর গণপূর্তে ব্যাপক প্রভাব দেখিয়ে লুটতরাজ চালিয়েছেন তিনি। সিভিলের প্রকৌশলী হলেও স্বৈরাচারের প্রভাবে ই/এম সাবডিভিশনের দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে বহু অপকর্ম ঘটিয়েছেন এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আলী নূর। চাকরিজীবনে এভাবে অনিয়ম দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে চাঁদপুরে কয়েকশ’ বিঘা জমি, চাঁদপুর শহরে ভবন, ঢাকার মিরপুরে ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ে ভবন, একই এলাকায় আরো কয়েকটি ফ্ল্যাটসহ নামে- বেনামে অর্ধ শতাধিক কোটি টাকার মালিক এই গণপূর্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ আলী নূর ২০০৪ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই অত্যন্ত চতুর আলী নূর জমি অধিগ্রহণ কাজ চলমান এমন জেলায় পোস্টিং বাগিয়ে নেন। পদ্মা বহুমুখি সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হলেই ২০০৮ সালে সে মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে পোস্টিং নিয়ে নেয়। সেখানে জমি অধিগ্রহণ ভূমি প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে অসহায় ভূমি মালিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসন বিষয়টি টের পেয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে ডিপ্লোমা সমিতির নেতাদের ঘুষ দিয়ে শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগে পোস্টিং নেন ২০১৩ সালে। তখন সেখানে পুরদমে অধিগ্রহণকৃত স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের কাজ চলমান। অসহায় জমি মালিকদের জিম্মি করে কয়েক বছরে হাতিয়ে নেন প্রায় শত কোটি টাকা। চাঁদপুরে ১টি মেরিন টেকনলজি এর নির্মাণ শুরু হলে নিজ জেলা চাঁদপুরে পোস্টিং করিয়ে নেন প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে। চাঁদপুর মেরিন এবং টি টি সি প্রকল্পের পরতে পরতে এখনও আলী নুরের দুর্নীতি আর লুটপাটের চিহ্ন বিদ্যমান আছে।
বিগত ফাসিসট সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির ভাইয়ের ছত্রছায়ায় চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের একছত্র অধিপতি হয়ে ওঠেন তিনি । এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ সে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হলেও সে সময়ে প্রভাব খাটিয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) এর দায়িত্বে এখন পর্যন্ত নিয়োজিত আছেন। বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মতলব উত্তর উপজেলায় সড়ক প্রশস্থকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ এর ফলে কিছু স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের প্রয়োজন পড়ে। এ সংক্রান্ত একটি চাহিদা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আসলে আলী নূর তৎকালীন মন্ত্রী দিপু মনির তদ্বিরে নির্বাহী প্রকৌশলীকে চাপ দিয়ে সিভিল এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর বদলে নিজে এ দায়িত্ব বাগিয়ে নেন।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর চাঁদপুর একজন সৎ ও দক্ষ জেলা প্রশাসক পদায়ন হলে উক্ত মূল্য নির্ধারণ পুনরায় করার জন্য গণপূর্ত বিভাগে প্রেরণ করেন। তখন উক্ত স্থাপনার মূল্য আগের ছেয়ে অর্ধেক হয়ে যায়।
জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতির অর্থ দিয়ে চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস ও পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন প্রায় ৫০ শতক জমি নামে-বেনামে কিনে নেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আলী নুর। নিজ নামে গড়ে তলেন একটি বহুতল ভবন। এছাড়াও জমি কেনাবেচা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তিনি। উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোঃ ফিরোজকে প্রভাব বিস্তার করে পার্শ্ববর্তী অধিবাসীর জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ইউএনও ও নির্বাহী প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে ভবন মালিক এর সমাধান পান।
চাঁদপুর ছাড়াও দুর্নীতির অর্থে আলী নূর ঢাকার মিরপুর এর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। একই এলাকায় তার নামে-বেনামে আরো সহায়-সম্পদ আছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা বলার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আলী নূরের সাথে ফোনে কথা হলে এ সকল বিষয় ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে সত্যতা থাকলে লিখে দেওয়ার জন্য বলে দেন। (ক্রমশঃ)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাঙালি সংবাদ