ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান ছবির ক্যাপশন:
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাকির হোসেন খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। 
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। 
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, একই আইনের ৫ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। 
নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে। আর কমিশনার ড. জাকির হোসেন খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের বিস্তারিত কর্মপরিচয় প্রজ্ঞাপনে দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত ২ জুলাই দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানোর জন্য এসব জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছিল।
আইন অনুযায়ী, দুদক সর্বোচ্চ পাঁচজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে এবং তাদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন। কমিশনার হওয়ার জন্য আইন, বিচার, প্রশাসন, শিক্ষা, হিসাব-নিরীক্ষা, শৃঙ্খলা বাহিনী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে।
কর্মজীবন
জনাব আসাদুজ্জামান ১৯৮৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৮৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন। জনাব আসাদুজ্জামান ২৫ অক্টোবর ২০০১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। 
জনাব আসাদুজ্জামানকে ২৭ আগস্ট ২০০৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ১৫ জুন আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মাহমুদুল হককে হাইকোর্ট বিভাগে জামিন ও আপিল আবেদনের শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৩১ জুলাই আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমান ২০০৮ সালের কর ফাঁকির মামলায় গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ১০ বছরের কারাদন্ড বাতিল করেন। ২০১৬ সালের ৭ জুন আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি আতাউর রহমান খান ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে জামিন দেন। আনামের বিরুদ্ধে ৬৫টি মানহানি ও ১৭টি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ ৮২টি মামলা রয়েছে। ২৬ নভেম্বর ২০১৭-এ আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনারকে জামিন দেন। জনাব আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান ২৩ জুলাই ২০১৮ কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার সম্পর্কে মন্তব্যের বিষয়ে একটি মানহানির মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই জামিন দেন। ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান কুমিল্লায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২০১৫ সালের একটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। 
২০১৯ সালের ২০ জুন আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান ২০১২ সালের একটি হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওযামী লীগের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে জামিন দেন। 
১৪ অক্টোবর ২০২০ সাল-এ আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের পরিবারের সদস্যদের জামিন দিতে অস্বীকার করেন। 
২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দো সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন।  



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স