ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কতিপয় গণপূর্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর ডেভলপার ব্যবসা!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 25, 2026 ইং
কতিপয় গণপূর্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর ডেভলপার ব্যবসা! ছবির ক্যাপশন: ঘড়ির কাটার দিকে: উসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু, সহকারী প্রকৌশলী ই/এম গোলনাহার, উপসহকারী প্রকৌশলী ই/এম আব্দুর রউফ তালুকদার ও সকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাসার
ad728

জয়নাল আবেদীন যশোরী ও নাসির হোসেন:

সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা বিধিকে লংঘন করে চাকরির পাশপাশি ডেভলপার ব্যবসা (ভবন তৈরী করে এপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট বিক্রি) করছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কতিপয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। গণপূর্ত সাভার ডিভিশনের সদ্য সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনুসহ পাঁচজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মিলে এ ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। 

সরকারি চাকররি পাশাপাশি ব্যবসা করা সাধারণ নিয়মে সর্ম্পূণ নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বধিমিালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকাররে পূর্বানুমোদন ছাড়া সরাসরি কোনো ব্যবসায় বা বাণজ্যি চালাতে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে লাভজনক পদে কাজ করতে পারবনে না। 

নির্মিত একটি ভবনের নেইম ফলক

 

বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল নিয়মগুলো হলো: 

মালিকানা ও পরচিালনা: কোনো সরকারি কর্মচারী নিজ নামে বা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সরাসরি কোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। এমনকি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যাংক বা অন্য কোনো কোম্পানির ব্যবস্থাপনাতেও অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। 

অনুমোদতি ক্ষেত্র: সরকার চাইলে জনর্স্বাথে কোনো কর্মচারীকে বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমোদন দিতে পারে। তবে সাধারণত সমবায় সমিতি, সাহিত্য বা শিল্পর্কমে জড়িত থাকা বা খন্ডকালীন বই লেখা ইত্যাদি কাজের জন্য পূর্বানুমতির দরকার হয়।

শাস্তি: সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধির লঙ্ঘন গুরুতর অসদাচরণ হিসেেেব গণ্য হয়। সরকারি র্কমচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, এই নিয়ম অমান্য করলে তিরস্কার, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, পদাবনতি, এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো শাস্তি হতে পারে।

উত্তরায় নির্মাণ সাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মিলাদ মাহফিলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মিজান ও তার পঙ্গ পালের সদস্যগণ 

এক অভিযোগে জানা যায়, সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু ও মিজানুর রহমান (বর্তমানে শেরেবাংলা নগর ১নং বিভাগে) মিলে ২০০০ সালের দিকে সাভার ডিওএইচএস এলাকায় এই ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে উপসহকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাসার (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬ কথিত প্রহসনের লটারি ই/এম ১নং বিভাগে বদলীকৃত ), উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ (উপসহকারী প্রকৌশলী গণপূর্ত ঢাকা ই/এম জোন লটারির মাধ্যমে টাঙ্গাইলে বদলী) ও ই/এম সহকারী প্রকৌশলী গোলনাহার (কথিত লটারির মাধ্যমে ই/এম সার্কেল ৩ থেকে ই/এম ২নং সার্কেলে বদললীকৃত) এই ব্যবসায় বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করে শিল্পপতির খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তারা কৌশলে একজন ঠিকাদারকে সাথে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের নামে ডালাস ডেভলপারস এন্ড প্রোপর্টিজ লিমিটেড নামে সাভার ডিওএইচএস এলাকায় ভবন তৈরী করে ফ্ল্যাট/এপার্টমেন্ট আকাড়ে বিক্রি করছেন। উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনুর ভাই জুয়েল সার্বক্ষণিক সাইটে অবস্থান করে কাজগুলোর দেখাশুনা করছেন। 

 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডালাস এন্টারপ্রাইজের নামে সাভার নবীনগর ডিওএইচএস এর রোড নং-৬, প্লট নং ১১৯ ও ১২০ নং প্লটের ভবন দুটো ইতোমধ্যে কাজ শেষ করে রেডি ফøাট আকাড়ে বিক্রি শুরু করছেন। এছাড়া একই এলাকার ৩নং রোডে ১টি ও ৯নং রোডে ২৬৯, ২৭০ ও ২৭১নং প্লটে ভবনের কাজ চলমান আছে এবং ডালাস ডেভেলপারস এন্ড প্রোপার্টিজ এর নামে ফ্ল্যাট বিক্রির প্রচারনা চালানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে বাড়ি-৯৬৯ (২য় তলা), রোড নং-১৫, এভিনিউ-২, মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা-১২১৬। 

 

অভিযোগে র্জানা যায়, উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু চাকরির শুরু থেকে প্রায় ১২ বছর যাবৎ সাভারে ছিলেন। মিজানুর রহমান মিজান প্রায় ১০ বছর সাভার স্মৃতিসৌধ এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। এই দুই উপসহকারী প্রকৌশলী ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরা থেকে উত্তরা-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে  সাভার ইপিজেড অংশের ক্ষতিপূরণের ভ্যালুৃয়েশন কাজে জড়িত থেকে শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই রোডের আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকার গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ধরণের শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের টাকা বাড়িয়ে নিতে বা বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিতে বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে এই দুই উপসহকারী প্রকৌশলীর অফিসে ঘুরেছেন। জানা যায়, ওই সময়ে সাভার জামগড়া এলাকায় ব্যক্তিগত অফিস খুলে সন্ধ্যার পড়ে সেখানে অবস্থান করে শিল্প মালিকদের সাথে দেনদরবার করতেন এই দুই উপসহকারী প্রকৌশলী। আভিযোগ রয়েছে জামগড়া এলাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ ৩ কোটি টাকার জায়গায় ১৫ কোটি করে তার শিল্প মালিকের কাছ থেকে ৭ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওই মালিক পরে ১৫ কোটি টাকাই ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। ওই ভ্যালুয়েশন কাজে জড়িত থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু ও মিজান প্রত্যেকেই কম করে হলেও অর্ধশতাধিক কোটি টাকার মালিক। (ক্রমশঃ) 




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন