ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাদারীপুর টেকেরহাটে পাউবো’র জমি দখলের মহোৎসবঃ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
মাদারীপুর টেকেরহাটে পাউবো’র জমি দখলের মহোৎসবঃ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ! ছবির ক্যাপশন: শহীদ শেখসহ প্রভাবশালী অনেকের বিরুদ্ধে বেদখলের অভিযোগ
ad728
বিশেষ প্রতিনিধি: 
মাদারীপুর জেলার টেকেরহাটে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা-জমি নিয়ে চলছে দখলের মহোৎসব। দায়িত্বশীলদের যোগসাজশে পাউবোর সম্পদ নিয়ে হরিলুটে মেতেছেন স্থানীয়রা। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ২৮নং নাগরদী মৌজায় বি আর এস ৪১৮৩ নং দাগ.যা বিআরএস ৪নং খতিয়ানের জমি। জমিটুকু পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নামে রেকর্ডভূক্ত তথা সরকারী সম্পত্তি। কিন্তু উক্ত সম্পত্তি স্থানীয় শহীদ শেখ, পিতা মৃত সফিজ উদ্দিন শেখ, রাজৈর থানার মাদারীপুর জেলা ও স্থানীয় সাবেকইউুপ মেম্বার তৈয়ব শেখ বেদখল করে আছে। এই দুই ভূমিদস্যু ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে শুরু করে এখনো বহাল। শুধু তাই নয়, রিতিমতো দোকান পজিশন তৈরি করে ভাড়া দিয়ে  ব্যবসা শুরু করেছেন তারা। 
মাদারীপুর জেলা রাজৈর উপজেলায় পাউবো’র জমি দখল করে, বসতি ও দোকান ঘর নির্মাণ। তাহলে কি জোর যার জমি তার, আইন আছে প্রয়োগ নাই? 
সরকারি জমি দখল করলে রাষ্ট্রের আইন কি বলে.. 
পাউবো’র জমি বা সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল বা জবর দখল করলে দন্ডবিধি ১৮৬০ এবং সংম্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। দন্ডবিধির ৪৪৭ ও ৪৪৮ ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে জমি দখল বা ঘরে প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড, অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডি হতে পারেন [০.৫.১]।
জমি দখলের শাস্তিসমূহ (কারাদন্ড ও অর্থদন্ড): সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বা দখল করলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ করা হয় এবং শাস্তিস্বরূপ কারাদন্ড বা জরিমানা করা হয় [০.৫.৩]। 
উচ্ছেদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে পাউবো উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে এবং অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে পারে [০.৫.৪]। রেকর্ড সংশোধনী: দখলকৃত জমির রেকর্ড সংশোধন করে অবৈধ দখল বা দলবদ্ধ দখল: যদি একাধিক ব্যক্তি মিলে (দলবদ্ধভাবে) জমি দখল করে, তবে তা দন্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ধারা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তাহলে  আইন আছে প্রয়োগ করা হচ্ছে না কেন? এই দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে, তবে  কি পাউবো অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী সিন্ডিকেট জড়িত?
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাউবো’র বেদখল হওয়া প্রায় একশো একর সম্পত্তি উদ্ধারে ইতোপূর্বে জনস্বার্থে সচেতন মহল থেকে সরকারের সব প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ করে এখন ভূমিদস্যুদের সন্ত্রাসী হুমকির মুখে দিনাতিপাত করছে তারা।
বিশেষ সুত্রে জানা যায়, এদের পেছনে রয়েছে বিশাল অদৃশ্য শক্তি। এ কারণে তারা অবৈধভাবে পাউবো’র জমি দখল করে দোকান পাট তৈরি করে বসবাস করছে,এবং দোকানপাট করে ভাড়া আদায় করছে।  
এদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ করলে,পাউবো সরেজমিনে তদন্ত করে উচ্ছেদের চিঠি দেয়। কিন্তু চিঠি দেওয়ার পর, ভূমিদস্যু শহীদগং  আই কে বৃদ্ধাআংগুল দেখিয়ে বসতি নির্মাণ করেই যাচ্ছে। এই দখলদার ভূমিদস্যুদের কবল থেকে পাউবো’র জমি উদ্ধার করতে চিঠি দেওয়া হয়। যার স্মারক নং ১/২০২৬/১, তারিখ ২৮/০১/২০২৬ এবং স্মারক নং টেকের-১/২০২৬/২, তারিখঃ ০৭/০৪/২০২৬। কিন্তু  চিঠি দেওয়ার পরেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা  সম্ভব হচ্ছে না কেন? তাহলে কি লোক দেখানো চিঠি দেওয়া হয়েছে? শহীদ শেখদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। এদের খুঁটির জোর কোথায়? 
পাউবো’র অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল ও অবৈধ স্থপনা অপসারণ করতে, অত্র দপ্তরের সার্ভেয়ায় মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি গত ২৮-০১-২০২৬ তারিখে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ২৮নং নাগরদী মৌজায় বি.আর.এস ৪১৮৩ নং দাগ, বি.আর.এস ৪নং খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তি বাংলাদেশ পাউবো’র নামে রেকর্ড করা আছে। তবে পাউবো’র  সম্পত্তি উদ্ধার করতে উদ্যোগ নেওয়া হয় গতানুগতিক ভাবে।  কিন্তু সম্পত্তি থেকে ভূমিদস্যু শহীদ শেখদের উচ্ছেদ করা সম্ভব  হয়নি, কারণ এরা রাষ্ট্রের আইন মানেন না। এদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ যে সরকারি সম্পত্তিতে সেমিপাকা টিনসেড ঘর নির্মাণ করে এবং শ্রেণী পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বহালতবিয়তে যা সম্পুর্ন আইনবহির্ভূত ও অবৈধভাবে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধভাবে সরকারি জমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে। 
এই নির্মাণকৃত অবৈধ সেমিপাকা টিনসেড ঘর ও দোকানপাট সরিয়ে পাউবো’র সম্পত্তি খালি করে দিতে বলা হয়। যদি খালি করা না হয়. তাহলে ইমারত গুড়িয়ে দখল পুনরুদ্ধার করবে এই অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী। অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এই সব অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে পাউবো’র  বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে কেন এতো গড়িমসি? এই ভূমিদস্যু শহীদ শেখদের এর ক্ষমতার কাছে মাদারীপুরের প্রশাসন কি অসহায়? দেশপ্রেমিক সচেতন মহল থেকে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনসহ সকল দপ্তরে অভিযোগ করে চিঠির মাধ্যমে।
রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ বা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে [০.৫.৬]। বিশেষ সতর্কতা: পাউবো’র অধিগ্রহণ করা সম্পত্তিতে কোনো ধরনের ভবন, পাকা স্থাপনা বা ঘর নির্মাণ করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং উচ্ছেদযোগ্য [০.৫.৩]। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জমি দখল করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় [০.৫.৭]। তবে রাষ্ট্রের  আইন যদি ভূমিদস্যুদের জন্য সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তাহলে, 
 সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয় না।  অবৈধ দখল দারদের বিরুদ্ধে পাউবো স্থানীয় প্রশাসন আইনের প্রয়োগ করছে না এমন গুঞ্জন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তাহলে কি মোটা অংকের টাকার খেলা চলছে অদৃশ্যে? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। 
এই সব অনিয়ম ও সম্পত্তি বেদখলের বিষয় জানতে পাউবো’র মাদারীপুরে দায়িত্ব রত কর্মকর্তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে. প্রকৌশলী শাজাহান বলেন আমরা চেষ্টা করেছি। তবে জেলা প্রসাশনের সহযোগিতা লাগবে এবং আপনি ইঞ্জিনিয়ার সানাউল্লাহর সাথে কথা বলেন- উনি বিষয়টা ভালো বলতে পারবেন। এবার আমরা যোগাযোগ করি সানাউল্লাহর সাথে। তিনি বলেন শুধু রাজৈর নয় এমন অনেক জমি উদ্ধার করতে পারছিনা বাজেটের কারণে। তবে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মহাদেয়ের সহায়তা চেয়েছি। এবং প্রতিবছর আমাদের বাজেট হয় গাছ লাগাতে বা পাউবো’র কাজে ব্যবহার করতে। এবার আমরা যোগাযোগ করি সার্ভেয়ার ফরহাদ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন-আমরা নোটিশ করেছি উচ্ছেদের জন্য। মূল সমস্যা আমাদের ফান্ড দরকার। তাও চেয়েছি মন্ত্রণালয়ে। তবে আপনি এই সব খবর পেলেন কার কাছে। তাছাড়া এই তৈয়ব আলী শেখ বা শহীদ শেখ না আরও অনেক বিরুদ্ধে আমরা উচ্ছেদের জন্য চিঠি দিয়েছি। এর পর আমরা যোগাযোগ করি সাবেক মেম্বার তৈয়ব শেখের সাথে। তিনি বলেন, এইখানে হাজার হাজার মানুষ পাউবো’র জমি দখল করে বসতি নির্মাণ করে আছে। তবে সরকার জখম চাইবে জমি ছেড়ে দিতে হবে এখন খালি পড়ে আছে তাই সবাই দখল করে বসতি নির্মাণ করে আছে। তবে দখলদার শহীদ শেখের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি একটা অফিসে আছি পরে কথা হবে।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
কারওয়ান বাজারে কাঠের দোকানে আগুন

কারওয়ান বাজারে কাঠের দোকানে আগুন