বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের চার দেয়াল পেরিয়ে, জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় জনগণের সামনে উন্মুক্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নিয়েছেন। সরকার গঠন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারেক রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি-১৯৮২) এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে স্থানান্তরিত হন। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি।
খালেদা জিয়া সারা দেশে যখন স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন, তারেক রহমান তখন স্কুল-কলেজ পর্ব পার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলে উৎসুক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন, ‘ক্যাম্পাসের বড় ভাই, ক্যাম্পাসে স্বাগতম’। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে কৌতূহল বাড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে প্রায় দুই মাস ক্লাস করার পর তিনি বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। দুই বিভাগে অধ্যয়নকালে তার সহপাঠীর সংখ্যা ছিল মোট ১২২ জন। এর মধ্যে আইন বিভাগে ছিলেন ৭৭ জন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ছিলেন ৪৫ জন সহপাঠী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করেন, তাদের তথ্যই সংরক্ষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সংরক্ষিত পুরোনো শিক্ষার্থীদের তথ্য থেকে আরও জানা যায়, তারেক রহমান স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
আইন বিভাগের সহপাঠী ৭৭ জন
১. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২. ফারাহ মাহবুব ৩. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ৪. তাহমিনা আহমেদ ৫. মালেকা বাহার শামসী ৬. আজিজ আহমদ ৭. শামিমা আওশর রহমান ৮. মুবিনা আসাফ ৯. ফাহমিদা মারিয়াম ১০. জাহান আরা রহমান ১১. সানাইয়া ফাহীম আনসারী ১২. এহসানুল হাবীব ১৩. মুফাসসিল মুহাম্মদ মাজহার ১৪. আহমেদ ফয়সাল ১৫. শেখ আবু তাহের ১৬. মাহবুবা নাসরীন ১৭. পল্টু কুমার সিকদার ১৮. স্মৃতি কর্মকার ১৯. মো. শফিকুর রহমান ২০. মো. ইমাম হোসেন ২১. সাবেরা সোবহান ২২. সুফিয়া খাতুন ২৩. আব্দুন নাসের খান ২৪. মো. রফিকুল ইসলাম ২৫. জামিলা খাতুন ২৬. মো. মাহবুব-উল-আলম ২৭. মো. হেলাল উদ্দিন ২৮. কনিকা নারী সরকার ২৯. সুলতানা লিজা ৩০. সানিয়া সুলতানা ৩১. নাসরীন ফেরদৌস ৩২. অপূর্ব কুমার কর ৩৩. জাকিয়া পারভিন ৩৪. জওহর লাল দাশ ৩৫. মাহফুজা আহমেদ ৩৬. শফিকুল কবীর খান ৩৭. নারায়ন চন্দ্র মন্ডল ৩৮. সৌরেন্দ্র নাথ মন্ডল ৩৯. মো. মফিজুর রহমান ভূঞা ৪০. সায়কা তুহীন ৪১. ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তী ৪২. গোলক চন্দ্র বিশ্বাস ৪৩. পারভীন আফরোজ ৪৪. মনজুর মোরশেদ ৪৫. নরেশ চন্দ্র সরকার ৪৬. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ৪৭. লিয়াকত আলী মোল্লা ৪৮. শেখ মফিজুর রহমান ৪৯. আ ন ম আনিসুর রহমান পাটোয়ারী ৫০. মো. ইকবাল কবির ৫১. মো. কায়সার আহমেদ ৫২. ফারিহা হুদা ৫৩. মো. জাহাঙ্গীর আলম ৫৪. মো. রেজা আলী ৫৫. আবু বকর সিদ্দিক ৫৬. গগাঙ্ক শেখর সরকার ৫৭. আসমা জাহান ৫৮. নাহিদা সুলতানা ৫৯. মো. হাবিবুল্লাহ শিকদার ৬০. সাহানা কাদের চৌধুরী ৬১. শাহনাজ বেগম ৬২. মো. আব্দুস সামাদ আজাদ ৬৩. সুফিয়া খাতুন ৬৪. মো. হুমায়ুন কবির ৬৫. মো. জাকির হোসেন ৬৬. মো. আব্দুল মান্নান ৬৭. মো. হুমায়ুন কবির ৬৮. মো. দেলোয়ার হোসেন ৬৯. মো. আাবু সাঈদ ৭০. মো. তৈয়ব আনোয়ার ৭১. নাজির আহম্মেদ ৭২. কাজী মিজানুর রহমান ৭৩. এ,টি,এম, এমরুল আহমেদ ৭৪. মো. ওসমান গনি ভূঁঞা ৭৫. মো. আজমীর ফকির ৭৬. মো. নুরুল ইসলাম ৭৭. মো. মোস্তাফিজুর রহমান
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪২ জন
১. মো. এনায়েত মাওলা ২. মুহা. রুহুল আমীন ৩. মো. জসীম উদ্দিন ৪. সৈয়দ মাহমুদ আক্তার ৫. দেলোয়ার হুসেন ৬. স্বপ্না জুলিয়েট কেরোলীনা 7 . মো. ফুয়াদ রেজা ৮. পলিন মেরী কুইয়া ৯. ফজলে ইলাহি মাহমুদ ১০. মো. রুহুল আমিন ১১. তাহসীন মাহবুব ১২. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ১৩. শাহীন আক্তার ১৪. ফারহানা আমীন ১৫. শারমিন নছিমা বানু ১৬. এস.এম. মাহমুদ হাসান ১৭. স্নিগ্ধা চক্রবর্ত্তী ১৮. ফৌজিয়া আহমেদ ১৯. জি. এম. আবুল কালাম ২০. কানিজ সাইয়েদা হায়দার ২১. বি.এম. বেনজীর আহমেদ ২২. গোলাম ফারুক ২৩. মো. সামছুদ্দোহা ২৪. কাজী জাহিদ হোসেন ২৫. ফারহানা জাহান ২৬. রহিমা হক ২৭. জিনাত আরা চৌধুরী ২৮. মো. বদিউজ্জামান ২৯. গোলাম মোহাম্মদ ৩০. মো. এবাদুর রহমান ৩১. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ৩২. ফারহানা ৩৩. মো. আলমগীর হোসেন ৩৪. আফরোজা আক্তার ৩৫. সাহিদা শিকদার ৩৬. মো. মাজহারুল হক ৩৭. শায়লা পারভীন ৩৮. উম্মে সালমা ৩৯. রাহী রহমান ৪০. আসমা ভূঁইয়া ৪১. দিলরোজ বেগম ৪২. মো. রেফাতুল ইসলাম ৪৩. এলিজাবেথ ডি. কস্তা ৪৪. মো. বদরুল ইসলাম ৪৫. মো. শামসুদ্দীন হোসেন
আইন বিভাগে তারেক রহমানের সিনিয়র ছিলেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তারেক রহমানের সহপাঠীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অতি পরিচিত মানুষ রয়েছেন। তারা হলেন, সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বর্তমান ফারাহ মাহবুব। তখন এরশাদ ক্ষমতায় ছিল। এরশাদ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। সম্ভবত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারেক রহমানের ঢাবির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।