ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আলাদ্দিনের চেরাগ পেলেন কুমিল্লা এলজিইডি উপসহকারী প্রকৌশলী একরাম!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 20, 2026 ইং
আলাদ্দিনের চেরাগ পেলেন কুমিল্লা এলজিইডি উপসহকারী প্রকৌশলী একরাম! ছবির ক্যাপশন: প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ! দুদকের অনুসন্ধান শুরু
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক পেয়েছেন আলাদ্দিনের চেরাগ। চাকরি নামক হাতিয়ারকে ব্যবহার করে পদ ও পদবীর সাহায্যে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা পার্সেন্টেজ বাণিজ্য কাজের সাইট ভিজিটের নামে নগদ ঘুষ আদায় বিবিধ অপকর্মের নামে ওই চেরাগ ঘষে ঘষে হয়েছেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মাািলক। তিনি দশম গ্রেডের কর্মকর্তা। মাসিক বেতন পান ৪৯ হাজার টাকা। তা সত্ত্বেও বিস্ময়করভাবে এই জুনিয়র এলজিইডি কর্মকর্তা নিজে ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সহায়-সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অবৈধ টাকার গরমে সুন্দরী কলগার্ল (আই ক্যান্ডি) নিয়ে কক্সবাজার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকেশনে প্রমোদ ভ্রমনের তথ্য প্রমাণাদি পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, তার অবৈধ সহায়-সম্পদের রাজ্যে আছে-রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি, ব্যাংকে বিপুল নগদ অর্থসহ নামে-বেনামে ভূসম্পদসহ বিভিন্ন সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যংকে নগদ প্রায় কোটি টাকা।  নানা সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 
আারো জানা যায়, তিনি ০১-১১-২০২০ইং থেকে কুমিল্লা এরলজিইডিতে আছেন। আ’লীগ সরকারের সময়ে কুষ্টিয়ার এমপি ও আ’লীগের যগ্ম সম্পদক মাহাবুবুল আলম হানিফের প্রভাব খােিটয় সহকর্মীদের ওপরে আত্যাচার নির্যাতনের স্ট্রীমরোলার চালিয়েছেন। জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে তিনি গিরিগিটির ন্যায় রং পাল্টিয়ে নিজেকে বঞ্চিত সাজিয়ে লুটপাটের ঘাটি গেড়ে বহালতবিয়তে আছেন কুমিল্লাতেই। বর্তমান সময়েও তিনি কুমিল্লা এলজিইডির উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের নামে উর্দ্ধতনদের নামে কাড়ি কাড়ি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এই লুটেরা উপসহকারী প্রকৌশলী। বিষয়গুলো নিয়ে ইতোপূর্বে সংবাদ প্রকাশিত হলে একরামের দুর সম্পর্কীয় ভাই পরিচয়ে এক কথিত সাংবাদিক তার পক্ষে দালালি করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল আছে কুষ্টিয়ায়। আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্বব সম্পদের বড় ধরণের অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপণ রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। তবে কী কারণে সেই সম্পদ নিজের নামে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তিযুক্ত স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। 
অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মূলত গৃহিণী। এতো বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব।” 
বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট: একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। খতিয়ান নম্বর ১১৬৭৮-এর এই প্লটের বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই প্লটের নামজারির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের কপিও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে। 

তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই।” 
কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও জমির পর জমি: একরামুল দম্পতির সম্পদের বড় অংশ আছে কুষ্টিয়া জেলায়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। 
চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
এছাড়া কুষ্টিয়া সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে একরামুলের। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট ও ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিও কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ: স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামেও একাধিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। 
পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিক একরামুল হক। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজার ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পান বরজ করেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
 

এছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। একই এলাকায় বিপুল কৃষিজমিও রয়েছে তার নামে। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। 
একই মৌজা ও খতিয়ানে আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে ২৯৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ বিঘা জমির মালিক একরামুল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে একরামুল দম্পতির বিপুল অর্থ। অনুসন্ধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একরামুলের একাধিক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। 
এসব হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে।
দুদকের নজরদারিতে একরামুল দম্পতি: দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একরামুল হক বলেন, “আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে, তা আসলে আমার ভাইয়ের। ভুলক্রমে অনলাইন ডকুমেন্টে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।”   (ক্রমশঃ)




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না