ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। নিয়মিত একটি পরীক্ষামূলক মিশনে থাকা বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের রানওয়ের কাছে আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। বিবিসি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয় এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিমানবাহিনী।
বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড্ডয়ন করেছিল আট ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই জেটচালিত যুদ্ধবিমান। দুর্ঘটনার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে সেখানে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।
এক সংবাদ সম্মেলনে এডওয়ার্ডস ঘাঁটির কর্নেল জেমস হেইস বলেন, "আমরা এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছি। আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি।" তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মকর্তা, সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের দুই কর্মী ছিলেন। নিহতদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করা পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।
বিমানবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত বিমানটি একটি রাডার আধুনিকীকরণ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নিয়েছিল। তবে কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধানে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। রানওয়ের ক্ষতির কারণে এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন কেন্দ্র। ১৯৪৭ সালে এখান থেকেই ইতিহাসের প্রথমবারের মতো শব্দের গতির বাধা অতিক্রম করা হয়। নাসার স্পেস শাটলের প্রথম অবতরণসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু ঐতিহাসিক উড্ডয়ন কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ঘাঁটির নাম।
বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু শক্তির অন্যতম প্রধান ভরসা। ১৯৫০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা এই যুদ্ধবিমান প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড অস্ত্র বহন করতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত বোমা বহনের সক্ষমতা রয়েছে এর। আকাশেই জ্বালানি গ্রহণের সুবিধা থাকায় দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে বিমানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্কিন বিমানবাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বি-৫২ বহরের নিরাপত্তা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।