ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত গণপূর্ত কাঠের কারখানা!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 20, 2026 ইং
প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত গণপূর্ত কাঠের কারখানা! ছবির ক্যাপশন:
ad728
জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ॥ 
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিট। দপ্তরটিতে ভর করেছে কালা জাহাঙ্গীর নামক এক স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা। তবে এই জাহাঙ্গীর তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীর নয়। তিনি হচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। যিনি গণপূর্ত প্রকৌশলী মহলে কালা জাহাঙ্গীর নামে ব্যাপক পরিচিত। পদ ও পদবীকে ব্যবহার করে লুটপাটে স্পেশাল পদ্ধতি বা টেকনিক ব্যবহার করে কাঠের কারখানা বিশেষ ইউনিটকে উত্তরাধিকার হিসাবে প্রাপ্ত সম্পদ বা ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছেন তিনি। আইনকানুন বা বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে বা নিময়নীতির ফাঁক গলিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছেন এই দপ্তরটিকে। ফার্নিচার সাপ্লাাইয়ের নামে টেন্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন স্টাইলে পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের মাধ্যমে চলতি জুনসহ দুই জুন ক্লোজিংয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কম করে হলেও ২০কোটি টাকা। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধূর্ততায় শিয়ালকে হার মানানো এই প্রকৌশলী চাকরির শুরু থেকে  একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনগুলোতে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সময়ে একটানা প্রায় ৭বছর ছিলেন ই/এম ২নং ডিভিশনের দায়িত্বে। সেখানে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারী ব্যবসাসহ লুটপাটের হোলিখেলায় মেতে সাবেক প্রধান বিচারপতির বাসায় অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনায় তাকে রাজশাহীতে বদলী করা হয় ২০২৪ সালে। কিন্তু ৬মাস যেতে না যেতেই ফ্যাসিষ্ট সময়ে নিজেকে বঞ্চিত দেখিয়ে কাড়িকাড়ি টাকা পয়সা খরচ করে কাঠের কারখানা বিশেষ ইউনিটে ফিরে আসেন জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর অবাধে মন্ত্রীর দপ্তরের পিএস, এপিএস এবং মন্ত্রীর কাছের লোকসহ আত্মীয়-স্বজন এমনকি চীফ ইঞ্জিনিয়ারের ভাই, ভাগিনাদের মাধ্যমে স্পেশাল টেকনিকে ম্যানেজ করে নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখাসহ পোস্টিং বাণিজ্যে তৎপর। তাদেরকে ঢাকার বিভিন্ন নামীদামী বার, রেস্টুরেন্টে ‘হ্যাপি এন্ডিং’ করিয়ে কাজ ভাগিয়ে নেয়ায় বিশেষ এক্সপার্ট হচ্ছেন এই কালা জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০০ বেড থেকে ২৫০বেড সম্প্রসারণের প্রকল্পটি গণপূর্তূ কাঠের কারখানা বিভাগে আসলে কাঠের কারখানা বিশেষ ইউনিট এর নির্বাহী প্রকোশলী কালা জাহাঙ্গীর তৎপর হয়ে উঠেন সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নিতে। পূর্বের ন্যায় তিনি বিভিন্ন কোম্পানিকে সাথে নিয়ে ছকে একেছেন কিভাবে এই কাজের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা লোপাট করা যায়। এ কারণে আকতার ফার্নিচার, হাতিল, ফার্নিচার কনসেপ্ট, প্রাণ আরএফএল, নাদিয়া, ডট ফার্নিচার এন্ড ডেকোর লিঃ এবং অটবি লি: এর মত কোম্পানিগুলোকে চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও পূর্তমন্ত্রীর ভাই, ভাগিনা, আত্মীয় পরিচয়ে মোটা অংকের কাজে একটা পার্সেন্টেস দিতে হবে বলে নিজ দায়িত্বে টাকা তুলেছেন তাদের কাছ থেকে। সৈয়দ কামরুজ্জামান সোহেল নামে এক লোক এর মাধ্যমে চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে বড় অংকের টাকা দিয়েছেন তার এই দুর্নীতি লুটপাটে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য-এমন তথ্য দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র। এই সোহেল চীফ ইঞ্জিনিয়ারের ভাগিনা হিসাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে পরিচিত। এছাড়াও প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর অতীতের ন্যায় একটি টেন্ডার আইডির বিপরীতে ৫/৬ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গোপণ রেটকোড দিয়ে দেন। এভাবে ১টি টেন্ডার আইডির জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ৫/৬ জনের কাছে আইডি বিক্রি করে পরবর্তীতে আবার তার পছন্দের কোম্পানিকে দিয়ে টেন্ডার জমা দিয়ে যে বেশী পরিমাণ টাকা দিতে পারে কাজটির টেন্ডার তাকে পাইয়ে দেওয়া হয়। হাতিল কোম্পানি এমনটি মানতে না চাওয়ার কারণে হাতিলকে কোন কাজ না দেওয়ায় হাতিল কমপ্লেক্স ৭টি টেন্ডারের সবকটিতেই টেন্ডার জমা দিয়েছে। কিন্তু প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর পছন্দের কোম্পানি ফার্নিচার কনসেপ্টকে নিয়ে লুটপাটের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে। লোকমুখে শুনা যাচ্ছে ফার্নিচার কনসেপ্ট এর মালিক জনি ও জাহাঙ্গীর পূর্ব থেকেই পরিচিত। তারা দু’জনেই ফ্যাসিস্ট আ’লীগ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সেই সুবাদে বিভিন্ন প্রকল্পে ফার্র্নিচার কনসেপ্টকে দিয়ে কাজ করাতে পারলে সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা ভাগ যায় মন্ত্রীর নামে, চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও বিভিন্ন মহলে। টাকা নেওয়ার উদ্দেশে প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর এমনটিই বলে বেড়াচ্ছেন ঠিকাদার মহলে।
এছাড়া সর্বশেষ ২৩ গ্রুপ কাজে বিভিন্ন কোম্পানি ছাড়া দলীয় পদধারী লোকজনের নামে কয়েকশ’ কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন এমন কিছু স্থানীয় বিএনপি লোকজনের সাথে আলোচনা করে জানতে পাওয়া যায়, এই তথ্য পুরোপুরি ভূয়া। এটি প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীরের একটি বিশেষ কৌশল মাত্র। তিনি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে আ’লীগ ও বিভিন্ন জেলা পর্যার্য়ের লোকজনের নামে-বেনামে কাজ দিয়ে ফ্যাসিস্টদের পূনঃ বাসনে অর্থায়ন করতেছেন। ওই ২৩টি গ্রুপের মধ্যে প্রায় সবগুলোর টেন্ডার করে ফেলেছেন তিনি। এই সব টেন্ডারে নিজের পছন্দের কোম্পানিকে কাজগুলো দেওয়ার জন্য টেন্ডার শর্ত পরিবর্তন বা শিথিল করা হয়। কখনো সরাসরি মেনুফ্যাকচারার চাওয়া হয় আবার অথোরাইজেশন এলাউ করা হয়। কারণ একটাই নিজের পছন্দের লোক যাদের কাঠের কাজের অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব কারখানা নাই এমন সব লোকদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এমনও অভিযোগ আছে যে, ১ কোটি ২০ লাখ টাকার কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওই সকল কনস্ট্রাকটরদের এমন অভিজ্ঞতা সনদ নাই। ঠিকাদারদের মধ্যে জনশ্রুতি আছে- ভুয়া সাটিফিকেট দাখিল করে কাজগুলো ভাগিয়ে নিয়েছে। এতে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটিতে যারা আছেন তারা মোটা অংকের টাকা লেনদেন করেছে বলে অভিযোগ আছে। এমন কয়েকটি কাজ হচ্ছে- এনআইসিভিডি, ইএনটি, নারায়ণঞ্জ নার্সিং, এজমা সেন্টার মহাখালী, পাবনা ২৫০ বেড মর্গ রুমের কাজ ও আরবান ডিসপেনসারির কাজ। এগুলোর এস্টিমেট নিয়ে এসই এক্সেন সবাই মোটা অংকের টাকা নিয়েছে সাধারণ ঠিকাদারের কাছ থেকে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চাউর হয়ে উঠেছে। ২৩ গ্রুপের ৪টি টেন্ডার বাদে সব টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ৪টি টেন্ডার নাকি ৪জন স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতার নামে দিয়েছেন-এমন কথা সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে প্রচার করিয়েছেন প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য। এই ৪টি কাজ দিয়েছেন ওনার বান্ধবী মালা নামে একজনকে ১টি (যার ফার্মের নাম মালালা এন্টারপ্রাইজ), পূর্ত মন্ত্রীর আত্মীয় ১টি- সে কাজটি করবে ডট ফানিচারের নামে, স্বৈরাচার এমপি ইলিয়াস মোল্লার লোক নির্বাহী প্রকৌশলীর পূর্ব পরিচিত একজনকে ফার্নিচার কনসেপ্ট এর লাইসেন্সে কাজটি করবে এবং সুমন নামে এক ঠিকদারকে বাকি কাজটি দিয়ে লুটপাট ও ভাগ-বাটোয়ারার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে লুটপাটে শ্যেন দৃস্টি সম্পন্ন ধুরন্ধর প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর। একইভাবে মডেল মসজিদের মত বড় প্রজেক্টগুলোতে অনিয়ম দুর্নীতি করে যেমন অদক্ষ লোকদের কাজ দিচ্ছেন তেমনি সরকারের টাকা লুটপাট করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে পূনঃ বাসন করার কাজে নীরবে সহায়তা করছেন এই কালা জাহাঙ্গীর।
এছাড়াও আকতার ফার্নিচারস্ নদীয়া ফার্নিচার, ডট, মালালা এন্টারপ্রাইজ ও ফার্নিচার কনসেপ্ট নামক কোম্পানীগুলো কয়েক কোটি টাকার বেশকিছু কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরকে স্পেশালভাবে ম্যানেজ করে বা বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। উল্লেখিত কোম্পানী ছাড়াও কোন কোন কোম্পানী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের মনোরঞ্জনের জন্য কুয়াকাটা কক্সবাজার পার্বত্য চ্ট্টগ্রামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকশনে সুন্দরী বান্ধবীসহ প্লেজার ট্রিপের ব্যবস্থা করে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে এনেছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অবৈধ অর্থের জোড়ে ইতোপূর্বে বহুল বিতর্কিত নায়িকা ‘পরিমনি’কে নিয়েও ঢাকা বোটক্লাবে বহুবার একান্তে সময় কাটিয়েছেন বলেও পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে ব্যাপক জনশ্রুতি আছে। ‘পরিমনি’ কান্ডে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকলাইনকে ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলেও একই ধরণের অপরাধ করেও সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট ও মন্ত্রণালয়ের নির্লিপ্তায় প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে। সহকর্মীদের বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্র করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আছে আরো বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ।
চাকরিজীবনে এভাবে ক্রমাগত অনিয়ম ধারাবাহিক দুর্নীতি আর লাগাতার লুটপাটের মাধ্যমে গণপূর্ত প্রকৌশলী কালা জাহাঙ্গীর বর্তমানে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে মিনার মসজিদের কাছে ২টি বিলাশবহুল স্টুডিও এপার্টমেন্ট, সাভার ও আশুলিয়ায় জমিসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাপাইনবাবগঞ্জে ২টি বিশাল আমবাগান সহকারে নামে-বেনামে অর্ধশতাধিক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে।      
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য এই প্রতিবেদক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন দিলেও কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ)



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি