আসাদ মাহমুদ ও জয়নাল আবেদীন যশোরী:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য, কথিত নিলামের নামে পানির দরে পুরাতন ভবনগুলো বিক্রি করে দেওয়া, তার ঘনিষ্ট কামিয়াব হায়দার চৌধুরীর পুত্র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াবকে অবৈধ কালেকশনের ক্যাশিয়ার নিয়োগ, সন্ত্রাসী কানেকশন, স্থানীয় সাবেক এক কমিশনারকে দিয়ে সিন্ডিকেট গঠন এবং ওই কমিশনারকে দিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ কমিশন বাণিজ্য করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে অভিযোগ। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম ঠিকাদারদের প্রায় প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর করার জন্য দশ শতাংশ (১০%) হারে কমিশন নিয়ে থাকেন। এছাড়াও এডভান্স কাজ, ইস্টিমেট তৈরী, টেন্ডার, ওয়ার্ক অর্ডার ও বিল দেওয়া তথা চেক ইস্যুর নামে কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন হারে ঘুষ নিয়ে থাকেন এই লুটেরা লম্পট হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম।
এছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপিপি বরাদ্দের ১৮২টি দরপত্র নিয়ম অনুযায়ী এলটিএম পদ্ধতিতে আহবান দেখিয়েছেন প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম। কিন্তু তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিটি দরপত্রে সিন্ডিকেট করে তিন থেকে চার চারজনকে দরপত্রে অংশগ্রহণ করিয়েছেন যাতে তাকে কমিশন দেওয়া সকল ঠিকাদারই কাজ পায়। এই কৌশলের জন্য ফয়সাল হালিম দশ শতাংশ কমিশনও নিয়েছেন সেসব ঠিকাদারের কাছ থেকে। একইভাবে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের এলটিএমগুলোর বেশীরভাগে ১/২টি করে সি্িডউল বিক্রি দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু অধিদপ্তরের অন্যান্য ডিভিশনগুলোতে এলটিএম পদ্ধতিতে আহবানকৃত প্রায় সকল দরপত্রে কমপক্ষে ৫০ থেকে শুরু ১০০ জনেরও অধিক ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেছেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী ফয়সাল হালিম তাকে কমিশন দেওয়া ঠিকাদারের বাইরে অন্য ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশগ্রহণ করার জন্য নিরুৎসাহিত করেছেন তাদের ফাইলে স্বাক্ষর না করার ভয় দেখিয়ে। এমনকি স্থানীয় সাবেক কমিশনার আজমের কাছে সকল তালিকাভূক্ত ঠিকাদারের ফোন নম্বর সরবরাহ করে প্রত্যেককে আলাদাভাবে ফোন দিয়ে সিডিউল না কেনার জন্য হুমকী দিয়েছেন সারা বছরই। আজম সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ কাজ পাইলে তাদেরকে তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী দিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে। ‘ই’ ও ‘আ’ অদ্যক্ষরের দু’জন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীর সাথে প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের দহরম-মহরম আছে বলেও জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য সূত্র। ফয়সাল হালিমের অন্যায় আবদার না শোনার কারণে ডিভিশনের দু’জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে ওই তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদ্বয়ের মাধ্যমে কঠিনভাবে শাসিয়ে দেওয়ার খবর গণপূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে চাউর হয়ে উঠেছে।
আরো জানা যায়, আজিমপুর কলোনির নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন ভবনের সার্ভে রিপোর্ট করছেন ফয়সাল হালিম। এই সার্ভে রিপোর্টের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে সরকারি রাজস্বে নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিলামের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সকল টাকা এসডিই তাওহীদ কামিয়াবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে। এভাবে পার্সেন্টেজের টাকা গ্রহণ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের হিসাব রাখা, কথিত সাংবাদিক ম্যানেজসহ তত্ত্বাবধায়ক ও প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, দুদক, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে লেনদেনের কাজটি প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের হয়ে করে থাকেন এসডিই তাওহীদ কামিয়াব।
আরও পড়তে পারেন: আজিমপুর গণপূর্তে প্রকৌশলী ফ. হালিমের ফ্যাসিবাদী লুটপাট!
এছাড়াও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে জঋছ-এর মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরো ২০লাখ টাকাসহ মোট ৪০ লাখ টাকা জঋছ এর মাধ্যমে ফয়সাল হালিম লোপাট করেছেন।
এছাড়া ফয়সাল হালিমকে শেখ রেহানার গুলশানের বাড়ির ডিজাইনার হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিদেশে গমন শেষে ভোল পাল্টিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে মব সৃষ্টি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এই বিষয়সহ দেশ ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে আজিমপুর প্রকল্পে ইলিয়াস ফয়সাল সিন্ডিকেটের গোপণ কৌশলে শতাধিক কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যাদি নিয়ে থাকছে আরো কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
এ বিষয়গুলো নিয়ে গণপূর্ত আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তার হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো প্রতিউত্তর দেননি।