ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অধ্যক্ষ মজিবের লুটপাটের আখড়া ঢাকা আইএইচটি!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
অধ্যক্ষ মজিবের লুটপাটের আখড়া ঢাকা আইএইচটি! ছবির ক্যাপশন:
ad728
বিশেষ প্রতিনিধি॥ 
অধ্যক্ষ ডা. মজিব উদ্দিনের লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি বা আইএইচটি। তিনি ও প্রধান সহকারী ফেরদৌস রহমান মিলে গিলে খাচ্ছেন এই প্রতিষ্ঠানটি। এই দু’জনে মিলে নিয়োগ বাণিজ্য, কেনাকাটায় ভুয়া বিল-ভাউচার, কোয়ার্টার ভাড়াসহ প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতি আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তথ্য সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সনূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দু’জনের গ্রামের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় দুর্নীতিতেও মানিকজোড় এই জুটি। অনিয়ম দুনীর্তির ক্ষেত্রে সমঝোতা করে চলেন তারা।
আরো জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসর মাজেদুল পূর্বে ছিলেন পিয়ন। ওই দুর্নীতিবাজ জুটির কল্যানে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে তিনি এখন কেরানি। একই প্রক্রিয়ায় সাজ্জাদ নামক আরেক কর্মচারী পূর্বে ছিলেন পিয়ন, তিনিও এখন কেরানি। আরিফুল রহমানের নিয়োগ ছিল ঝাড়ুদার পদে। এখন তাকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী লাইব্রেরিয়ান বানানো হয়েছে। একইভাবে নিম্ন পদে থাকা আরাফাত আরা বর্তমানে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। এদের সকলকেই অধ্যক্ষকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে নিয়োগবিধির তোয়াক্কা না করে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ ডা. মজিব উদ্দিন ও প্রধান সহকারী ফেরদৌস রহমান উভয়ের বাড়ি রাজশাহীতে। দুর্নীতিবাজ লুটেরা অধ্যক্ষ ওই প্রধান সহকারীর সহযোগিতায় মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে নিয়োগবিধির পরিপন্থী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই ফেরদৌস অফিসের কেনাকাটা ও কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করছেন। অফিস বরাদ্দের আশি শতাংশ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ফেরদৌস জানান, বিধি অনুযায়ী তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন।
টেকনোলজিস্ট আইনুল ইসলাম মহাখালী আইএইচটিতে বদলি হয়ে আসার পর ফেরদৌসের সাথে যোগসাজশ করে কোয়ার্টার ও হোস্টেলের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বাইরের লোকদের কাছে বেশি টাকায় ভাড়া দিয়ে আসছে। সিট খালি থাকা সত্ত্বেও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ না দিয়ে টালবাহানা করা হয় এবং ঘুষ দিলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষ সবকিছু জেনেও না জানার ভান করছেন।
সূত্র আরও জানায়, আইএইচটি ক্যাম্পাসে চলছে ভয়াবহ মাদক ব্যবসা। সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম রাব্বানীর সময় থেকে এখানে এখনও মাদক কেনাবেচা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এতে ছাত্রছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মহাখালী আইএইচটিকে দুর্নীতিমুক্ত ও এর ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মহিঃলা শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানী গোপণ ভর্তি বাণিজ্যে জড়িত থাকাসহ টেন্ডার বাণিজ্য বিভিন্ন সাপ্লাই কেনাকাটার নামে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বাঙালি সংবাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ধারা অব্যাহত থাকবে। 




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স