ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সমবায় ডিজির স্বৈরাচার কানেকশনের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
সমবায় ডিজির স্বৈরাচার কানেকশনের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ 
সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক (ডিজি) সেলিম ফকির এর বিরুদ্ধে স্বৈরাচার আওয়ামী রাজনীতিবিদদের সাথে গোপণ যোগাযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মার্চ মাসে তিনি সমবায় ডিপার্টমেন্টের ডিজি হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী ছাত্রলীগ যুবলীগের রাজনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য দেশব্যাপী বড় বড় সমবায় সমিতিগুলো পরিদর্শনের নামে গোপণ প্রজেক্ট নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ডিপার্টমেন্টের মাঠ পর্যায়ে বেছে বেছে আওয়ামী সমর্থক কর্মকর্তাদেরকে পোস্টিং দিয়ে আাসছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে গোটা ডিপার্টমেন্ট জুড়ে। 
সূত্র জানায়, আ’লীগ ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত সেলিম ফকির বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাকে ১ অক্টোবর ওএসডি করা হয়। পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসাবে নিযুক্ত হন। আরো জানা যায়, প্রশাসন ক্যাডরের কর্মকর্তা সেলিম ফকির অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। প্র্রশাসন ক্যাডারে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা হিসাবে ব্যাপক পরিচিত। আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক তদবীরে ভালো ভালো পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএতে যোগদান করার পর তিনি নিয়োগ, বদলী, পদোন্নতি, টেন্ডার খাতে কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেছেন মর্মে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। তার বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনও রয়েছে। আওয়ামী ঘরাণার এসব কর্মকর্তা জাতীয়তাবাদী সরকারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৬ মে মৎস্যজীবী সমিতির আওতাধীন কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ফিসল্যান্ডিং সেন্টার পরিদর্শনে যান সমবায় ডিজি সেলিম ফকির। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সমবায়ের দুই কর্মকর্তা মাহবুবুল হক হাজারী ও আশীষ কুমার আহত হন। অভিযোগ-আ’লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন হায়দারকে নিয়ে কর্মসূচি পালনের খবর পেয়ে সমিতির লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় ১৭ মে বাকলিয়া থানায় মামলা করা হয়। মামলায় আতিক মাঝি, এয়াকুব খাঁ, ওমর ফারুকসহ আটজনকে আসামি এবং আরও ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাতানামা আসামি করা হয়। সমবায়ের আওতাধীন মিল্কভিটার সাবেক পরিচালক কর্ণফুলী উপজেলা আ’লীগের যুগ্মসম্পাদক নাজিম উদ্দিনকে নিয়ে মৎস্যজীবী সমিতির ব্যানারে মিটিং করছিলেন ডিজি সেলিম ফকির। ওই খবরে সমিতির সাধারণ সদস্যরা মিটিংয়ে হামলা চালালে ডিজি আহত হন। আওয়ামী নেতা নাজিমের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে সমিতির অনেক সদস্যকে নীপিড়ন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।  
চট্টগ্রামের সাধারণ সমবায় কর্মকর্তারা জানান, ডিজি সেলিম ফকির বহিরাগতদের রোষের শিকার হয়েছেন। অথচ নিরীহ কর্মকর্তাদের ওপর তিনি ঝাল মেটাচ্ছেন। জেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ দুই কর্মকর্তার বদলি এবং একজনকে প্রত্যাহার না করেই একই জায়গায় আরেকজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২২ জুন এক আদেশে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিনকে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মো. সজীবের স্বাক্ষরে এ আদেশ জারি করা হয়। সমবায় অধিদপ্তরের ডিজির দেওয়া তালিকা অনুসারে তাকে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এছাড়া পাঁচলাইশ থানা সমবায় কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে চন্দনাইশ উপজেলা সমবায়ে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানা সমবায়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ সেখানকার আবু বকরকে বদলি বা প্রত্যাহার করা হয়নি। এ কারণে একই পদে দুজন রয়েছেন। এদিকে জেলা সমবায় কর্মকর্তা আহমদ হোসেনকে ময়মনসিংহে বদলি করার একদিন না যেতেই ২৩ জুন তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। অভিযোগ-একজনেরও বদলির সময় হয়নি। সাধারণত এক জায়গায় পদায়নের পর তিন বছর হলে তাকে বদলি করা হয়। গুরুতর অভিযোগ না থাকলে বদলির সুযোগ নেই। অথচ আলোচ্য দুই কর্মকর্তার কর্মস্থলে থাকার সময় এক থেকে দেড় বছর। এভাবে সমবায় ডিপার্টমেন্ট জুড়ে পোষ্টিং পদোন্নতি ও ভিজিট বাণিজ্য চালিয়ে ডিজি সেলিম ফকির ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।  (ক্রমশঃ)




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স