ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হজ্জক্যাম্প পরিচালক লোকমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 25, 2026 ইং
হজ্জক্যাম্প পরিচালক লোকমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: হজ্জক্যাম্প পরিচালক লোকমান
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আশকোনাস্থ হজ্জক্যাম্প পরিচলক লোকমান হোসেনর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা জুলাই বিপ্লবের পরে ২০২৪ সালে হজ্জ ক্যাম্পের দায়িত্বে আসেন। এর পর পুরনো দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সাথে মিলেমিশে তিনি হজ্জ ক্যাম্পকে জামায়াত শিবিরের আখড়ায় পরিণত করেন। গত প্রায় দেড় বছরে হজ্জক্যাম্প ও হজ্জ সম্পর্কিত যাবতীয় কাজে জামায়াত শিবিরকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দিয়ে আসছেন। এ রকম ভুড়িভূড়ি দৃষ্টান্ত রয়েছে। জামায়াত পন্থী হজ্জ এজেন্সিগুলো তার কাছ থেকে একচেটিয়া সুবিধা পেয়েছে ওই সময়ে। সময়ের পরিবর্তনে এখন তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয় বা কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয়- এমন কথা বলে আসছেন আশেপাশের লোকজনের সাথে। অথচ তিনি কট্টর জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনে ব্যাপক পরিচিত।
আ’লীগের সময়ে ঘাঁপটি মেরে থেকে লোভনীয় পোষ্টিং পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পরে তিনি জামায়াতি পরিচয়ে হজ্জ ক্যাম্পের দায়িত্বে এসে হজ্জ বিষয়ক বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ সভা-সিম্পোজিয়ামের নামে ও হজ্জযাত্রীদের সেবা দেয়ার নামে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বড় অংকের টাকা লোপাট করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। গত ২০২৪-২৫ ও বর্তমান অর্থবছরে হজ্জ ক্যাম্পের পরিচালন বাজেট নিয়ে সুষ্ঠু নিরীক্ষা করলে পরিচালক লোকমানের থলের কালো বেড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূক্তভোগী মহল জানিয়েছে। 
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হজ্জ এজেন্সির সাথে হজ্জ সম্পর্কিত চুক্তির নামে এজেন্সি প্রতি ২/৩ লক্ষ টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বৈধ হজ্জ এজন্সির তালিকা অনুযায়ী ই-হজ্জ সিষ্টেমে এজেন্সির ইউজার একটিভকরন কাজেও বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকেও মোটা অংকের নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।  হজ্জ ক্যাম্পের অস্থায়ী দুটি ক্যান্টিনকে তিনি নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন হজ্জ কর্মচারী জানিয়েছেন। এই ক্যান্টিন দুটো নিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারি ঘটছে পরিচালক লোকমান হজ্জক্যাম্পের দায়িত্বে আসার পর থেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছাপা ও সরবরাহ কাজগুলো নিজের পছন্দের লোকদের মাধ্যমে করিয়ে নামে-বেনামে বিল-ভাউচার করেছেন তিনি। দপ্তরটির হিসাব সেকশনে সুষ্ঠুু তদন্ত করলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে। হজ্জ ক্যাম্পের অবকাঠামো মেরামত রক্ষনাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কারণে অকারণে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের হয়রানি করেন এই কর্মকর্তা। কাজ বুঝে নেওয়ার নামে তালবাহানার আশ্রয় নিয়ে অধীনস্থদের মাধ্যমে ঘুষ দাবী করে থাকেন এই কর্মকর্তা। 
এছাড়াও হজ্জ মৌসুমে বিভিন্ন হজ্জ এজেন্সিকে ডেকে নিয়ে জামায়াত শিবিরের লোকজনকে বিনামূল্যে বা সল্পমূল্যে হজ্জ এবং ওমরা হজ্জ করানোর ব্যবস্থা করিয়ে থাকেন তিনি। নিজের আপন ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে অসংখ্য লোককে এভাবে হজ্জ করিয়ে এনেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। গত হজ্জ মৌসুমে বিভিন্ন এজেন্সিতে নিজস্ব প্রায় শ’খানেক হজ্জ গাইড ঢুকিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন পরিচলাক লোকমান হোসেন। 
শুধু তাই নয়, হজ্জ ক্যাম্পের বিভিন্ন কেনাকাটা, তার বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি হজ্জ যাত্রীদের মধ্যে আইডি কার্ড বিতরণ, হজ্জ যাত্রী হজ্জ গাইড ও অংশীজনের প্রশিক্ষণ, হজ্জ যাত্রীদের টিকা ও স্বাস্থ্য সনদ সরবরাহ, হজ্জ এজেন্সী ও হজ্জ যাত্রীদের পুস্তিকা সরবরাহ নিয়েও এক ধরণের গোপণ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। 
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার হজ্জক্যাম্প অফিসে ও ফোনে পরিচালক লোকমান হোসেনর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ)        




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স