ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ধর্ষণের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 19, 2026 ইং
গণপূর্ত প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ধর্ষণের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেন অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটে অপ্রতিরোধ্য
ad728
জয়নাল আাবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, ভূয়া বিলে অর্থ ছাড়, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অপরাধ ধামাচাঁপা দেওয়ার মতো লাগাতর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রকৌশলী ২০১৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ভূয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ ছাড় করেছেন। এছাড়াও, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট হারে উৎকোচ বা ‘পার্সেন্টেজ’ গ্রহণ করতেন। দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাকী বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। 
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম ভাঙিয়ে ই/এম বিভাগ-৫ এর এই কর্মকর্তা প্রায় ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত 
হলেও তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। 
শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। গৃহকর্মী সুফিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেন বলে তথ্যে উঠে এসেছে। ডিভিশনটির সদ্য সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাজিয়া সুলাতানাকে নিয়েও তামজীদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় শোষিত বঞ্চিত ঠিকাদার। এছাড়াও তামজীদের নিজস্ব কর্মচারী কাম ঠিকাদার ভুট্টোও তাকে বিভিন্ন সময়ে উঠতি বয়সের কলগার্ল সরবরাহ করে রেডিসান হোটেলসহ ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে হ্যাপিএন্ডিং করিয়ে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করে আসছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। 
চাকরি জীবনের মাত্র ১৩ বছরে সৈয়দ তামজিদ হোসেন নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সহায়-সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সম্পদ হচ্ছে- ধানমন্ডি ২৭/১ (রবীন্দ্র সরোবর ৮ নম্বর ব্র্রিজের ঢালে) একটি বহুতল ভবনে আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০০ বর্গফুটের একটি স্টুডিও এপার্টমেন্ট ক্রয় করেছেন তিনি। মোহাম্মদপুর ২৭/১, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির টেক রোড নম্বর ৭-এ শ্বশুর মোঃ জাহিদ মিয়ার সাথে যৌথ মালিকানায় একটি ৭তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। এছাড়াও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজ নামে ও বেনামে প্রায় ৩০ একর জমি ক্রয় করার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অপরাধের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে।



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
নেত্রকোনার বারহাট্টায় আগুনে ছাই সাত দোকান ক্ষতি ২৩ লাখ টাকা

নেত্রকোনার বারহাট্টায় আগুনে ছাই সাত দোকান ক্ষতি ২৩ লাখ টাকা