ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হরিলুটের কবলে ইইডি ঢাকা মেট্টো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 5, 2026 ইং
হরিলুটের কবলে ইইডি ঢাকা মেট্টো ছবির ক্যাপশন: চাঁদপুরের সাবেক শিক্ষা প্রকৌশলী শরীফের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ
ad728
জয়নাল আবেদীন যশোরী: 
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) চাঁদপুর জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম শরীফের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ আর পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগে মন্ত্রীর কাছের লোকদের ম্যানেজ করে ফ্যাসিবাদের লোক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে ঢাকা মেট্টোর নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা জোনের দায়িত্ব নিয়ে পূর্বের ন্যায় ব্যাপক লুটপাটে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন এই শিক্ষা প্রকৌশলী। ইতিমধ্যে এসি সাপ্লাই নিয়ে বড় ধরণের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এই প্রকৌশলী। এসি ক্রয়ের টেন্ডারে জালিয়াতি ও অনিয়ম করে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে প্রাণ আরএফএল-কে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ আছে মনজুরুল আলম শরীফ ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
এক অভিযোগে জানা যায়, সম্প্রতি এসি ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করা হলে প্রাণ আরএফএল, মজিদ এন্ড সন্স এবং আমানত এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি কোম্পানি দরপত্র দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ভিআরএফ এসির অথরাইজেশন যাচাইয়ের জন্য দরপত্র দাখিল করা তিনটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির নিকট ই-মেইলে পাঠানো হয় নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে।  আমানত এন্টারপ্রাইজ এবং মজিদ এন্ড সন্স এর অথরাইজেশনের সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাহী প্রকৌশলীর ই-মেইলে জবাব আসে। কিন্তু প্রাণ আরএফএল এর অথরাইজেশনের ব্যাপারে ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি উঁহঐঁস ইঁংয  জবাব দেয় প্রাণ আরএফএল’র অথরাইজেশন সঠিক নয়। টেন্ডারে উল্লিখিত প্রকল্পের জন্য তাদেরকে অথরাইজেশন দেওয়া হয়নি। এই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম মোটা অংকের অর্থের লোভে প্রাণ-আরএফএল’র সাথে যোগাযোগ করে অফিসের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেন।
পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম এবং প্রাণ-আরএফএল’র মধ্যে লেনদেনের বিষয়ে চুড়ান্ত হওয়ার পর প্রাণ-আরএফএল অফিস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় আরও একটি ই-মেইলের মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানিকে পাঠানো হয়। যোগাযোগের ভিত্তিতে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি প্রাণ আরএফএলকে অথরাইজেশন দেয়।  এভাবেই নিয়মনীতি ও অফিসিয়াল গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড) দেন এই জালিয়াত দুর্নীতিবআজ প্রকৌশলী। 
একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, মনজুরুল আলম ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকা মেট্রো অঞ্চলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বেআইনিভাবে কমিশন দাবি করেন। কমিশন না দিলে ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের বিপরীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করছেন। এ কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পর কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের দাবি, নির্ধারিত কমিশন দিতে অনাগ্রহী হলে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। ঠিকাদাররা বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 
আরো জানা যায়, প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে জুৃলাই/২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩বছর ছিলেন চাঁদপুরের দায়িত্বে। এ সময়ে পিপিআর এর বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে পার্সেন্টেজ বাবদ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কয়েক কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছেন তিনি। ওই সময়ে স্থানীয় মেসার্স রিপন ট্রেডার্সকে একচেটিয়া কাজ পাইয়ে দিয়ে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসার অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতারিত বঞ্চিত ঠিকাদার। ওই তিন বছরে জেলার লাভজনক কাজগুলোর প্রায় ৮০% ওই ঠিকাদিারী প্রতিষ্ঠানটি নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মোঃ আলমগীর গাজীসহ আরো দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সিন্ডিকেট গঠন করিয়ে টেন্ডারের নামে প্রহসন চালিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। পাশাপাশি ঢাকা থেকে ডেকে নিয়েও ৪/৬জন ঠিকাদারকে নিয়মিতভাবে বড় বড় কাজ পাইয়ে দিয়েছেন প্রকৌশলী মনজুরুল আলম।
শুধু তাই নয়, ওই তিনবছরে দপ্তরটির এলটিএম নিয়ে জালিয়াতি করেও নিজস্ব ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি । এ সম্পর্কিত তথ্য প্রমাণাদি এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। 
আালোচিত সমালোচিত এই শিক্ষা প্রকৌশলী চলতি বছরের আগস্টে ঢাকা মেট্টোর দায়িত্ব নিয়ে নেত্রকোনা ও চাঁদপুরের ন্যায় অনিয়ম দুর্নীতিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছেন। ইতোমধ্যে ইয়াছিন এন্টারপ্রাইজ, নিশান কনস্ট্রাকশন, বারি কনস্ট্রাকশন, নিশাত এন্টারপ্রাইজসহ আরো কয়েকটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটি গোপণ টেন্ডার সিন্ডিকেট তৈরী করে লুটপাটের পরিকল্পনা সাজিযেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তীতে।  



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত

ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত