ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লুটপাটে ব্যর্থ হতে চলেছে ডিএই’র ঢাকা অঞ্চল প্রকল্প!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
লুটপাটে ব্যর্থ হতে চলেছে ডিএই’র ঢাকা অঞ্চল প্রকল্প! ছবির ক্যাপশন: ডিএইর ঢাকা অঞ্চলের পিডি দুনীতির বরপুত্র ফ্যাসিস্ট কাইয়ুম নিত্যনতুন কৌশলে গিলে খাচ্ছেন প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
ডিএইর ঢাকা অঞ্চলের পিডি দুনীতির বরপুত্র ফ্যাসিস্ট কাইয়ুম গিলে খাচ্ছেন প্রকল্পের বেশীরভাগ ভাগ অর্থ। এতে প্রকল্পটি ব্যর্থ হতে চরেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে (ডিএই) ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদারের নেতৃত্বে লাগামহীন দুনীতি কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড। ডিএই’তে সম্প্রতি একাধিক দুনীতিবাজ লুটেরা দলবাজ পিডি পরিবর্তনের তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন পিডি পরিবর্তন হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ঢাকা পিডি মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার।
সুত্রে জানা যায়, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প আওতাভূক্ত প্রশিক্ষণের বিপরীতে কাগজে-কলমে বরাদ্দ দিলেও বাস্তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের কোন অর্থ প্রদান করা হয়নি। এখাতে সমূদয় টাকা ভূয়া বিল-ভাউচার করে লোপাট করেছেন পিডি নিজেই। কৃষি পন্যসামগ্রি (যন্ত্রাংশ) কেনাকাটার নামে চলেছে নীরব হরিলুট। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষি কর্মকর্তা জানান, ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উপজেলায় (যেমন কিশোরগঞ্জের নিকলী) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই কৃষি উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল নামেমাত্র। কয়েকজন কৃষক নিয়ে ফটোশেষণ করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ ভাতা না দিয়ে শুধুমাত্র সস্তা এক প্যাকেট খাবার ধরিয়ে দেন পিডি ও তাঁর লুটপাটের সহযোগী সাঙ্গপাঙ্গরা। একইভাবে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দের বিপরীতে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতিপরায়ন আ’লীগের সুবিধাভোগী পিডি আবদুল কাইয়ুম মজুমদার।
তারা ক্ষোভের সহিত  আরো জানায়, বিভিন্ন উপজেলার বরাদ্দ প্রদান করিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদেরকে ডেকে এনে বরাদ্দকৃত টাকা পুনরায় ফেরত দিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন বিগত দুই অর্থবছরে। ওই বরাদ্দকৃত টাকা বিভিন্ন কৌশলে ফেরত নিয়ে নেন পিডি কাইয়ুম মজুমদার। অফিসে মালামাল ক্রয়ে সংক্রান্ত কারচুপি করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। আনুষ্ঠানিক খাতে কেনাকাটার নামে ডিপিপির বাইরে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত খরচের মধ্য দিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।
অপরদিকে, কৃষি সহায়তার নামে কৃষকদের মাঝে সার, অতি নি¤œমাণের বীজ ও আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণের নামে ব্যাপক দুনীতি আর লুটতরাজের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানের কাজ চলছে ধীরগতিতে। শুধুমাত্র পিডির আর্থিক দুনীতি কারণে মুখ  থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের উন্নয়ন কর্মকান্ড। 
বিগত সময়ে কেন্দ্রীয় প্যাকিংহাউজ প্রকল্পে দুর্নীতি: ঢাকার শ্যামপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন প্রকল্পে (১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প) কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা অগ্রিম ছাড় করার প্রমাণ পেয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে মামলা দায়ের হওয়ার পুর্বে সেই পিডিকে সরানো হয়েছিল। 
কৃষিযন্ত্র বিতরণ ও অনিয়ম: কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ প্রায় ৪০ হাজার কৃষিযন্ত্র বিতরণ ও প্রকল্প কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে খামারবাড়িতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে সাবেক মহাপরিচালক বেনজির আলম পেনশন থেকে বঞ্চিত হয়। 
টেন্ডার ও সিন্ডিকেট সংক্রান্ত জটিলতা: ই-টেন্ডার প্রদান নিয়ে ঠিকাদার কর্তৃক প্রকল্প পরিচালককে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ভিডিও সম্প্রতি আলোচিত হয়েছে। এছাড়া ভূয়া বিল-ভাউচার এবং প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের মাস্টারমাইন্ড ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদারের নেতৃত্বে কমিশন বাণিজ্য চলছে চরম আকারে।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ দিনব্যাপী কৃষক/কৃষাণী প্রশিক্ষণের বিপরীতে কিশোরগঞ্জে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই কৃষি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ সদর-এর প্রশিক্ষণ হলরুমে দিনব্যাপী কৃষক/কৃষাণী প্রশিক্ষণের বিপরীতে ভূয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। 
প্রকল্পের আওতায় “বাণিজ্যিক ও রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদন”, বর্তমান কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী কৃষিতে রুপান্তরের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলেও পিডির অর্থিক খায়েশ চরিতার্থ করার মাধ্যমে অনৈতিকভাবে ব্যাপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে।
প্রকল্পের কর্যক্রমের প্রশিক্ষণে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল নির্বাচন, উন্নত জাত ও মানসম্মত বীজ ব্যবহার, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগ ও পোকামাকড় দমন, নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষি উৎপাদন, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রকল্পের ডিপিপিতে উল্লে­খ ও সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য থাকলেও তা ব্যাজত হয়েছে পরিক্ষীত  দুর্নীতিবাজ লুটেরা পিডির লাগাতার আর্থিক দুর্নীতির কারণে। প্রকল্পের আওতায়  রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য, পণ্যের গুণগত মান, অবশিষ্টাংশমুক্ত উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণের গুরুত্বের বিষয় বেহাল অবস্থায় রয়েছে সিন্ডিকেটভূক্ত লুটপাটের কারণে। 
প্রকল্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক, বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করা হয়। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার উল্লে­খ থাকলেও পিডির বেপরোয়া অনিয়ম লাগামহীন দুনীতির মাধ্যমে ওই ভাল উদ্দেশ্যগুলো মাঠেই কবর দেওয়া হয়েছে। এগুলো ভবিষ্যতেও বাচ্চা ফুটিয়ে আলোর মুখ দেখবে না এই কৃষিখেকো দুর্নীতিবাজদের কারণে।
উল্লে­িখত অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পিডি মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদারের মোবাইলে ফোন দিয়ে কাবে না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।  (ক্রমশঃ)



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতারা: মির্জা ফখরুল

হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতারা: মির্জা ফখরুল