জয়নাল আবেদীন যশোরী:
মোঃ নুর নবী চৌধুরী মিলন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন ই/এম উপসহকারী প্রকৌশলী। তিনি বর্তমানে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ ৫ এর অধীনে হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট শাখায় কর্মরত আছেন। ইতোপূর্বে ই/এম ৩নং বিভাগ ও মানিকগঞ্জে থাকতে বিভিন্ন গুরুত্বপর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে থেকে বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসাসহ বিবিধ অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ আছে ধুরন্ধর এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। গণপূর্ত ২০০৬ ব্যাচের এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী চাকরিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

নিজ বাসায় অবৈধ সম্পদের গরমে আরাম আয়েশে উপসহকারী প্রকৌশলী নুর নবী মিলন
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ নিবাসী এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী স্বৈরাচারের স্বরাস্ট্র মন্ত্রী নাসিমের ছেলে সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়ের রাজনৈতিক প্রভাব ব্্যবহার করে আ’লীগ আমলে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে পাষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন। সে সময়ে ক্ষমতা জাহির করেছেন সহকর্মী প্রকৌশলীদের উপরেও। কারণে অকারণে ঊর্দ্ধতন প্রশাসনকে ব্যবহার করে হয়রানীমূলক বদলী করিয়ে দেওয়াসহ অনৈতিক পোস্টিং বাণিজ্যের মাধ্যমেও বাগিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ। জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে চুপচাপ থাকার জন্য অল্প কিছুদিন শামুকের ন্যায় নিজেকে খোলসের মধ্যে আকড়ে রেখে শীতনিদ্রায় যেয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তীতে রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন করে নব্য জাতীয়তাবাদী সাজার চেষ্টা করে আসছেন তিনি। এজন্য গত ছয়মাস ধরে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী এমপির পেছনে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ঘৃুরঘুর করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
তার অনিয়ম দুর্নীতি লুটপাটের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানিয়ে জিকে ট্রেডার্স নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জনৈক জি এম কে চৌধুরী গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবদেন করেন। লিখিত ওই অভিযোগে আরো জানা যায়, এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী প্রায় ৩ বছর ছিলেন মনিকগঞ্জের দায়িত্বে। সেখানে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ২৫ কোটি টাকার বিল প্রধান করেন মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জের ওই সকল প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৫/৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বাস্তবায়িত কাজগুলো নিয়ে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বেশীরভাগ অর্খ লোপাট করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় মানিকগঞ্জে নুর নবীর প্রদত্ত বিল ও বাস্তবায়িত সংশ্লিষ্ট কাজগুলোর ম্যাজারমেন্ট বইয়ের সাথে কোন মিল নেই। কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই- এ ধরণের বিল-ভাউচার করে সরকারের বরাদ্দ লোপাট করেছেন এই উপসহকারী প্রকৌশলী।

ছুটির দিনে সহধর্মীনিকে প্রমোদ ভ্রমনে উপসহকারী প্রকৌশলী নুর নবী মিলন
একইভাবে ই/এম ৩নং ডিভিশনে থাকতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না হওয়া সত্ত্বেুও এডভান্স বিলের নামে প্রায় ১৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল দিয়েছেন শুধুমাত্র নিজে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে। তার পূর্বে সিরাজগঞ্জে থাকতে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্বে থেকেও প্রকল্পে নি¤œমাণের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে সিডিউল বহির্ভূত কাজ করানোসহ উর্দ্ধতনদের যোগসাজশে ভূয়া বিল-ভাউচারের আশ্রয়ে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধ অর্থে প্রমোদ ভ্রমনে গণপূর্ত উপসহকারী প্রকৌশলী নুর নবী মিলন
চাকরিজীবনে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে উপসহকারী প্রকৌশলী নুর নবী মিলন সাভার উপজেলাধীন আশুলিয়া মডেল টাউন বিরুলিয়া আকরান রোডে আনুমানিক ৪ কোটি টাকা মূল্যে ৬টি দোকন সহকারে একটি ৪তলা ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে সেখানে তিনি থাকেন না। ভবন ও দোকানগুলো ভাড়া দেওয়া। সাভারে তার আরো একটি বাড়ি থাকার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় তার স্ত্রীর নামে ২৬৫০ ও ১৮০০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট আছে। সেগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। বিদেশেও পাঁচার করেছেন অর্থ। তিনি নিজে ও পরিবারের জন্য ব্যবহার করেন একটি টয়োটা এলিয়ন গাড়ি। তার নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে কিনেছেন প্রায় অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি। সেখানে আ’লীগের সাবেক স্বরাস্ট্র মন্ত্রী নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয়ের সাথে বিভিন্ন ব্যবসা আছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থের জোড়ে ছুটির দিনগুলোতে রঙ্গিন নেশায় মাতোয়রা থাকাসহ বহুবিধ অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় ঠিকাদার।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য তার দপ্তরে মুখোমুখি আলোচনা করলে তিনি এগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে জানান। এ সময়ে তিনি ওই সেকশনের দায়িত্বে থাকা সাবেক একজন উপসহকারীকে দোষারোপ করেন দার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেয়ার জন্য। ব্যস্ততার অজুহাতে বিস্তারিত পরে বলবেন বলে এ প্রতিনিধিকে বিদায় দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে অসংখ্যবার ফোন করা হলেও তিনি কোন রেসপন্স করেননি। (ক্রমশ:)