ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লুটপাটে দস্যুরাজা বিআইডব্লিউটিএ প্রকৌশলী আ. কা. আজাদ!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
লুটপাটে দস্যুরাজা বিআইডব্লিউটিএ প্রকৌশলী আ. কা. আজাদ! ছবির ক্যাপশন: বিআইডব্লিউটি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ
ad728
জয়নাল আবেদীন যশোরী: 
 বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) চিলমারী নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ((PD) পদে নিয়োজিত আছেন। Chilmari River Port Project মোট বাজেট (Total Budget) এবং (Estimated Cost): প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা। 
বাজেটের বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট BIWTA  প্রকল্প রিপোর্ট অনুযায়ী:
মূল অনুমোদিত DPP: প্রায় ২৩৫.৫৯ কোটি পরবর্তীতে সংশোধিত (Revised DPP): প্রায় Tk৩৩৫.৫৯ কোটি। উক্ত প্রকল্পে তৎকালীন আ’লীগ সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ছত্রছায়ায় আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও আওয়ামী ঠিকাদার মিলেমিশে প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করেন। উল্লেখ্য নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস বাশার এবং DG Bangla প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী আরশাদ পারভেজ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। বর্তমান যশোর জেলা আ’লীগের সদস্য প্রজেক্ট ডিরেক্টর (PD) আবুল কালাম আজাদের কথিত ভাগ্নে Dipn Enterprise এর সত্ত্বাধিকারী সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের আস্থাভাজন সজল এবং সুভাস কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। এই সিন্ডিকেট উক্ত প্রকল্পে দূর্নীতি লুটপাটের মূলহোতা বলে চিহ্নিত। পিডি আবুল কালাম আজাদের কথিত ভাগ্নে সজলের Dipn Enterpriseএর নামে নিজস্ব ক্ষমতাবলে Site Development সহ বেশ কিছু কাজ বরাদ্দ দেন। Dipn Enterprise এর নামে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হলেও মূলত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস বাশার এবং সজল একত্রে এই কাজ পরিচানার মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। Site Development এর কাজে কোন প্রকার বালু ভরাট না করেই ভুয়া বিল তৈরী করে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা। তাছাড়া ভবন নির্মানে মানা হয়নি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নকশা,পাইলিং ও সঠিকভাবে একটি ভবনেরও করা হয়নি। এই ভবন নির্মাণ নিন্মমানের হওয়ায় ঝুকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় লোকজন। 
অনুসন্ধানে সরেজমিনে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন ভূমি অধিগ্রহণের বিল নিয়ে হয়েছে নজির বিহীন জালিয়াতি। তবে বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA)-এর কোনো কর্মকর্তা বা পিডি (প্রকল্প পরিচালক) দুর্নীতিতে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা যেমন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসর হতে পারে। এছাড়াও, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪ ও দুদক অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রমাণিত হলে অপরাধ অনুযায়ী কারাদন্ড ও অর্থদন্ডসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। 
বিআইডব্লিউটিএ-এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচলিত শাস্তির বিধান ও আইনি কাঠামোগুলো নিচে দেওয়া হলো:
দাপ্তরিক ও বিভাগীয় শাস্তি: দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, অথবা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমনের মতো গুরুদন্ড হতে পারে।
ফৌজদারি মামলা ও দন্ড: ক্ষমতার অপব্যবহার, আত্মসাৎ বা ঘুষ গ্রহণের কারণে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১২ বছরের কারাদন্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেলে দুর্নীতি ও অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে তার অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
কতটা ভয়াবহ জালিয়াতি হলে কাগজপত্রে ঠিকাদার KHANDAKER SHAHIN AHMED LTD & SIGN ENGINEERING LTD ( KSL SEL JOINT VENTURR) হলেও এই প্রকল্পের বিল প্রদান করার প্রমাণ মিলেছে DG BANGLA এর একাউন্ট NRBব্যাংক, মিরপুর শাখা এবংMEMO NO: ১৮.১৪.০০০০.২৯৮.১৯.০২১.২৩/২৭৯ এর অনুকূলে আবুল কালাম আজাদ মোল্লার স্বাক্ষরিত উএ ইঅঘএখঅ এর নামে পেমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে কোন প্রকার কাজ না করে। 
১)Fixed Steel Casing smnt thick of Specificed 450 mm Inner dia 
২)Fixed Steel Casing 8 mm thick of specificed 450 mm Inner dia  
পুরো টাকাই ভাগাভাগি হয়েছে যার সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ ও নথিপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। 

Name Of Contractor KSL- SEL JV

DG Bangla, ৫৫%ঃশ-৩৩,৭৫৩,৩৫২,৯৯ 

(Clients + Consultant)-৪৫% 

TK-২৭,৬১৬,৩৭৯.৭২72DG Bangla  এর স্বত্বাধিকারী আরশাদ পারভেজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমান যশোর জেলা আ’লীগের সদস্য নেন TK-৩৩,৭৫৩,৩৫২.৯৯.৪৫% হারে (Clients + Consultant) এর নামে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা (PD) নেন TK-২৭,৬১৬,৩৭৯.৭২ এই দুর্নীতির অর্থ ভাগাভাগি করে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও DG BANGLA। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ২ জন কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেছেন  নাম না প্রকাশ করার শর্তে DG BANGLA এর পক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন চাকুরির সুবাদে আমরা উক্ত কাজ করতে বাধ্য হয়ে  ছিলাম এবং এই অর্থ কোথায় কিভাবে লেনদেন হয় তারও বর্ননা করেন তিনি। DIPU ENTERPRISE এর স্বত্বাধিকারী সজল চন্দ্র্র দত্ত প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার একান্ত ঘনিষ্ঠ জন হওয়ায় এই প্রকল্পের অধিকাংশ দুর্নীতির অর্থ তিনি গ্রহণ করেছেন তার পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে।

DIPU ENTERPRISE, pubali Bank PLC , A/C NO: ২৯০৫৯০১০৫২০৭৩, Foreign Exchange Branch, Routing No: ১৭৫২৭২৩২১

এই একাউন্টে জমা রাখেন। এছাড়াও বড় বড় লেনদেন নগদ অর্থের মাধ্যমে পরিশোধ করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। 
পাইলিং এর কাজে জালিয়াতিঃ  
অফিস কার্যাদেশে প্রতি ইউনিট পাইলিং ৫০০ mm Dia, Length ৪০.৫০ (m) এবং ১৬ mm রড ১০পিচ হলেও প্রতি ইউনিট পাইলিংয়ে ৩০০ mm Dia, Length ২৩ (m) মিটার এবং ১০ পিচের বদলে ৭ পিচ ব্যবহার করা হয়। উক্ত পাইলিংয়ের রডের কাজ সাব কন্ট্রাকে দেওয়া হয় "মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন স্বত্বাধিকারী মো: নাসির উদ্দিন এর অধিনে। তবে সরেজমিনে প্রকল্প পরিদর্শনে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা সাইটে পাইলিংয়ের জন্য (TIPE -১ ও TIPE -২) ২ টা নিজের তৈরি করা ড্রয়িং রেখে সেই মোতাবেক কাজ করিয়েছেন, সেই ড্রয়িংয়ে ৩০০ mm Dia, Length ২৩ (m) এবং ১৬ mm রড ৭ পিচ। 
এই সব অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় জানতে পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  বর্তমান সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর একটা ঠিকাদারি লাইসেন্সের কপি পাঠান এবং ঐ লাইসেন্সের অনুকূলে তার প্রতিষ্ঠানের নামে ঐ প্রকল্পের কাজ সাব কন্ট্রাক্টে দেখানো হয়েছে। রড ও পাইলিংয়ের কাজের বিলের দূর্নীতির অর্থ ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের সাথে প্রকল্প পরিচালক আনুপাতিক হারে ভাগাভাগি করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।  
বিআইডাব্লিউটিএ এর একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়,এই প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা রয়েছে। তারা আরও বলেন তৎকালীন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস বাশার এবং
ঠিকাদার আরশাদ পারভেজ এর বাইরে বিআইডাব্লিউটিএতে কারোরই কিছু বলা বা করার সাহস ও সুযোগ ছিল না। 
এই সব অনিয়ম দূর্নীতি বিষয় জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই, যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি (ক্রমশঃ) 



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স