ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে জটিল করে তুলতে পারে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণেও পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা করতে সহায়তা করেছিল। গত বছর দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও সই করেছে। ওই চুক্তির আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা এবং যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন বর্তমানে সৌদি আরবে মোতায়েন রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবে ইরানের হামলার ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে হুথিদের হামলার পর ইরান নিয়ে ইসলামাবাদের অসন্তোষ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে সৌদি আরব লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। এতে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলেও এখন পর্যন্ত সংঘাতটি ওই একটি ঘটনার মধ্যেই সীমিত রয়েছে।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটি আমাদের জন্য রেড লাইন।’ প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা ও প্রতিবেদনে কথা বলা অন্য কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, ‘উত্তেজনা এত দ্রুত বাড়বে, তা পাকিস্তান ধারণা করেনি।’ পাকিস্তানের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ইরানের আগের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় হুথিদের সর্বশেষ এই হামলা দেশটিকে (পাকিস্তানকে) সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। পাকিস্তানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি সৌদি এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা মোতায়েন রয়েছেন এবং এই কারণে তারা এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামাবাদের আশঙ্কা, হুথিদের নেতৃত্বে উত্তেজনা বাড়লে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে। পাকিস্তানসহ অনেক দেশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের স্বার্থের ওপর হামলা হতে পারে। আর তেমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করতে পারে।