ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হেফাজত আমিরের সুপারিশ সংগ্রহ এক পরিচালকের আ’লীগের সুবিধাভোগী হতে চান ইফার ডিজি!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 25, 2026 ইং
হেফাজত আমিরের সুপারিশ সংগ্রহ এক পরিচালকের আ’লীগের সুবিধাভোগী হতে চান ইফার ডিজি! ছবির ক্যাপশন:
ad728
বিশেষ প্রতিবেদক: 
আওয়ামী সরকারের ব্যাপক সুবিধাভোগী এক পরিচালক 
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) হতে চাচ্ছেন। এ পদে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন মহলে জোড় তদবীর ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।  
ইফার বর্তমান জুনিয়র পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদার। কর্মরত আছেন ফাউন্ডেশনের অনুবাদ ও সংকলন বিভাগে। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম একেএম ওবায়দুর রহমানের ভাগ্নে ও বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ফুফাতো ভাই বলে পরিচয় দিয়ে আসছেন বিভিন্ন মহলে। ফাউন্ডেশনের ডিজি হওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সুপারিশ সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনিসুজ্জামান সিকদার নড়াইলের কালিয়ার বাসিন্দা হলেও স্বৈরাচার লীগ সরকারের ১৬বছরে গোপালগঞ্জের বাসিন্দ হিসেবে পরিচয় দিতেন। এছাড়া তার নিয়োগ হয়েছিল আ’লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষ সময়ে। তৎকালীন আ’লীগের নেতা ও পরবর্তীতে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ এবং আ’লীগ আমলে বিতর্কিত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের তদবিরে সে সময়ে ইফায় নিয়োগ বাগিয়ে নেন আনিসুজ্জামান। এ জন্য বিগত আ’লীগ আমলে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেন। তার চাকরি ও পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ছিল। ২০০৯ সালে আ’লীগ ক্ষমতায় এলেই শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর তদবিরে নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ছিনিয়ে নেন এই আনিসুজ্জামান। ওই সময় পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে ১০ বছরের সিনিয়র হাফেজ মাওলানা ডক্টর আব্দুল জলিলের। কিন্তু আ’লীগের বিভিন্ন নেতার তদবিরে অবৈধ অর্থের প্রভাবে এক বছর আগেই আনিসুজ্জামান সিকদারকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও আ’লীগের প্রভাবে পুনরায় তাকে পরিচালক পদে পদোন্নতি বাগিয়ে দেওয়া হয়। সে সময়ে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৭২নম্বরে। ওই সময়ে ৭১জন সিনিয়রকে ডিঙিয়ে তাকে পরিচালক বানানো হয়। আনিসুজ্জামান সিকদার জুনিয়ার পরিচালক হয়েও শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর তদবিরে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বির্তর্কেও মাধ্যমে। সেখানে বিভিন্ন কেনাকাটার নামে ভূয়া বিল-ভাউচারসহ ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা লোপাট করেন তিনি। এমনকি হজ্জ্ব যাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরণের কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। 
আওয়ামী আমলে যখন সুপ্রিম কোর্টে ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক আন্দোলন শুরু করলে এই আনিসুজ্জামান এর বিপরীত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ডয়েচে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার তখন বলেন, ‘ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয় আলাদা, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিতর্ক আছে।’ তবে পূর্ণ প্রতিকৃতি না হয়ে অর্ধেক বা আংশিক ভাস্কর্য নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এটা জায়েজ আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অবৈধ অর্থের জোড়ে তিনি নিজ এলাকায় অসংখ্য লোকের জমিজমা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নেয়। এ নিয়ে তার  বিরুদ্ধে এলাকায় জমি সংক্রান্ত একাধিক মামলা এবং দুদকেও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। এ জন্য ২০২৪ এর ৫ আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। তবে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের শেষদিকে বেফাক মহাসচিবের তদবিরে তাকে আবার ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে। 
সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় গিয়ে আনিসুজ্জামান সিকদার নিজেই হেফাজতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মাধ্যমে আমিরের সুপারিশ নেন। এ বিষয়ে পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদারের সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তর কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। (ক্রমশ:)



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শান্তর সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজের ফাইফারের দিন কিউইদের বিপক্ষে স

শান্তর সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজের ফাইফারের দিন কিউইদের বিপক্ষে স