আলামগীর হোসেন ও আসাদ মাহমুদ:
সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের ওটিএম টেন্ডার আইডি নম্বর ১১৭৩৮৫০। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জ জেলা কারগারে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজ। সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা না থাকলেও মোটা অংকের পার্সেন্টেজ নিয়ে স্বৈরাচার সরকারের সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের ভাইয়ের সহযোগী বীথি কনস্ট্রাকশনকে টাঙ্গাইল থেকে ডেকে এনে কাজটি পাইয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান। এমন অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতারিত বঞ্চিত ঠিকাদার। কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির সিমিলার ন্যাচার কাজের এক্সপেরিয়েন্সসহ দরপত্র মূল্যায়নের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চেয়ে তথ্যাধিকার আইনে আবেদন করা হয় গত জানুয়ারী মাসে। বাঙালি সংবাদের প্রধান প্রতিবেদক আসাদ মাহমুদ ২২ জানুয়ারী ২০২৬ইং তারিখে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি চেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে নির্ধারিত ফরমেট অনুযায়ী আবেদন করেন। আবেদনের পরবর্তী সপ্তাহে বাঙালি সংবাদের সম্পাদককে ফোন করে নির্বাহী প্রকৌশলী কাগজপত্র পাঠাবেন বলে আশ^স্থ করেন। এ জন্য তিনি আরো এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করলে আর কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। তাই গত ৬মে ২০২৬ইং তারিখে পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব দেওয়ান মাউদুদুর রহমানের কাছে আপিল করা হয়। তথ্যাধিকার আইন অনুযায়ী পরবর্তী ২২ কার্য দিবসের মধ্যে তথ্যাদি না পেলে তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়েরের পদক্ষেপ নিয়েছে বাঙালি সংবাদ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করা হবে বলে সম্পাদক জানান।
আরও পড়তে পারেন: সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত: যিনি প্রকৌশলী তিনিই ঠিকাদার!
অপরদিকে গোপলগঞ্জের কাশিয়ানী নিবাসী এই প্রকৌশলী স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সময়ে সংসদ ভবন, ১নং ডিভিশনসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। ছাত্রলীগের নেতা দীন ইসলামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসএ এন্টারপ্রাইজের নামে শুরু থেকেই পরোক্ষভাবে ঠিকাদারী করছেন প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান। স্বৈরাচারের আদর্শে উজ্জ্বীবিত মনেপ্রানে ফ্যাসিবাদের ধারক/বাহক এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা প্রকৌশলী চাকরিতে এভাবে পদ ও পদবীকে ব্যহার করে লাগাতার দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে ঢাকার বনশ্রীতে দুটি বিশালাকার বিলাশবহুল এপার্টমেন্ট (একটিতে তিনি নিজে থাকেন আরেকটি ভাড়া দেওয়া), আফতাবনগরে একটি সাড়ে তিন কাঠার প্লট, নিজের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ফিলিং স্টেশন ও ইটভাটাসহ নামে-বেনামে কম করে হলেও ১৫ কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তীতে।
প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসনান ডিভিশনটিতে বসেই দপ্তরটিকে দুর্নীতি আর লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেছেন। তিনি ৯০৯৯৯০নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে রায়গঞ্জ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক সেন্টারের আরসিসি বাউন্ডারীওয়াল ও গেট নির্মাণের কাজটি বাবর এসোসিয়েটস্ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেন মোটাঅংকের পার্সেন্টেজ নিয়ে। এ কাজের চুক্তিমূল্য হচ্ছে-২কোটি ৪২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪শ’ ৭৭ দশমিক চার চার পাঁচ টাকা। একই প্রক্রিয়ায় ২০২৩ -২০২৪ অর্থবছরে ৯৩৯০৭৯নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে কুষি বিপনন অধিদপ্তরের অফিস কাম ট্রেইনিং সেন্টারের নির্মাণ কাজটি ওই প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়া হয় মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে। এ কাজের চুক্তিমূল্য হচ্ছে ৪ কোটি ৫২ লক্ষ ৫৮ হাজার ১শ’ ১ দশমিক নয় ছয় সাত টাকা। নির্মাণ কাজ দুটিতে সিডিউল বহির্ভূতভাবে নি¤œমাণের নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার, ডিজাইন ও এলাইনমেন্ট বহির্ভূত কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যাশী সংস্থাগুলো ওই কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে বার্ষিক মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ওই একই প্রতিষ্ঠানকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯৮৬৩৯২নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে ৪৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৪শ’ সাত সাত নয় টাকা চুক্তিমূল্যে সিরাজগঞ্জ জেরা প্রশাসকের কার্যালয়ে ড্রেনেইজ সিস্টেম শক্তিশালী করণে ড্রেইন এপ্রোন নির্মাণসহ বাগানের গ্রীল নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় বিদ্যমান সড়কের মেরামতকরনের লাভজনক কাজটি পাইয়ে দেওয়া হয়। একই অর্থবছরে ৯৮৯৫৬৯ নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯শ’ ৮৮ দশমিক পাঁচ ছয় এক টাকা চুক্তিমূল্যে সিভিল সার্জন অফিসের ৩য় তলার কনফারেন্স রুমের নবায়ন ও আধুনীকিকরণ কাজ ও ৯৮৯৪৯৯ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬শ’ ৭৯ দশমিক ৫ টাকা চুক্তিমূল্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলুতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ; ৯৮৯৪২৮নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ১শ’ ৯২ দশমিক পাঁচ আট তিন টাকা চুক্তিমূল্যে একই হাসপাতালের পুরাতন ভবনে অকেজো প্লাষ্টারের নবায়ন, বাইরের ওয়েদারকোট ও ভিতরে প্লাষ্টিক পেইন্ট করণসহ আনুসাঙ্গিক কাজ এবং ৯৮৯৫০০ নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬শ’ ৬৯ দশমিক নয় আট ছয় টাকা চুক্তিমূল্যে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন বেলকুনিতে নেট স্থাপণ কাজ সহকারে লাভজনক কাজগুলো স্বৈরাচারের সহযোগী ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়া হয়। এই কাজগুলো নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে সাবঠিকাদার ব্যবহার করে নামকাওয়াস্তে কাজের বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ লোপাট করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ঠিকাদার জানায়।
আরও পড়তে পারেন: সিরাজগঞ্জ গণপূর্তে ফ্যাসিবাদি লুটপাট!
অপরদিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নিবাসী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দীন ইসলামের প্রতিষ্ঠান এসএ এন্টারপ্রাইজের নামে প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান নিজেই করছেন ঠিকাদরী ব্যবসা। ডিভিশনটিতে বসে তিনি একের পর এক লাভজনক কাজগুলোা পাইয়ে দেন এই প্রতিষ্ঠানের নামে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ৬তলা ফাউন্ডেশনে ৪তলা ভবন নির্মাণ কাজটি এমসিএল ও এসএ এন্টারপ্রাইজ জেভি নামক প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়া হয়। কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নির্বাহী প্রকৌশলী মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানকে একই অর্থবছরে ৯০৯২২৭নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২৩ কোটিরও অধিক টাকার চুক্তিমূল্যে বলেকুচি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক সেন্টার স্থাপন কাজটি একই জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়া হয়। ৯০৯৯৯০নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২ কোটি ২৬ লক্ষ ৬হাজার ৪শ;’ ৭৭ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০১৮-২০১৮ অর্থবছরের রায়গঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদের আরসিসি বাউন্ডারিওয়ালের অবশিষ্ট কাজের বাস্তাবয়নসহ প্রবেশ গেইট নির্মাণ কাজটি ওই এসএ এন্টারপাইজকে পাইয়ে দেন তিনি। প্রায় দ্বিগুণ ওভারইস্টিমেটেড এই কাজটি প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান নিজেই করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১০৯২০৯৯নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ১৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩শ’২ টাকা চুক্তিমূল্যে সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের নীচ তলায় হাজতী রুমকে ভেঙ্গে ডিআরও রুম ও কোর্ট পরিদর্শকের কার্যালয়ে রুপান্তরকরণ কাজটিও এসএ এন্টারপ্রাইজকে পাইয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও চলতি অর্থবছরেও এ যাবৎ প্রায় সোয়া কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা পলাতক দীন ইসলামের এসএ এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে। এগুলোর মধ্যে টেন্ডার আইডি নং ১১৫১১৪৩ এর মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাবষ্টেশন ভবন নির্মাণসহ ২৫০ কেভিএ সাবষ্টেশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ স্থাপণ কাজটি এসএ এন্টারপ্রাইজকে পাইয়ে দেওয়া হয়। এর চুক্তিমূল্য হচ্ছে ৬৪ লক্ষ ৭শ’ ২৪ টাকা। টেন্ডার আইডি নং ১২১৩২৬১ এর মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এ-ব্লকে নীচতলা থেকে ৩য় তলা পর্যন্ত বারান্দায় ফেøার টাইলস স্থাপণ সিড়ির রেলিং পরিবর্তনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সিভিল স্যানিটারি মেরামত কাজটিও একই প্রক্রিয়ায় এসএ এন্টারপ্রাইজকে পাইয়ে দেওয়া হয়। এ কাজটির চুক্তিমূল্য হচ্ছে-১১ লক্ষ ৬১ হাজার ৮শ’ ১০ টাকা। ১২১৩২৭২ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ১শ’ ৮০ টাকা চুক্তিমূল্যে একই দপ্তরের বি-ব্লকে নীচতলা থেকে ২য় তলায় সিড়িতে টাইলস স্থাপনসহ সিড়ির রেইলিং পরিবর্তন ছাদের আংশিক প্যাটেন্টস্টোন করন কাজ; ১২১৩২৪৭ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ১৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৫শ’ ২০ টাকা বরাদ্দে জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সি-ব্লকে নীচতলা থেকে ২য় তলার সিড়ির টাইলস স্থাপন সিড়ির রেইলং পরিবর্তনসহ ছাদের প্যাটেন্টস্টোন করন এবং ১১৭৩৭৮৮নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ১৩ লক্ষ ৬ হাজার ৩শ ২৯ টাকা চুক্তিমূল্যে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের ৬০০ বর্গফুট বিশিষ্ট আবাসিক ভবনের মেরামত ও নবায়ন কাজগুলো একই প্রক্রিয়ায় নিসিদ্ধ সংগঠন স্বৈরাচার ছাত্রলীগের নেতা দীন ইসলামের মালিকানাধীন এসএ এন্টারপ্রাইজকে পাইয়ে দেওয়া হয়। ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনের পরে ঠিকাদার দীন ইসলামের নামে বেশ কয়েকটি মামলা হওয়ার পরে জনসম্মুখে আসছে না এই স্বৈরাচার ঠিকাদার। এমনকি তার বন্ধু গোপালগঞ্জের অনেক ঠিকাদার তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। এই অবস্থায় তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে দুর্নীতিবাজ লুটেরা নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি নিজেই উল্লেখিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন দেখিয়ে বড় অংকের বরাদ্দ লেপাট করার ব্যবস্থা করেছেন। এই লুটেরা স্বৈরাচার প্রকৌশলী ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর স্টাফ অফিসার থাকতে টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে এসএস এন্টারপ্রাইজকে বিগত লীগ সরকারের আমলে শতাধিক কাজ পাইয়ে দিয়েছেন মোটা অংকের পার্সেন্টেজ নিয়ে। নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নিয়ে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়ম দুর্নীতির কারণে এই প্রকৌশলী শের-ই-বাংলা নগর এলাকার এসডিই থাকতে তাকে আবার নীচের পদে নামিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকে তার পদোন্নতি। তার ব্যাচমেটরা এখন ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী। অবশেষে আওয়ামী সরকারের সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরিফকে ম্যানেজ করে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে ২০২৩ এর নভেম্বরে সিরাজগঞ্জ ডিভিশনে পোষ্টিং নিয়ে দুর্নীতি আর লুটপাটের হোলিখেলায় মেতে উঠেন এই প্রকৌশলী। এর পর ২০২৪ ও ২০২৫ এর জুন ক্লোজিংয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আএফকিউসহ ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৩কোটি টাকা এই প্রকৌশলী লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাবর এসোসিয়েটস্ এর নামেও অসংখ্য কাজ নিজেই বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। এ নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান সাপেক্ষে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থাছে পরবর্তীতে।
একইসাথে বর্তমান অর্থবছরে লুটপাটের উদ্দেশে ছোট ছোট কাজে বিভক্ত করে প্রায় সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দে ৩৭টি আরএফকিউ’র সংস্থান রেখেছেন ডিভিশনের এপিপির সামগ্রীক বরাদ্দে মধ্যে। এ সকল কাজের বেশকিছু আরএফকিউ টেন্ডার কোটেশন কল করে ইতোমধ্যে কাজের বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। এগুলো নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির আভিযোগ বেশীরভাগ স্থানীয় ঠিকাদারদের মুখে মুখে।
তার এই বেপরোয়া লুটপাটে আরো জড়িত আছেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) স্বৈরাচারের ভূত কল্যান কুমার কুন্ডু ও এসডিই ই/এম মিজানুর রহমান আকন।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি না ধরায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ)