ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কাজ না করে বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
গণপূর্ত প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কাজ না করে বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728
বিশেষ প্রতিনিধি॥ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ জঋছ দরপত্র আহবান করে  কাজ না করেই দরপত্র বিল পরিশোধ করেছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
সরজমিনে দেখা  যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আহসান হাবীব ৩ লক্ষ টাকা মূল্যমানের মোট ২৮টি জঋছ বা জবয়ঁবংঃ ভড়ৎ ছঁড়ঃধঃরড়হ এর দরপত্র আহবান করেছেন। তার  মধ্যে ১২টি দরপত্রের মূল্য ৩৬ লাখ টাকা তিনি  ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন। তবে পরিশোধকৃত এই ১২টি দরপত্রের মধ্যে   কাজের কোনো চিহ্ন দেখা যায় নাই সরজমিনে। অভিযোগ রয়েছে এই জঋছ দরপত্র আহবানের মাধ্যমে আহসান হাবীব সরকারি কোষাগারের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী কোটেশন আাহ্বানের ক্ষেত্রে পিপিআর ২০২৫ এর ৯২(৬) ধারা অনুযায়ী ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ যথা সম্ভব সর্বোচ্চ দরদাতার নিকট থেকে কোটেশন আহ্বান করিবেন।  কিন্তু ওই সকল কোটেশন আহ্বান করার ক্ষেত্রে পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ম্যাপিং প্রক্রিয়ায় কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পিপিআর-২০২৫ এর ৯২(৬) ধারার সম্পূর্ণ লংঘন করার পাশাপাশি প্রতিযোগীতা না হওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছেন এই দুর্নীতিবাজ লুৃটেরা নির্বাহী প্রকৌশলী। কোটেশনগুলোর ক্ষেত্রে পিপিআর ২০২৫ এর অন্যান্য বেশীরভাগ ধারাই লঙ্ঘণ করা হয়েছে।
এছাড়া রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক বিল্ডিং ৩-ঘুরে দেখা যায় এর ৫ম তলার ছাদের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১২০১৮৮২নং দরপত্র আহবান করেছিলেন প্রকৌশলী আহসান হাবীব। ব-এড়াবৎহসবহঃ চৎড়পঁৎবসবহঃ বা ব-এচ’তে দরপত্রটি ইজিপির আর্কাইভে চলে গিয়েছে। ইজিপি-এর আর্কাইভে তখনই একটা দরপত্র চলে যায় যে সময় দরপত্রটির কাজ ও মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু   রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ব্যারাক বিল্ডিং ৩নং ভবনের ছাদের কোনো সংস্কারই হয়নি। জরাজীর্ণ অবস্থাতেই আছে। বিভিন্ন জায়গার আস্তর খুলে খুলে পড়ছে। ভবনটির এই সংস্কার দেখিয়ে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করেছেন আহসান হাবীব। ব্যারাক ৩ ভবনের একজন সিপাহী বলেন, এই ভবনের কোনো কাজই হয়নি যা আমার চোখে পড়েনি। নির্বাহী প্রকৌশলী ভবনের সংস্কারের দরপত্র আহবান করে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে দরপত্রের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। 
এই প্রকৌশলী ইতোপূর্বে সাভার ও নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে থাকাকালীন প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা অমান্য করে এপিপি’র বরাদ্দের দরপত্র এলটিএম এর পরিবর্তে শতভাগ ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করেছেন। সূত্র জানায়, এলটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করলে সেই কাজ লটারির মাধ্যমে পেতে হয়। যা হাবিবের কমিশন বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটে। তিনি ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেছেন কমিশন নিয়ে তার নিজস্ব ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য। অভিযোগ আছে, ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার পর যে ঠিকাদার তাকে ১০ শতাংশ কমিশন দিতো তাকেই তিনি কাজ দিয়ে দিতেন। এভাবেই তিনি নিজেকে মিস্টার টেন পার্সেন্ট হিসেবে পরিচিতি করান। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ডিঃিভশনটির প্রায় ৫০% বরাদ্দ খরচ দেখিয়েছেন ওটিএম এর মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে-১২৯০০১৫, ১২৯০০১৪, ১২৯৩৪৭৭, ১২৮৮৪০২, ১২৮১১২৯, ১২৮২১৫৯, ১২৮২১৬৯, ১২৬৫৮৮৪, ১২৬৫৮৮৫, ১২৯০০১৬, ১২৭৯৮৫৭, ১২৭৯৮৫৯, ১২৮২১৭০, ১২৮১১২৩, ১২৮১১২৫,১২৭১৩৬৫, ১২৭১৩৬৭, ১২৭১৩৬৮, ১২৭১৩৬৯, ১২৭১৩৭১, ১২৭১৫৬২, ১২৭১৫৬৩, ১২৭১৬৩৯, ১২৭১৬৪০, ১২৫২৭৯১, ১২৩৯৭৬০, ১২৩৯৭৬১,১২৩৯৭৬২, ১২৩৯৭৬৩, ১২৩৯৭৬৫, ১২৪৪০৭৪, ১২৩৯৭৮৪, ১২৩৯৭৮৬, ১২৪১৩০৮, ১২৪১৩১০, ১২৩১৩৩৭, ১২৩১৩৪২, ১২২৪১৪৭, ১২২০৯৯৭, ১২২০৯৯৯, ১২১২৯০৩, ১২১২৯০৪, ১‘২১২৯০৫, ১২০৪৩০২, ১২০৪০৭৩, ১২০৪০৭২, ১২০১৮৮০, ১২০১৮৮২, ১১৮৪৫৫৭, ১১৮৪৫৫৮,১১৮৪৫৫৯, ১১৭৬৮৪৫, ১১৭৬৮৪৬, ১১৭৬৮৪৪, ১১৭৬৮৪৭, ১১৭৬৮৪৮, ১২৯৩৪৭৭, ১২৯০০১৪, ১২৮১১৩৪, ১২৬৫৮৮৪ ও ১২৮৮৪০২।
হত্যা মামলার আসামী প্রকৌশলী আহসান হাবীব: ২০২৪ এর স্বৈরাচার সরকার হটাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সহায়তা করার অভিযোগও উঠেছে আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে তিনি বিভিন্নভাবে অর্থ ও রসদ সরবরাহ করেছিলেন। ওই আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি বাদীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ ও প্রলোভন দেখিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী মহলের ভূমিকার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাবান মহলের সমর্থন থাকায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি এখনো বহালতবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা: অপরদিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা স্বৈরাচারের দোসর এই প্রকৌশলী আ’লীগ সরকারের পুরোটা সময়ে বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে পোষ্টিং নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) হিসাবে রংপুর গণপূর্ত বিভাগে ছিলেন প্রায় ৪ বছর। সেখানে সিজেএম রংপুর মেডিকেল কলেজ মেরিন একাডেমীসহ বিভাগীয় পর্যায়ের অনেক গুরুপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন ঊর্দ্ধতনদের যোগসাজশে। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সির সময়ে এসডিই হিসাবে পোষ্টিং নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সাবডিভিশনে এসেও বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ লুটপাটের ষোলকলা পূর্ণ করেন। পদোন্নতি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে সাভার গণপূর্ত বিভাগে ছিলেন আরো প্রায় ৫ বছর। ওই সময়ে সাভারে জিন ব্যাংক বিপিএটিসি শক্তিশালী করণ হেলথ ম্যানেজমেন্টসহ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান সেখানে। ওই সকঃল প্রকল্পে ইচ্ছেকৃত ঘাপলার মাধ্যমে নি¤œমাণের কাজ করানো বার বার ডিজাইন এলাইনমেন্ট পরিবর্তন ও অসংখ্য ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে অর্ধ শতাধিক কোটি টাকা লোপাট করেন এই প্রকৌশলী। পরবর্তীতে ২ বছর নারায়ণগঞ্জ ডিভিশনের পরে ঢাকা ১নং গণপূর্ত বিভাগে থেকে আ’লীগের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে তাদেরকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে আসছেন প্রকৌশলী আহসান হাবীব। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এক শ্রেণীর ঠিকাদারের অর্থায়নে দেশ-বিদেশে বান্ধবীদের নিয়ে প্রমোদ ভ্রমনসহ জুলাই আন্দোলনে  ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ দমাতে ছাত্রলীগ নেতা দীন ইসলাম ও কাওসার মোল্লার ভাগ্নে হাসান মোল্লার মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বর্তমানে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তীতে।            
এই সব অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় জানতে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি গতানুগতিক ভাষায় বলেন, এ সকল বিষয় মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। 




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
নারী কেলেঙ্কারীতে অপ্রতিরোধ্য গণপূর্ত প্রকৌশলী কামরুল!

নারী কেলেঙ্কারীতে অপ্রতিরোধ্য গণপূর্ত প্রকৌশলী কামরুল!