নিজস্ব প্রতিবেদক:
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি সম্পন্ন হয়েছে। একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলীর বদলি প্রশাসনিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলেও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময় এবং প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বদলির জন্য কোনো সুস্পষ্ট, প্রকাশিত ও অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে যে, মাত্র এক মাস আগে যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের নামও পুনরায় লটারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তবে বদলি প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে সম্ভাব্য প্রভাব
গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন বাংলাদেশ সচিবালয়, বঙ্গভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বাসভবন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিভিআইপি স্থাপনার পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি মেরামত অত্যন্ত অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের ওপর নির্ভরশীল। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার বদলির ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চলমান কার্যক্রমে সাময়িক বিঘœ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবিক দিক
বছরের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিক বদলির কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের শিক্ষাজীবন, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব মানবিক বিষয়ও বিবেচনায় রাখা উচিত।
সমতার নীতি
যদি লটারির উদ্দেশ্য হয় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বৈষম্যহীন বদলি নিশ্চিত করা, তবে একই নীতি শুধু উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে নয়, অধিদপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন ও মধ্যম পর্যায়ের প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে উচ্চপদস্থ পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রয়োজনে স্বাধীনভাবে পর্যালোচনাযোগ্য হওয়া প্রয়োজন।
সুপারিশ
১. বদলির জন্য একটি সুস্পষ্ট ও লিখিত নীতিমালা প্রকাশ করতে হবে।
২. একই কর্মকর্তা যেন অযৌক্তিকভাবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় বদলির আওতায় না আসেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাপক বদলি এড়িয়ে মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।
৪. গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার সেবা অব্যাহত রাখতে পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৫. স্বচ্ছতা ও সমতার নীতি যদি অনুসরণ করা হয়, তবে তা অধিদপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
স্বচ্ছ, ন্যায্য ও মানবিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই একটি দক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। তাই বদলি ও পদায়নের প্রতিটি সিদ্ধান্তে নীতিমালা, জবাবদিহিতা এবং সমতার নীতি সমানভাবে অনুসরণ করা জরুরি। যদি বদলি ও পদাডনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সমতা নিশ্চিত করার জন্য লটারির পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তবে একই নীতি উচ্চপদস্থ পদায়নের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা উচিত।
বিশেষ করে, গ্রেডেশন তালিকায় শীর্ষস্থানীয় প্রথম পাঁচজন যোগ্য কর্মকর্তার মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে প্রধান প্রকৌশলী নির্বাচন করা হলে প্রক্রিয়াটির নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে জনমনে আরও আস্থা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন বা পদায়নের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা, যোগ্যতার মানদন্ড এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।