ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রূপপুরের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন শেষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 13, 2026 ইং
রূপপুরের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন শেষ ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগ্রহীত
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়েছে, যা চুল্লির অবস্থা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত হাজারের বেশি বিষয় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের চালু করার প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ তথ্য সহায়তা ব্যবস্থা, যা সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে অপারেটরদের সহায়তা করবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, নতুন প্রযুক্তি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনায় সহায়তা করবে। তবে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে প্রথম ইউনিটের আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস বা আরএএসইউ সরবরাহ করা স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাটি ৪৩টি সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত। এতে যুক্ত প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ব্যবস্থা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।

নতুন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বা ওআইএসএস। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি তৈরি করেছে রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস বিভাগ। ডিজিটাল টুইন হলো কোনো বাস্তব যন্ত্র বা ব্যবস্থার ভার্চুয়াল প্রতিরূপ, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়।

রোসাটম জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ওআইএসএস যুক্ত করা হয়েছে। ইউনিটটির প্রাথমিক চালনা ও চালু করার প্রস্তুতিতে এটি অপারেটরদের সহায়তা করছে। পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ব্যবস্থার আরেকটি অংশ ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা বা বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে এতে ৮০টির বেশি নির্দেশিকা রয়েছে। জটিল পরিচালনাগত তথ্য সহজভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেও সহায়তা করবে প্রযুক্তিটি।

রোসাটমের দাবি, রাশিয়ার বাইরে তাদের নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ওআইএসএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানোর খবর জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে চুল্লির ভেতরে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন মাত্রায় চুল্লির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিটটিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প। আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তাঁর ভাষ্য, নতুন তথ্য সহায়তা ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমাতে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করতে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের নির্ভরযোগ্য সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখবে।

রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন এবং প্রথম ইউনিটে তথ্য সহায়তা প্রযুক্তি যুক্ত হওয়াকে পরিচালন প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ওপর।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৯১৫

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৯১৫