ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 17, 2026 ইং
সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ছবির ক্যাপশন:
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ এখন থেকেই শুরু করা প্রয়োজন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহর পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণেরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিলে অল্প সময়েই একটি এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। তবে এ উদ্যোগ শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে সবার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠবে। তাই মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রথমেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর এ রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকে প্রাণ হারান। ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসহ সব জায়গার আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এসব বর্জ্য পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বুঝিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সহযোগিতাও করতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সবার কল্যাণের জন্য।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা উদ্বেগজনক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের আগের উদ্যোগগুলো ছাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান প্রায় বৃক্ষশূন্য ছিল। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হওয়ায় নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে, যা এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। এর পেছনে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও পানিদূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ