ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগ্রহীত
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজের সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই দিনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও ‘ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন’ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন তিনি।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলতে হবে। কেউই চান না, তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।”

তিনি বলেন, সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না। স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখলেই হবে না, পুরো ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।”

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ সমস্যা এক দিন কিংবা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা যাবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রাখলে ফল পাওয়া যাবে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও কাজ করার ইচ্ছা থাকতে হবে।

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা খেয়াল করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করে জানান। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও এভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিলে পরিবর্তন সম্ভব।

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার গুরুত্ব বোঝাতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বিদেশের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে নিজেদের শহর নিয়েও আফসোস করেন। কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে হবে না, নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ওই কর্মকর্তা সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা কিছুটা ভালো হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।”

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, কোথাও নতুন করে সড়ক বিভাজক তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, দায়িত্ব কতটা সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে এবং কাজের জন্য কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন তিনি।

এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও ‘ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন’ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিরোধী দল বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ না করার কারণেই আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও তারা স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আবার আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। তাদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব না হলেও দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

বিরোধিতা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জন শহীদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে এসেছে এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এ দল আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডিস মশা সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল চেনে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সবাইকে অংশ নিতে হবে।

এ সময় হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন তিনি।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকৌশলী আবু নাসেরের কবলে গণপূর্ত অধিদপ্তর

প্রকৌশলী আবু নাসেরের কবলে গণপূর্ত অধিদপ্তর