ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সম্পদের পাহাড়ে ফরিদপুর গণপূর্ত ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2026 ইং
সম্পদের পাহাড়ে ফরিদপুর গণপূর্ত ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর! ছবির ক্যাপশন:
ad728
বিশেষ প্রতিবেদক:
 চাকরির আয়ের সাথে সামঞ্জস্যহীন সহায়-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন ফরিদপুর গণপূর্ত ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলম। সরকারি চাকরিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে এই কর্মচারি ঘুষ বাণিজ্য বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বিবিধ অবৈধ উপার্জনে কয়েক কোটি টাকার  সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  
ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগে অভিযুক্ত এই কর্মচারির বর্তমান পদবি ‘উচ্চমান হিসাব সহকারী। বেতন স্কেল ১৪তম গ্রেড। গত ২০ বছরের চাকরিজীবনে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে তিনি যে অর্থ উপার্জন করেছে, বাস্তবে তার সম্পত্তি দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। তিনি গ্রামে প্রায় ৪ কোটি টাকার রাজকীয় প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন। ফরিদপুর শহরে আছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্ট। তার নিজ ও স্ত্রীর নামে রয়েছে কয়েক বিঘা জমি ও প্লট। সেগুলোর দামও কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা বলে অনুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ২০ বছর একই দপ্তরে থাকার সুবাদে তিনি একটি ঘুষ বাণিজ্য ও কমিশ,ন সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্তে যে কোনো কাজের বিল পাসের ক্ষেত্রে ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীরকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এছাড়া প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তৈরি, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যুসহ প্রতিটি কাজের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় তাকে। কেউ নির্ধারিত কমিশন বা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইল আটকে রেখে চরম হয়রানি করা হয়। ইতোপূর্বে লাইসেন্স নবায়ন ফি, ইজিপি শুরু হওয়ার পূর্বে সিডিউল ফিসহ সরকারি খাতের বিভিন্ন রাজস্বের কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিভিন্ন লাইসেন্স ব্যবহার করে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসা করার অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় ঠিকাদার। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় ঠিকাদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশিযারের দায়িত্বে থাকার সুবাদে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের প্রভাবেই গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
আয়ের সঙ্গে সম্পদের বিশাল ব্যবধান
মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নসংলগ্ন এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের একটি রাজকীয় বিলাসবহুল চারতলা বাড়ি

সরকারি চাকরির ১৪তম গ্রেডের স্কেল অনুযাযী, ১০ হাজার ২০০ টাকায মূল বেতনে চাকরিতে যোগ দেন জাহাঙ্গীর আলম। সে হিসেবে ২০ বছরের চাকরিজীবনে তার বৈধ আয় ২৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা হওয়ার কথা। পরবর্তীতে বেতন বৃদ্ধি ও ভাতাসহ আরও কয়েক লাখ টাকা উপার্জন করেছেন তিনি। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার বৈধ আয়ের চেয়ে বর্তমানে তার দৃশ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। এতো অল্প সময়ে তিনি কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণের সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুর শহরের ডিআইবি বটতলা সংলগ্ন ১০ তলা বিশিষ্ট এই ভবনে জাহাঙ্গীরের ফ্ল্যাট রয়েছে

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সরেজমিন অনুসন্ধানে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়ন সংলগ্ন এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের একটি রাজকীয় বিলাসবহুল চারতলা বাড়ির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলম তার নিজের এবং স্ত্রীর নামে কামারখালীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন। তবে মোট কত শতাংশ জমি তাদের নামে কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য জানতে স্থানীয় আড়পাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা বাবুল শেখের কাছে গেলে জাহাঙ্গীর আলমের নাম শোনার পরপরই তিনি আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
শহরে অভিজাত ফ্ল্যাট ও বেনামি সম্পদ
জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদের জাল শুধু নিজ গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। ফরিদপুর শহরের ডিআইবি বটতলাসংলগ্ন ১০তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন ‘বর্ণমালা’র ৪ নম্বর ভবনে তার একটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্ট রয়েছে। ভবনটির চারতলায ৫-এর ‘সি’ ইউনিটে অবস্থিত এই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম তার পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভবনের দারোয়ান কুদ্দুস শেখ।
এ বিষয়ে ‘বাঙালি সংবাদ’ এর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য
জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও রেসপন্স না করায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিভিশনটির নিবৃাহী প্রকৌশলী জনাব খায়রুজ্জামন সবুজের মোবাইলে যোগাযোগ করে না পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। (ক্রমশঃ) 



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাঁদপুর গণপূর্ত’র প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে

চাঁদপুর গণপূর্ত’র প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে