বিশেষ প্রতিবেদক:
রূপপুর গ্রীণসিটির বালিশ কেলেঙ্কারীকেও হার মানিয়েছে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা রাশেদ কবিরের বেপরোয়া লুটপাট। নিজজেলা পাবনার বাসিন্দা হিসাবে দায়িত্বের শুরু থেকেই অধীনস্থদের নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরী করে চালিয়ে আসছেন বেশুমার দুর্নীতি। ক্ষমতার প্রভাব ও অবৈধ টাকার গরমে তিনি উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকেও থোরাই কেয়ার করছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ঊর্দ্ধতনদের সাথে কারণে-অকারণে অহরহ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। তিনি মহামান্যের ছেলের ঘনিষ্ট বন্ধু। বিতর্কিত ক্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগ থেকে নির্বাচন করা ওই বন্ধুকে জিতিয়ে আনতে খরচ করেছেন প্রায় দেড়কোটি টাকা। এমন অভিযোগ স্থানীয় শোষিত বঞ্চিত ঠিকাদারদের মুখে মুখে। এর পরেই তিনি নিজজেলা পাবনায় পাষ্টিং নিয়ে সরকারি বরাদ্দ লোপাটের উদ্দেশে সেখানে লুটপাটের আখড়া বানিয়েছেন। নিয়ে এখন প্রকৌশলী রাশেদ কবীর ভোল পাল্টে জার্সি ত্যাগ করে কট্টর বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন। রূপপুর গ্রীণ সিটি, পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও মেরিন একাডেমী জোড়দারকরণ প্রকল্পগুলো নিয়ে লুটপাটের নীলনকশা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন এই প্রকৌশলী। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
গ্রীণসিটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও চলছে মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ: রূপপুর গ্রীণসিটি প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে প্রকল্পের বরাদ্দে ইতোমধ্যে লুটপাটের উদ্দেশে শুরু হয়েছে মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। পাবনা গণপূর্ত ই/এম ডিভিশন নামে একটি নতুন ডিভিশন গঠন করা হলেও লুটেরা প্রকৌশলী রাশেদ কবীর প্রকল্পের ই/এম অঙ্গের কাজ শেষ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রূপপুর গ্রীণসিটির ২১ নং হাইরাইজড ভবনে প্যাসেঞ্জার লিফটের ক্ষতিগ্রস্থ ও ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও প্রতিস্থাপন কাজের ১১৪৮৭৩৪ নং টেন্ডার আইডিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। বিন্তু অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাজটি পাইয়ে দেওয়া হয় সনেক্স ইন্টারন্যাশনাল নামক ১টি প্রতিষ্ঠানকে। ১ কোটি ১লক্ষ ১১ হাজার ৪শ’ ৭৮ দশমিক ৪ শুণ্য শুণ্য টাকা চুক্তিমূল্যের এই কাজটি আগেই নামকাওয়াস্তে বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করার উদ্যোগ নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীর। প্রতিষ্ঠানটি এই প্রকৌশলীর যোগসাজশে রূপপুর গ্রীণসিটি ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রকল্পে অনেকগুলো কাজ বাগিয়ে নিয়ে এর বিতর্কিত বাস্তবায়ন করেছে। এর প্রায় সবগুলোই অত্যন্ত নি¤œমাণের ও সিডিউল বহিভূর্ত মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দু’জন ঠিকাদার।
একইভাবে ১২৩৫২৩০নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২কোটি টাকা বরাদ্দে রূপপুর গ্রীণসিটি প্রকল্পের ৬.১, ৬.২, ৬.৩, ৫.৫, ৫.৭, ৫.৬, ৫.৮, ৫এ৬, ৫এ৭, ৫এ৮নং ভবনসহ মোট ১১টি ভবনের ব্যবহার অযোগ্য ক্ষতিগ্রস্থ বৈদ্যুতিক ফিটিংস্ ফিক্সার ও বাসায় ব্যবহারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরিবর্তন কাজ; ১২৩৫২৩১নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে গ্রীণসিটির প্রায় ২কোটি টাকা বরাদ্দে ৫.১, ৫.২, ৫.৩, ৫এ১, ৫এ২, ৫এ৩, ৫এ৪, ৪.১, ৪.২নং ভবন ও প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর কাম ডরমেটরিসহ মোট ১০টি ভবনের ব্যবহার অযোগ্য ক্ষতিগ্রস্থ বৈদ্যুতিক ফিটিংস্ ফিক্সার ও বাসায় ব্যবহারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরিবর্তন কাজ; কোটি টাকা বরাদ্দে ১২৩৪২২৭ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে গ্রীণসিটর ভবনসমুহের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবহার অযোগ্য এয়ারকুলার মেসিনের স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ স্থাপনসহ সার্ভিসিং কাজ; ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দে ১১৪৮৭৩৮নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২১নং হাইরাইজড ভবনের ক্ষতিগ্রস্থ ও ত্রুটিপূর্ণ প্যাসেঞ্জার লিফটের খুচরা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন কাজ; ২কোটি ২৯ লক্ষ ৯১ হাজার ৬শ’ ৬৩ টাকা বরাদ্দে ১২৫৪৯৪২নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে রূপপুর গ্রীণসিটির ৭, ১০, ১৩ ও ১৭নং ২০ তলা ভবনের বাহিরের রং করণ কাজ; ২কোটি টাকা বরাদ্দে ১২০২৮৪৯নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই প্রকল্পের ৪নং ২০তলা ভবনের বাহিরের রংকরণসহ কোয়ারেন্টিন ভবন ও আনসারদের অস্থায়ী আবাসিক ভবনের নবায়ন কাজগুলো নামে ঘাপলার আশ্রয় নিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাটের আয়োজন করেছেন এই লুটেরা দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী প্রকৌশলী।
একইভাবে ৭৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ২শ’ ১১ টাকা বরাদ্দে গ্রীণ সিটি প্রকল্পের ভবন নং ৩(৫এ৯), ১৩(৫এ৬) এর সিভিল স্যানিটারি রিপেয়ার ওয়ার্ক; ৭৪ লক্ষ ১ হাজার ৪শ’ ৯৮ টাকা বরাদ্দে একই প্রকল্পের ৫(৫.৫), ১৭(৫.৬)নং ভবনের রংকরণ কাজসহ সিভিল স্যানিটারি মেরামত কাজ; প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে গ্রীণসিটি প্রকল্পের ভবন নং ১৫, ১৬, ১৮, ২০ ও ২১নং ভবনের ভিতরের রংকরণসহ জরুরী সিভিল স্যানিটারী মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ: প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দে একই প্রকল্পের ভবন নং ৮(৫.২), ৯ (৫.১), ১১(৫.৩), ১৪(৫.৪) নং ভবনের রংকরণসহ পূর্ত মেরামত কাজগুলোতে হরিলুটের আয়োজন করেছেন এই প্রকৌশলী। এ সকল কাজে ৩/৪গুণ বেশী ওভারইস্টিমেট করে ঊর্দ্ধতনদের যোগসাজশে প্রায় কোটি টাকা লুটপাট ভাগ-বাটোয়ারার বন্দোবস্ত করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
৫শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঘাপলা: একইভাবে ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৪০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে হাসপাতালে মেডিকেল ওয়েষ্ট ম্যনেজমেন্ট সিষ্টেম সরবরাহ স্থাপণ কাজের ১১২৬০২৪ নং টেন্ডার আইডিতে ৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনে ৬টি অংশগ্রহণ করলেও ট্রেডভিশন লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
৬কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দে ১১৩২৭২৯ টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালে মেডিকেল গ্যাস সিষ্টেম ইনষ্টলেশন ও ডিষ্ট্রিবিউশন লাইন নির্মাণ কাজ; ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬৫০নং আইডি’র মাধ্যমে সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১০তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজেএ ব্লকের উন্মুক্ত জায়গায় গ্লাস ওয়ার্ক, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬২৬নং টিআইডি’র মাধ্যমে একই প্রকল্পে সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১০তলা ভবন নির্মাণ কাজের আওতায় ওভারহেড রিজার্ভার নির্মাণ কাজ; ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬২০নং টিআইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালের একই ভবনে ১৫ ও ১২ ইঞ্চি ইটের গাথুনি কাজ; আরো ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬১৬নং আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালে একই ভবনের ওটি ল্যাবরেটরি আইসিইউ রুমে ভিনাইল ফ্লোরিং সরবরাহ ও স্থাপন কাজ; ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬১২ নং আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতাৎেলর একই ভবনে ফাউন্ডেশন ব্রিকওয়াল নির্মাণসহ আরসিসি ওয়ার্ক; ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৫৯৬নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালে ১০তলা ভবন নির্মাণ কাজের আওতায় মসজিদ মর্গ মরচুয়ারি ভবন নিরাপত্তা কক্ষ বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন ভবন পাম্প হাউজ ও পাবলিক টয়লেট ভবনে মার্বেল স্টোন ফ্লোরিংসহ সংশ্লিস্ট এলাকায় আরসিসি স্লাব্ তৈরীর কাজ; ৬ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২৩১৭৯০নং টিআইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালের একই ভবনে এসটিপি সরবরাহ ও স্থাপণ কাজগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পন্ন হলেও ওয়ার্ক অর্ডার না দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশে। চলমান উল্লেখিত কাজগুলো মান নিয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বেপরোয়া পার্সেন্টেজ বাণিজ্যে ও সিডিউল বহির্ভূত নি¤œমাণের কাজের বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে সহযোগীতা করছেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই-১) মিজানুর রহমান, এসডিই ই/এম ফারুক হোসেন। এ দুই মাঠ কর্মকর্তা নগদ পার্সেন্টেজ ও নি¤œমাণের কাজ করানোর মাধ্যমে ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
এছাড়াও মাদকাসক্ত বলে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীর টেন্ডার আটকে রেখে ওয়ার্কঅর্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে মোাটা অংকের ঘুষ নিয়ে দর কষাকষি ও কোন ধরণের নিলাম ছাড়া ডিভিশনটির বিভিন্ন সাবডিভিশনে থাকা কয়েক কোটি টাকার মালামাল হায়েব করার বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।