ঢাকা | বঙ্গাব্দ

খাদ্য অধিদপ্তর প্রকিউরমেন্ট শাখার টেন্ডারে ঘাপলা!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
খাদ্য অধিদপ্তর প্রকিউরমেন্ট শাখার টেন্ডারে ঘাপলা! ছবির ক্যাপশন: পরিচালক সংগ্রহ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ
ad728
বিশেষ প্রতিবেদক:
 খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বা প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমে ব্যাপক ঘাপলা বিরাজ করছে। ইচ্ছেকৃত ঘাপলা তৈরী করে কয়েকটি কোম্পানীকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়ে খাবলার মাধ্যমে দপ্তরটির পরিচালকের নেতৃত্বে ব্যাপক ঘুষ বা কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন অসংখ্য সাধারণ সরবরাহকারী ঠিকাদার। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। 
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পিপিআর এর শর্ত লংঘন করে দপ্তরটির পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান বস্তা ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরণের সরবরাহ কাজে এলটিএম না করে ওটিএম পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে গুটি কয়েক কোম্পানীকে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। নভেম্বর ২০২৩ থেকে দপ্তরটির দায়িত্বে এসে পছন্দের ঠিকাদারদের এভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে ইতোমধ্যে তিনি পার্সেন্টেজ বাবদ অর্ধশতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময়ে তিনি প্রায় সাড়ে ৬শ’ টেন্ডার করেছেন ওটিএম এর মাধ্যমে। পূর্বে ন্যায় এই টেন্ডারগুলোতে এলটিএম করলে শুধুমাত্র সিডিঊল বিক্রি বাবদ কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আয় হতো সরকারের। নিজের অনৈতিক বাণিজ্যের কারণে সরকারকে অন্তত ২০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন এই দুর্নীতিবাজ খাদ্য কর্মকর্তা।
অপরদিকে, ওটিএম প্রক্রিয়ায় মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে রেটকোড ফাঁস করে দিয়ে সিন্ডিকেটভূক্ত ঠিকদাার তথা পছন্দের কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। পরিচালক মনিরুজ্জামানের পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে- সিয়াম টেক্সটাইল এন্ড জুট, মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ঝিকু এন্টারপ্রাইজ, আফিল জুট উইভিং মিলস লিঃ, মেসার্স চন্দ্রদ্বীপ কনস্ট্রাকশন, মেসার্স পথবাংলা ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স ওহী জুট ফ্রেব্রিকস, এম. এ. সি. এস জুট ফাইবারস, হাপসা টেক্সটাইলস, মদিনা জুট ফেব্রিক্স, মেসার্স হারুন এন্ড সন্স, এলাহী ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিক এন্টারপ্রাইজ এবং এফ. এ এন্টারপ্রইজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশীরভাগই স্বৈরাচার লীগ সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে অধিদপ্তরের প্রকিউরমেন্ট কর্তাব্যক্তিদের যোগসাজশে এখনও সিন্ডিকেট নিযন্ত্রণ করছে তারাই।  
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বস্তা সরবরাহের নামে নি¤œমাণের নতুন বস্তা ও ব্যাগ, খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমারা পুরনো বস্তা সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। কার্যাদেশের পরে বিভিন্ন খাদ্যগুদামে বস্তা সরবরাহ দিতে গেলে অসংখ্য খাদ্য গুদাম কর্র্র্তৃপক্ষ ব্যবহারের অযোগ্য ও নি¤œমাণের বস্তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে ডিপার্টমেন্টের সাথে ফিন্ড পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের নীরব শীতল যুদ্ধ চললেও চাকরির ভয়ে কেউ মুখ ফুটে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। 
অপর এক অভিযোগে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রেনু শিপিংয়ের প্রভাব ব্যবহার করে মনিরুজ্জামান খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) পদে নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছেন। দায়িত্বকালে তিনি ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেশে ও বিদেশে তার ফ্ল্যাট ও প্ল­ট রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লে­খ করা হয়। 
বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত ১৬ বছর তিনি রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। সে সময় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। আর সেই সূত্রে ধরেই রেনু শিপিংয়ের সঙ্গে পরিচালক মনিরুজ্জামানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। 
অভিযোগে বলা হয়, ঢাকায় বদলির পর তিনি রেনু শিপিংকে সুবিধা দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া প্রভাব প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। এর ফলে অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেতে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য গত সপ্তাহে দুই দিন পরিচালক মনিরুজ্জামানের দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে না পাওয়ায় মতামত নেওয়া স¤ম্ভব হয়নি। 
এছাড়াও খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সরবরাহ বন্টন ও বিপনন বিভাগের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান, প্রশাসন শাখার পরিচালক রেজা মোহাম্মদ মহসিন ও নির্মাণ রক্ষণাবেক্ষণ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে বহুমূখী অনিয়ম দুর্নীতি আর জাল-জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।  (ক্রমশঃ) 



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
গণপূর্ত ডি. প্রকৌশলী মিজান ও আনুর পেটে আশুলিয়ায় অধিগ্রহণের শ

গণপূর্ত ডি. প্রকৌশলী মিজান ও আনুর পেটে আশুলিয়ায় অধিগ্রহণের শ