ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সার নিয়ে কৃষক দিশেহারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 21, 2026 ইং
সার নিয়ে  কৃষক দিশেহারা ছবির ক্যাপশন:
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক:

আমন চাষে চাহিদা মতো সার পাওয়া নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় দেশের কৃষকরা। এখন কৃষকদের আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময় হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার নেই। কারণ ডিলারের দোকানে সরকারি ভর্তুকির সার মিলছে না। তবে খুচরা দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এ অবস্থায় কৃষকরা সারের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে এক দোকান থেকে আরেক দোকান। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি বেশি প্রকট। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছে বেশি দামে। সার নিয়ে এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি আমন উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ২২ টাকা দরে ১ হাজার ১০০ টাকা হবে ৫০ কেজির এক বস্তার দাম। আর টিএসপির কেজি ২৭ টাকা দরে বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপির কেজি ২১ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি সারের কেজি ২০ টাকা দরে প্রতি বস্তা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে খুচরা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিন্তু। তাতে একেক বস্তা সারে কৃষককে সরকারি দামের তুলনায় ৩৫০-৪৫০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। আর ডিএপির ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। ফলে প্রতি বস্তায় কৃষকের ৫৫০-৬৫০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে দাঁড়াবে। তার মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২২ হাজার, টিএসপি ৯ লাখ ১ হাজার ৫০০, ডিএপি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০, এমওপি ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। তাছাড়া এনপিকেএস (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও সালফারের সুষম সার), জিপসাম, জিংক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, বোরন ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের চাহিদা ৯ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টন ধরা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে মোট সারের মজুদ ১৬ লাখ টনেরও কিছু বেশি। কিন্তু সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি আমন চাষে কৃষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ সময়মতো সার না পেলে ব্যাহত হতে পারে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। তাছাড়া উৎপাদন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি আমন উৎপাদনে সার বেশি দাম কিনলে কৃষকের ব্যয় বাড়বে। তাতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ে। তখন দেশে খাদ্যের আমদানি নির্ভরতাও বাড়বে।

সূত্র আরো জানায়, দেশে আমনের পরই শীতকালীন সবজির মৌসুম আসবে। তখন দেশে প্রচুর সবজি চাষ হয়। কিন্তু সারের সংকট থাকলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। তাতে বেড়ে যাবে সবজির দামও। সেজন্য এখনই পরবর্তী মৌসুমের জন্যও পরিকল্পনা করা জরুরি। পাশাপাশি সংকট কমাতে সারের দেশীয় উৎপাদনের দিকেও নজর দিতে হবে। চলতি মৌসুমে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬২ হেক্টর নির্ধারণ করেছে। বিপরীতে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০ লাখ ৫৭৬ টন ধরা হয়েছে। ফলে সময় চাহিদামতো সার না পেলে লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হবে না। দেশে এখন কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। বর্ষার পানি ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ সময় ধান রোপণ ও পরিচর্যার কাজ চলে। ধানের কুশি বৃদ্ধি, গাছের স্বাভাবিক বিকাশ এবং ফলন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে সুষম মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হয়। ফলে এখন সার পেলে তার সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায় না। বরং সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু উৎপাদন খরচই বাড়বে না, ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সারের সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগে অতিসম্প্রতি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কৃষকরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।

এদিকে দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, সার নেই অভিযোগ আসছে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসন যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে বিতরণ করার পরও অতিরিক্ত সার থাকছে। বরং ক্রেতা নেই। কোনো কোনো জেলায় আগের বছরের তুলনায় আমরা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারপরও সার না থাকার অভিযোগ আসছে। এ নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এদেশ বেশি ভর্তুকি দেই। সেজন্য ওসব দেশের তুলনায় এখানে দাম কম। তবে সার পাচার হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তারপরও বিজিবিকে সীমান্তে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, দলিল দেখার আহ্বান নজরুলের

জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, দলিল দেখার আহ্বান নজরুলের