ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাাম উত্তর বন বিভাগে অফিস সহকারী মিজানের অপরাধ সাম্রাজ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 27, 2026 ইং
চট্টগ্রাাম উত্তর বন বিভাগে অফিস সহকারী মিজানের অপরাধ সাম্রাজ্য ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অফিস সহকারী মিজানের একক অপরাধ সাম্রাজ্য বদলি বাণিজ্য, ভুয়া পারমিট ও স’মিল লাইসেন্সে কোটি কোটি টাকা লোপাট
ad728
নিজস্ব প্রতিনিধি:
 চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে চরম দুর্নীতির আখড়া গড়ে তুলেছেন অফিস সহকারী খান মিজানুল রহমান মিজান। তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য ও সীমাহীন অনিয়মের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগ মতে. ভূয়া জোত পারমিট ইস্যু, বদলি বাণিজ্য, ভূয়া স’মিলের লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকায় কিনেছেন দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একই স্থানে কর্মরত মিজান সপ্তাহে মাত্র কয়েকদিন নামকাওয়াস্তে অফিস করেন। প্রতি সপ্তাহের রবি বা সোমবার ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে এসে অফিসে যোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার মধ্যেই একইভাবে আবার ঢাকায় ফিরে যান। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে যখনই কোনো নতুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আসেন, মিজান তাকে ভুল বুঁঝিয়ে বিবিধ প্রলোভন দেখিয়ে বা বিভিন্ন কৌশলে কুক্ষিগত করে ফেলেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তার স্ত্রীর ভাই ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফজলুর হক লাভলুর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি ডিএফওদের সবসময় ভীতি ও চাপের মধ্যে রাখেন। ফলে তার ইচ্ছার বাইরে ডিএফওদের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। 
অপরদিকে, বিভাগীয় দপ্তরের পুরো বদলি বাণিজ্যই চলে মিজানের একক ছত্রচ্ছায়ায়। বদলি কমিটির সুপারিশ ও ডিএফও’র স্বাক্ষর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি আদেশ জারি হলেও মিজানকে মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে সেই আদেশ আটকে যায় বা ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা হয়। এমনকি দাবি করা মোটা অংকের ঘুষের টাকা না দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাগ্যে জোটে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শাস্তিমূলক পোস্টিং। এই পোস্টিং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মিজানের নিজস্ব রেটকার্ড রয়েছে; যেমন চেক স্টেশনে পোস্টিং পেতে তাকে দিতে হয় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, আর রেঞ্জ ও বিটের ধরন অনুযায়ী দিতে হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফরেস্ট গার্ড অভিযোগ করেছেন, কাক্সিক্ষত স্থানে বদলির কথা বলে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েও কাজ করে দেননি, এমনকি সেই টাকাও আর ফেরত দেননি মিজান।
মিজানের দুর্নীতির হাত বিস্তৃত কাঠ পাচার ও ভূয়া পারমিট বাণিজ্যেও। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে ইস্যু হওয়া ভূয়া জোত পারমিটের সকল কাগজপত্র ও ছাড়পত্র একহাতে নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। প্রাথমিক তদন্ত, খাড়া মার্কা, পাশ মার্কা এবং ট্রানজিট পাস (টিপি) ইস্যুর অনুমতি প্রদানের বিনিময়ে তিনি কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘণফুট প্রতি বাধ্যতামূলক ১০ টাকা বা ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়েও বেশি হারে কমিশন আদায় করেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মিজানের হাত ধরেই অনুমোদন পায় এসব ভূয়া জোত পারমিট। 
এছাড়া করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২-এর স্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে চালিত হচ্ছে মিজানের ঘুষের কারখানা। বিধিমালার ৬ নম্বর ধারার ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী স’মিলের লাইসেন্সের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস অতিবাহিত হলে নির্ধারিত জরিমানা সাপেক্ষে নবায়ন করার কথা থাকলেও মিজান সেটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। ২ থেকে ৪ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া স’মিলের লাইসেন্সও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নবায়ন করে দিচ্ছেন তিনি।
এজন্য ক্ষেত্রবিশেষে রেঞ্জ কর্মকর্তাদের বাধ্য করেন, আবার কখনো নিজেই ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে কিংবা ডিএফওকে বিভ্রান্ত করে সই করিয়ে নেন। এমনকি নতুন স’মিলের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেও মিজানকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। মিজানুল রহমানের এই লাগামহীন প্রশাসনিক দাপট ও আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বন বিভাগের ভূক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। (ক্রমশ:) 



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী