ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বসুন্ধরায় বিডিএসএম’র নামে বিকৃত যৌনাচার: দুই নারী গ্রেফতার: নেপথ্যে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 14, 2026 ইং
বসুন্ধরায় বিডিএসএম’র নামে বিকৃত যৌনাচার: দুই নারী গ্রেফতার: নেপথ্যে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিমা স্টাইলের বিকৃত যৌনাচার বিডিএসএম এখন বাংলাদেশে। দেশে বিভিন্ন স্পা বিউটি কেয়ার ও ফিটসেন জিমের নামে এ ধরণের বিকৃত যৌনকেন্দ্র চালু রয়েছে বহু আগে থেকে। এ ধরণের সেন্টারগুলো নিয়ে চলছে এক ধরণের অপরাধ সা¤্রাজ্য। রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় 'বিডিএসএম' চর্চার আড়ালে বিকৃত যৌনাচার এবং পুরুষদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত বুধবার দিবাগত রাতে ভাটারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করেছে।

বিডিএসএম হচ্ছে যৌন মিলনের সময় বিপরীত লিঙ্গ বা পার্টনারকে শারীরিক বা মানসিক কষ্ট দিয়ে চরম সুখ লাভ করা। পশ্চিমা দেশগুলোতে এটা নতুন কিছু নয়। বিডিএসএম শব্দটি যৌনতাকে বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে আধিপত্য, বশ্যতা এবং নিয়ন্ত্রণ জড়িত। এই সেক্স করার সময় সাধারণত একজন সঙ্গী যৌনতার সময় খুবই শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করে, অন্যদিকে অন্যজন আরও বশ্যতা স্বীকার করে-

বিডিএসএম-এর মূল উপাদানসমূহ:

Bondage & Discipline (বন্ধন ও শৃঙ্খলা)): সঙ্গীকে বেঁধে রাখা বা সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চলা

Dominance & Submission (আধিপত্য ও বশ্যতা): একজনের নিয়ন্ত্রণে অন্যজন থাকা

Sadism & Masochism (পীড়ন ও বশ্যতা): শারীরিক কষ্ট বা যন্ত্রণা থেকে যৌন আনন্দ লাভ করা

 

ঘটনার সূত্রপাত

সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়. একটি বদ্ধ ঘরে দুই নারী মিলে এক পুরুষকে চাবুক দিয়ে আঘাত করছেন এবং অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এর পরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।

পুলিশি অভিযান ও উদ্ধার

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটারা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। অভিযানে ভিডিওতে থাকা সেই দুই নারীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে:

 * নির্যাতনে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের চামড়ার চাবুক।

 * বিডিএসএম কর্মকান্ডে ব্যবহৃত অদ্ভুত সব পোশাক ও সরঞ্জাম।

 * ভারী বুট ও হাই-হিল জুতা, যা দিয়ে ভুক্তভোগীদের আঘাত করা হতো।

 * যৌন উত্তেজক বিভিন্ন সামগ্রী।

পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নারীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এই চক্রের কাজের ধরন ছিল নিম্নরূপ:

১. অনলাইন ফাঁদ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ও গ্রুপ ব্যবহার করে উচ্চবিত্ত পুরুষদের টার্গেট করা হতো।

২. বিডিএসএম-এর আড়াল: পাশ্চাত্যের বিকৃত সংস্কৃতি 'বিডিএসএম'-এর নামে তাদের এই ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানানো হতো।

৩. ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল: তথাকথিত এই চর্চার আড়ালে সুকৌশলে গোপণ ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত এই চক্র।

৪. শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন: অনেক ক্ষেত্রে সম্মতির বাইরেও অতিরিক্ত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো, যা মূলত অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পর্যায়ে পড়ে।

আইনি পদক্ষেপ

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, "আটককৃতদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং তারা কতজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।"

রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে এমন অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ৩০ এপ্রিল ২০২৫ সালের হলেও ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হয়।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা

একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা