ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আত্মপ্রকাশ করলো জাতীয় ছাত্রমঞ্চ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
আত্মপ্রকাশ করলো জাতীয় ছাত্রমঞ্চ ছবির ক্যাপশন: ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ।
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার দাবিতে নতুন একটি ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। “জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)”–এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে “জাতীয় ছাত্রমঞ্চ” নামে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম জাতীয় ছাত্রমঞ্চের ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। এ সময় সংগঠনটির নেতারা জানান, প্রজ্ঞা, সংগ্রাম ও সমৃদ্ধির মূলনীতি ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ। তারা বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক গণতন্ত্রের আদর্শ বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করবে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ।

জাতীয় ছাত্রমঞ্চের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৫ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ শিক্ষার্থীদের সকল লড়াই-সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপদ, শিক্ষার্থীবান্ধব, উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করাই জাতীয় ছাত্রমঞ্চের লক্ষ্য।” সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অনিয়ম, অদক্ষতা ও নীতিহীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। এ অবস্থায় জাতীয় ছাত্রমঞ্চ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস, জেন্ডার-সেফ শিক্ষাঙ্গন, বেসরকারি শিক্ষায় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সরকারি বৃত্তি, গবেষণা সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ।

সংগঠনটির নেতারা জানান, তারা বাংলাদেশপন্থা, সংস্কারপন্থা ও সামাজিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাদের লক্ষ্য একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা দেশের উন্নয়ন ও প্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ছাত্ররাজনীতি হবে জ্ঞান, যুক্তি, সংস্কৃতি ও সেবাভিত্তিক। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম ও পদবিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জামাল সায়েম, আহ্বায়ক হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি পাটোয়ারী, সদস্য সচিব হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহনাফ আতিফ, প্রধান সংগঠক হিসেবে ঢাকা কলেজের সালমান শরীফ এবং মুখপাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাহসিন নাভিদ নির্ণয়ের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জিহাদ আরাফাত ও জহির উদ্দীন বাবর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে সৈয়দ মাশরুর জিসান ও আফিফা আরনাজ এলমু এবং যুগ্ম প্রধান সংগঠক হিসেবে মোঃ নাঈম হোসেন ও আঞ্জুমান আরা স্বপ্নার নামও ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এই ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। 




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ