আসাদ মাহমুদ ও জয়নাল আবেদীন যশোরী: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ৫নং বিভাগের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ঠিকাদারী ব্যবসা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তারা নামে-বেনামে লাইসেন্স নিয়ে এবং বিভিন্ন ঠিকাদারের লাইসেন্স ভাড়ায় নিয়ে এই ধরণের অনৈতিক ব্যবসায় জড়িত আছেন বলে জানা গেছে। সরকারি কর্মচারী রুল অব বিজনেস ও কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মকর্ত বা কর্মচারী বা তাদের কোন নিকটাত্মীয় টেন্ডার সংশ্লিষ্ট কোন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবেন না। কেউ গোপণে বা অন্য কোন উপায়ে এই ধরণের অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলে সাময়িক সাসপেন্ডসহ বিভিন্ন ধরণের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে ওই আইন ও বিধিমালায়। কিন্তু ই/এম ৫ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সে আইন ও বিধিমালাকে বৃদ্ধাাঙ্গুলি দেখিয়ে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারী ব্যবসা করে সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নিয়ে আঙ্গুল ফলে কলা গাছ কেউবা আবার বটগাছে পরিণত হচ্ছেন। সরকারি সম্পদের রক্ষক হয়েও তারা একে অপরের যোগসাজশে ভক্ষকের ভূমিকায়। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
আরও পড়তে পারেন: বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে গণপূর্ত ইএম-৫ এর ইজিপি ও আইবাস আইডি!
নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেন ছাড়াও অভিযুক্ত ওই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) রাজিয়া সুলতানা ও সবুজ কুমার স্যানাল, উপসহকারী প্রকৌশলী সৌমেন মল্লিক, আবু সায়েম চৌধুরী আব্দুল হান্নানসহ কতিপয় সেকশন কর্মকর্তা (উপসহকারী প্রকৌশলী), অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলীর পিওন আনোয়ার, আরিফ ও হারুন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসডিই রাজিয়া সুলতানা প্রায় ৫বছর যাবৎ একই চেয়ারে আছেন। আরেক এসডিই সবুজ কুমার স্যানাল আছেন প্রায় ৪ বছর। তারা দু’জনেই স্বৈরাচার আ’লীগ সরকারের আমলে ঘুরেফিরে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর দায়িত্বে ছিলেন। আ’লীগ ও ছাত্রলীগ যুবলীগের প্রভাবে তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করতেন সে সময়ে। কোন সাধারণ ঠিকাদার তাদের অধীনে কাজ (এপিপির কাজ) পেলে ওই ঠিকাদারকে ডেকে এনে বলতো কাজ হয়ে গেছে। আপনি শুধু হিসাব করে টাকা দিয়ে যান, বিল যথাসময়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে চলে যাবে। তারা কাজ উঠানো বাবদ চুৃক্তিমূল্যের ৪০%, কোন কোন ক্ষেত্রে ৪৫% বা এর চেয়েও বেশী এবং উপসহকারী প্রকৌশলী (সেকশন কর্মকর্তা) ও এসডিই’র পার্সেন্টেজ বাবদ (৫% করে ১০%) হিসাব করে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ৫০% ক্ষেত্র বিশেষ ৫৫% বা এর চেয়েও বেশী নগদ অর্থ আদায় করেন তারা। সংশ্লিষ্ট কাজের সাইটে কাজ করানোর নামে নিজেদের মিস্ত্রি হেলপারদের মাধ্যমে সামান্য কাজ করিয়ে বা কিছু ইলেকট্রিক্যাল মালামাল কিনে বাদবাকি অর্থ নিজেদের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ-বাটোয়ারা করে আসছেন বছরের পর বছর। ই/এম ডিভিশনগুলোর বেশীরভাগ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে এভাবে। চাকরিতে পদ ও পদবীকে ব্যহার করে এভাবে ধারাবাহিক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অভিযুক্ত ২ এসডিই চাকরির সল্প ব্যবধানে ঢাকায় বিলাশবহুল এপার্টমেন্টসহ নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসডিই রাজিয়া সূলতানার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ। বহুরূপী এই কর্মকর্তা পদ পদবীকে নিজের সুবিধামতো ব্্যবহার করে বিভিন্ন সময় নিজস্বার্থ হাসিলে ঝোঁপ বুঝে কোপ মেরে বিভিন্ন ব্যক্তির ‘সুলতানা’য় পরিণত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। আ’লীগ সরকারের শেষ চার বছর থেকে বর্তমান পর্যন্ত তিনি সাবডিভিশনটিকে লুটপাট ও বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসার সালতানাতে পরিণত করেছেন। টাকা পেলে তিনি যে কোন কাজ করতে পারেন বলে অভিযোগ করেছেন কতিপয় শোষিত বঞ্চিত কর্মকর্তা। তিনি কারণে-অকারণে নির্বাহী প্রকৌশলী রুমে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা খোসগল্পে মেতে থাকার কারণে সাক্ষাত প্রত্যাশী ঠিকাদারগণ নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে দেখা করে নিজেদের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন নধরণের মুখরোক আলোচনা-সমালোচনা চ্উার হয়ে উঠেছে ঠিকাদারদের মধ্যে।
আরও পড়তে পারেন: তামজীদের গ্রাসে গণপূর্ত ই/এম-৫
অপরদিকে ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর পিওন আনোয়ার হোসেন প্রায় ১০ বছর যাবৎ আছেন একই দায়িত্বে। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলামের আপন ভাই হিসাবে পরিচয় দেন। ওই পরিচয়ে ডিভিশনের বিভিন্ন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরে প্রভাব বিস্তার করে নিজের সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নেন তিনি। আনোয়ার রফিকের ঠিকাদারী লাইসেন্সসহ বিভিন্ন লাইসেন্সে গত ১০বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। ডিভিশনের অপর দুই পিওন আরিফ ও হারুনও একই প্রক্রিয়ায় নামে-বেনামে ঠিকাদারীর নামে সরকারি বরাদ্দ লোপাট করছে ঊর্দ্ধতনদের যোগসাজশে।
শুধু তাই নয়, ডিভিশনের হিসাব সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন একই চেয়ারে আছেন প্রায় ১৭ বছর যাবৎ। ঠিকাদারের বিলের কপি এই কর্মচারীর কাছে গেলে বিল চেক করার নামে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কয়েক হাজার টাকা দেওয়া ছাড়াও সেকশনের ঊর্দ্ধতনদের যোগসাজশে চুক্তিমূল্যের ২% আদায় করেন চেক দেওয়ার নাম করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আছে বিভিন্ন ধরণের গুরুতর অভিযোগ।
বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের সাথে তার অফিসে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান এ সকল অভিযোগ সবই ভিত্তিহীন ও মিথ্য। (ক্রমশঃ)