নিজস্ব প্রতিবেদক:
আদালতের নির্দেশ মানছেন না চট্টগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জিতু। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে তফসিলভুক্ত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে হরদম নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মহামান্য হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকলেও সে আদেশ অমান্য করেই ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়া এক প্রকার আদালত অবমাননার শামিল। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
জানা যায়, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩নং রোডের ১২/বি-২ হোল্ডিংয়ের তপশীলভূক্ত সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় থাকায় অবমুক্ত করার লক্ষ্যে ২য় কোর্ট অব সেটেলমেন্ট ১/২০০৯ নতুন ১৪৪/৮৭ পুরাতন মামলা দায়ের করলে ১৭ মে ২০১৮ তারিখে আলী আকবর আনসারীর নামে মামলার রায় প্রদান করেন। আলী আকবর আনসারী গত ১০ ফেব্রুুয়ারী ২০১৮ তারিখে মারা গেলে উনার পুত্র কাউসার রেজা আনসারী ওয়ারিশ সূত্রে বৈধ মালিক হন।
পরবর্তীতে আলী আকবর আনসারীর ওয়ারিশগণ সম্পত্তিটি ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলা নং- ৭৭৮৯/২০২১ দায়ের করলে আদালত বিগত ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে আদেশে রুল জারি করেন এবং দখল ও হস্তান্তরের উপর স্থিতাবস্থার আদেশ প্রদান করেন। বিগত ১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলা নং-৭৭৮৯/২০২১ মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বহাল থাকার আদেশ প্রদান করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে তপশীলভূক্ত সম্পত্তিতে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষনের সাইনবোর্ড দিয়ে আদালতের আদেশ অবমাননা করে স্থাপনার কাজ করে যাচ্ছে। আদালতের আদেশ সম্পর্কে জানার পরেও হাইকোর্টের আদেশ অবমাননা করে গণপূর্তের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ নির্মাণ কাজ চলমান রাখে।
পরে ভূক্তভোগীরা সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কনটেম্পট পিটিশন মামলা নং- ২৯১/২০২৫ দায়ের করলে হাইকোর্ট বিভাগ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশে বিগত ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখের আদেশ অবমাননার ফলে মামলা রুজু না হওয়ার কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করে একটি রুল জারি করে।
অতঃপর উক্ত কনটেম্পট পিটিশন মামলা নং ২৯১/২০২৫ এর অনুকূলে বিগত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখের আদেশে বিগত ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখের আদেশ অবমাননাকারী হিসাবে প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তর ও নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষনকে পক্ষভুক্ত করার ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের সচিবকে স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত বর্তমান অবস্থা ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপস্থিত হয়ে অবহিত করার নির্দেশ প্রদান করেন মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
এ বিষয়ে ভূক্তভোগী কাউসার রেজা আনসারী গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকার্টের আদেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ। এ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছি।

এলটিএম জালিয়অতির একটি নমুনা। এই টেন্ডার আইডিতে ২৯টি কওে সিডিউল বিক্রয় ও জমা হলেও রেসপন্স বা লটারি করা হয়েছে ১টিতে। বাকিগুলোকে রেসপনআস বলে গণ্য করা হয়নি।
এছাড়াও ৩২তম বিসিএস’এ নিয়োগপ্রাপ্ত এই গণপূর্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বিবিধ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। চাকরির সল্প সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীরর অভিযাত এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মুল্যের দুটি স্টুডিও এপার্টমেন্টসহ নিজজেলা ফেনীতে নামে-বেনামে অগাধ ভূ-সম্পদের মালিক হয়েছেন এই প্রকৌশলী। এ বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তীতে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জিতু সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ ডিভিশনটির দায়িত্বে এসে ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পে নি¤œমাণের কাজ করানোসহ ব্যাপক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা করছেন। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঢাকার প্রতিষ্ঠান বাবার এসোসিয়েটস্, পঞ্চগরের প্রতিষ্ঠান মেসার্স শেখ ট্রেডার্স, কুষ্টিয়ার গ্যালাক্সি এসোসিয়েটস্ এর নামে কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি আ’লীগ ও সমমনা ঠিকাদারদের আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে স্বৈরাচার পূণঃ বাসনের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এলটিএম টেন্ডারে জালিয়াতি করেও তিনি মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অসংখ্য অভিযোগ আছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জিতুর মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তার কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। (ক্রমশঃ)