ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সরকারের বিরুদ্ধে গ্যাস ষড়যন্ত্রে তিতাস এমডি!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 ইং
সরকারের বিরুদ্ধে গ্যাস ষড়যন্ত্রে তিতাস এমডি! ছবির ক্যাপশন: গ্যাসের চাবি ফ্যাসিস্ট শাহনেওয়াজ পারভেজের হাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত হয়, কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয় না॥ তিতাসে ঘুষ বাণিজ্য
ad728
বিশেষ প্রতিবেদক:
সরকার তথা দেশের বিরুদ্ধে গ্যাস নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতেছেন জ¦ালানী খাতের ফ্যাসিষ্ট সরকারের রেখে যাওয়া প্রেতাত্মারা। এই চলমান গ্যাস ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিতাস গ্যাসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচলক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ। পাশ^বর্তী দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসাবে কাজ করা এই জ¦ালানি কর্মকর্তা আওয়ামী সরকারের বিদ্যুৎ জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ভাগিনা। তিনি প্রেট্টোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকারের একান্ত আস্থাভাজন হিসাবে ভারতের নীলনকশায় দেশের জ¦ালানী খাতকে ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত ছিলেন আওয়ামী সরকারের পুরোটা সময়। জ¦ালানী খাতের অন্যতম বিশেষ অঙ্গ গ্যাস সেক্টরকে গলা টিপে হত্যার উদ্দেশে জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে তিতাস গ্যাস কোম্পানীতে এমডির আসনে বসিয়ে শেষ পেরেক ঢুকিয়ে দেয় গ্যাসখাতের হৃদপিন্ডে। শাহনেওয়াজ পারভেজ এমডি হিসাবে দায়িত্বে নেওয়ার পর পরই ব্যাপক পোষ্টিং বাণিজ্য, দুর্নীতিবাজ গ্যাসচোরা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে বসানো, গোপণে নিয়োগ বাণিজ্য, লোড বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোড বৃদ্ধির নামে কোটি কোটি টাকার ঘুষ আদায়, কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন শিল্প সংযোগ, আওয়ামী সমর্থক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফিরিয়ে আনা, ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধে সময় বৃদ্ধিসহ বিবিধ অনিয়ম দুর্নীতির লাগাতার অভিযোগ উঠে আসছে তার বিরুদ্ধে।      
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রশাসনে কর্মরত ফ্যাসিস্ট আ’লীগের অলিগার্করা গ্যাস-বিদ্যুৎ এবং কৃতিমভাবে সার সংকটের সৃষ্টি করছেন। তিতাসে  সেই সংকটকে মোক্ষম সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে গ্যাস বিতরণে ঘুষ বাণিজ্যের শীর্ষৈ অবস্থান করছেন শাহনেওয়াজ পারভেজ নামের এই আওয়ামী চেতনার আমলা। ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্রলীগ ও আ’লীগ নেতা বর্তমান তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বসে শাহনেওয়াজ পারভেজ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ‘তিতাস গ্যাস’ অফিসকে ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। মূলতঃ তিনি তিতাসের পূর্বের এমডি হারুনুর রশীদ মোল্লার পদাংক অনুসরন করে অনিয়ম-দুর্নীতিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে তিতাস গ্যাসকে বকেয়ার সাগরে ডুৃবিয়েছেন।
কয়েকদফা তদন্ত হলেও ধরাছোয়ার বাইরে শাহনেওয়াজ: পদে বসেই বিএনপি এবং সরকারের বিরুদ্ধে গ্যাস নিয়ে নিত্য নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন এই এমডি। তার বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করা হলেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এর আগে বৈষম্য-বিরোধী পেট্রোবাংলা ও কোম্পানির কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পক্ষে অভিযোগ করা হয়। তিতাসের এমডি হিসেবে শাহনেওয়াজ পারভেজ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানকে গ্যাসের নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি করে অবৈধভাবে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই টাকার বেশিরভাগ আসতো সাভার-গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে। ওই এলাকায় কল-কারখানা বেশি থাকায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রদান, নিয়ম বহির্ভূতভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, লোড বৃদ্ধির নামে এসব টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি। শুধু লোড বৃদ্ধির জন্যই ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা নিত এমডির নিয়োজিত সিন্ডিকেট। এছাড়াও প্রায় ১৫শ’ অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আদায় করা হতো। গাজীপুরে এর মূল ভূমিকা পালন করতেন শাহনেওয়াজ পারভেজ। এর আগে অনেক বার জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু পরে কি কারণে প্রকাশ করা হচ্ছে না তা বলতে পারেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
দেশের দৈনিক প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘণফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে ২,১১৪ থেকে ২,১৫১ মিলিয়ন ঘণফুটে। এই ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংও দেখা যাচ্ছে। এই আকস্মিক গ্যাস সংকটের নেপথ্যে কোনো একক কারণ না থাকলেও দুর্নীতিবাজ এমডি সিন্ডিকেটের বেপরোয়া অনিয়ম লাগাতার দুর্নীতি ও লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্যই এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন শোষিত বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
 এমডি হিসাবে তিতাসে যোগদানে বাঁধা ও ভাংচুর: ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জিটিসিএল এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজকে তিতাস গ্যাসের এমডি হিসেবে আদেশ জারি করে। কিন্তু গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজকে তিতাস গ্যাসের এমডি পদে যোগদান করতে বাঁধা দিয়েছিল তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শাহনেওয়াজ যাতে তিতাসে যোগ দিতে না পারে, সেজন্য পরের সপ্তাহেই পেট্টোবাংলা সদর দপ্তরে ভাংচুর চালায় তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশ। এ নিয়ে দফায় দফায় মিটিংয়ে বসে পেট্টোবাংলা কর্তৃপক্ষ। তিতাস গ্যাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে গোপণ চুক্তি করে এমডি হিসাবে যোগ দেন এই জ¦ালানী মাফিয়া শাহনেওয়াজ পারভেজ। তিতাস গ্যাস দুর্নীতিবাজদের আস্থার প্রতিদানর সরূপ এর পর প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিজের আর্থিক খায়েস পূরণ করতে গিয়ে গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি তিনি। তবে বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলতে এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল বিভিন্ন অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। তার তদন্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আমি জানি না।
গ্যাস সংকটে রাজধানীতে জলছে না রান্নার চুলাঃ জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গত ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস (পেট্রোবাংলা ও আইওসি মিলিয়ে) থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘণফুটে পৌঁছেছিল। সেটা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘণফুটে এসে ঠেকেছে। এটা পেট্রোবাংলার অনেক বড় একটা ব্যর্থতা। তিতাসের আওতাভূক্ত এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ঘণফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরবরাহ ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) ঘণফুটের নিচে নেমে গেছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ঘণফুটের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তিতাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকায় এর প্রভাব বেশি পড়েছে। কারণ রাজধানীটি তাদের সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি ও ঢাকার অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, গত কয়েক দিন ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস থাকছে না বা থাকলেও চাপ অত্যন্ত কম। ফলে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে বা বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তিতাস জানিয়েছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় পাইপলাইনের ছিদ্র বা ফাটল দিয়ে পানি ভেতরে ঢুকে পড়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে। দুর্নীতিবাজ শাহনেওয়াজ পারভেজকে তিতাস গ্যাস-এর এমডি পদ হতে অপসারণ এবং বাধ্যতামূলক অবসরে প্রেরণ। 
 লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরিতে শাহনেওয়াজ পারভেজ: তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ গত ১৯৯৯ সালে ছাত্রলীগ ও আ’লীগ এর প্রভাব খাটিয়ে কোনো রকম লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই পেট্রোবাংলায় প্রথম শ্রেণির চাকরিতে অবৈধভাবে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অথচ পেট্রোবাংলায় একই সময়ে অন্য কর্মকর্তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হয়। 
অবৈধ ডিগ্রিতে সহকারী প্রকৌশলী: চাকরি বিধিতে সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকার আবশ্যকতা থাকলেও শাহনেওয়াজ পারভেজ ভারত হতে ৩ বছরের বিটেক ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন। এটি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সমতুল্য নয় এবং পুরোপুরি পেট্রোবাংলার চাকরিবিধির (প্রবিধান ২(ছ)) তফসিল অংশের ক্রমিক নং ১৮ এর কারিগরি পদ-এ সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা কলামে বর্ণিত শর্তের পরিপন্থি। তার নিয়োগ পুরোপরি অবৈধ। 
শিক্ষায় দীর্ঘ গ্যাপ দিয়ে ভারতের কথিত বিটেক ডিগ্রি নিয়ে চাকরিতে শাহনেওয়াজ: শাহনেওয়াজ পারভেজ ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাসের পর ৩ বছরের বিটেক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ১৯৯৭ সালে। এইচএসসি পাসের ৯ বছর পর ভারত হতে ৩ বছরের বিটেক ডিগ্রি অর্জন সন্দেহজনক! সরকারি ১ম শ্রেণির চাকরিতে যোগদানের পূর্বে বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে ইক্যুইভেলেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণের আবশ্যকতা থাকলেও তিনি তা করেননি। তিনি আওয়ামী সরকারের দাপট দেখিয়ে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরিতে যোগদান করেন। 
দীর্ঘ ২৩ বছর পেট্টোবাংলার কন্ট্রাক্ট বিভাগে থেকে জfলানী খাতকে ভারতের হাতে সপে দিয়েছেন:  শাহনেওয়াজ পারভেজ গত ১৯৯৯ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর শুধুমাত্র পেট্রোবাংলার কন্ট্রাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন, যা পুরোপুরি অবৈধ। কারণ একজন কর্মকর্তা ৩ বছরের বেশি সময় এক স্থানে কাজ করতে পারেন না। কিন্তু শাহনেওয়াজ পারভেজ তা করেছেন। কারণ এ বিভাগ হতে বিদেশি কোম্পানির সাথে সকল ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। তার মতো একজন অযোগ্য লোকের কারণে ভারত ছাড়া ভালো কোনো বিদেশি কোম্পানি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আসেনি। তার গ্যাস সঞ্চালন ও বিপণনের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার সিনিয়রিটি লংঘন করে তাকে প্রথমে জিটিসিএল-এ ও পরে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বসান, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। শাহনেওয়াজ পারভেজ পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার-এর একান্ত আস্থাভাজন একজন কর্মকর্তা, যা সংস্থার সকলেই জানে। জিটিসিএল-এর এমডি পদে বসে তিনি জনেন্দ্রনাথ সরকার-এর ভাগিনার নামে একটি সিপি কোম্পানি সেট বাংলা গঠন করে শত শত কোটি টাকার অবৈধভাবে কাজ প্রদান করেন এবং তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বসে জনেন্দ্রনাথ সরকার-এর সুপারিশে শত কোটি টাকার অবৈধ শিল্প সংযোগ প্রদান করে জনেন্দ্রনাথ সরকারকে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা কামিয়ে দেন এবং নিজেও গ্রহণ করেন। 
শাহনেওয়াজ পারভেজ পেট্রোবাংলার এক সময়ের ত্রাস কর্মকর্তা আইয়ুব খান চৌধুরীর একান্ত সহচর ছিলেন। শাহনেওয়াজ পারভেজ কন্ট্রাক এর জিএম থাকাকালীন গত ২০২২ সালে সাগরের জন্য অফশোর বিডিং রাউন্ডের জন্য মডেল তৈরি করেন। তিনি এমন কৌশলে তৈরি করেন, যেখানে প্রতি ঘণমিটার গ্যাসের দাম ধরা হয় মাত্র ৭ ডলার। অথচ পেট্রোবাংলা বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে ১৫ ডলারে। ৭টি বিদেশি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও কেউ জমা দেয়নি। এর পুরো দায় পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার এবং শাহনেওয়াজ পারভেজ এর। এর কারণ দু’জনেই ভারতের দালাল। শাহনেওয়াজ পারভেজের প্রত্যক্ষ মদদে ২০১৪ সালে সাগরের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ২টি ব্লক ংং-৪ ও ংং-৯ ভারতীয় কোম্পানিকে এককভাবে প্রদান করা হয়। বিডিং-এ অন্য কোনো দেশকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। এর ফলে পেট্রোবাংলাকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনুসন্ধান সময়ে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিধান থাকলেও এ পর্যন্ত ৩ ধাপে ৬ বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা পুরোপুরি অবৈধ। এ পর্যন্ত ব্লক ২টি হতে ভারত কোনো ফলাফল দেখাতে পারেনি। এটা ভারতের বাংলাদেশের সাগর দখলের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। এ কারণে কোনো বিদেশি কোম্পানি সাগরে তেল, গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এতে করে পেট্রোবাংলাকে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হয় আর পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে এর সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়, যা অবৈধ নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত। শাহনেওয়াজ পারভেজ ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ভাগ্নে হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তিতাস গ্যাসের এমডি পদে বহাল রয়েছেন।
আওয়ামী প্রভাবে বিনা ভোটে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে: আওয়ামী আমলে তিনি এতটাই ক্ষমতাধর ছিলেন যে, তিনি বিনা ভোটে ২০২৩ সালে পেট্রোবাংলার অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচিদ হয়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে টুঙ্গিপাড়া গিয়ে শেখ মুজিবের মাজারে ফুল দিয়ে আসেন। শাহনেওয়াজ পারভেজের কুকর্মে সহযোগিতা না করার কারণে ২ জন নবীন কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিরূপ মন্তব্য প্রদান করেন ও তাদের পদোন্নতি বাধাগ্রস্থ করেন। এমনকি বিভিন্ন প্রকার বিভাগীয় মামলা প্রদান করে হয়রানি করেন, যা পেট্রোবাংলার সকলে জানলেও ভয়ে কেউ কিছু করতে পারেনি। (ক্রমশ:) 



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন পূরণে জামায়াত প্র

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন পূরণে জামায়াত প্র